মীর মশাররফ হোসেনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সোহেল রানা :

1

‘জাতীয় শিক্ষানীতির অবস্থা ভালো নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রমিত বাংলা ব্যবহার করতে হবে। কালজ্বয়ী সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক ও বাহক। তার অমর সৃষ্টি মুসলিম বাংলা সাহিত্যকে অনেক দুর এগিয়ে নিয়ে যায়। শনিবার দিনব্যাপী রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রে বাংলা একাডেমীর আয়োজনে মীর মশাররফ হোসেনের ১৬৭ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক লোক বিজ্ঞানী ও বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় ‘মীর মশাররফ হোসেনঃ প্রজ্ঞা ও পরম্পরা’ বিষয়ক প্রবন্ধ পাঠ করেন, কথা সাহিত্যিক জাকির তালুকদার।
এ প্রবন্ধের শুরুতে তিনি বলেন, মীর মশাররফ হোসেনকে আমি শিক্ষক মনে করি। তিনি তদানিন্তন সময়ে মুসলিম সমাজের শিক্ষক হিসাবে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটিয়ে প্রমিত ভাষায় তিনি তার সাহিত্য কর্ম রচনা করেন। এ সাহিত্যকর্ম পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছিল।
আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজশাহী শাহ্ মখদুম কলেজের অবঃ অধ্যক্ষ অধ্যাপক তসিকুল ইসলাম রাজা, বালিয়াকান্দি কলেজের অবঃ অধ্যক্ষ ও মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য পরিষদের সভাপতি বিনয় কুমার চক্রবর্ত্তী, মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক ভবেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
স্বাগত বক্তব্য দেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং কৃতজ্ঞতার স্বীকার করেন, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান।
বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে বলেন, পদমদীতে পৃথক পৃথক বিষয়ের উপর বছরের ৪ টি ভিন্ন সময়ে সাহিত্যমোদীদের সমাগম ঘটাতে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। মীর মশাররফ হোসেন যেটা চেয়েছিলেন সে লক্ষে, বাংলা একাডেমী পদমদীতে সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় বা পর্যটন কেন্দ্র নয়, এ অঞ্চলে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বাংলা একাডেমী চিন্তা করছে।
উল্লেখ্য, মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলা লাহিনীপাড়া গ্রামের মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি তার কর্মজীবন অতিবাহিত করেন পদমদী নবাব স্টেটে। তিনি শহর কেন্দ্রিক ছিলেন না, মুসলমান সমাজের চৈতন্য ফেরাতে তিনি প্রমিত ভাষায় সাহিত্য রচনা করেন। এ সাহিত্য কর্মের মধ্যে ‘বিষাদ- সিন্ধ’ু তার অমর সৃষ্টি। ১৯১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে মৃত্যু বরন করেন। পদমদীতে তাকে সমাহিত করা হয়। অমর এ সাহিত্যিকের স্মরণে বাংলা একাডেমী নির্মাণ করেছে ‘মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র’।

(Visited 18 times, 1 visits today)