“৪০ ইঞ্চি” লম্বা দাড়ির অধিকারি গোয়ালন্দের দলু সাধু

লিটন চক্রবর্তী :

55titled-1

লম্বা দাড়ি রেখে গ্রীনিজ বুকে নাম লেখাতে চান রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বৃদ্ধ দলিল উদ্দিন ওরফে দলু সাধু। ৭৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তির দাড়ি রাখার সময়কাল হচ্ছে ২৪ থেকে ২৫ বছর। বর্তমানে দলু সাধুর দাড়ি ৪০ ইঞ্চি দীর্ঘ। বৃদ্ধ এই বাউল সাধকের চাওয়া তার এই দীর্ঘ দাড়ির তথ্য গ্রীনিজ বুকে যেন লিপিবদ্ধ হয়। তবে তার বিশ্বাস গ্রীনিজ বুকে না হলেও দেশের মধ্যে সে দীর্ঘ দাড়ি রাখার ক্ষেত্রে একটা অবস্থানে থাকবেন।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের জুরান মোল্লার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত শাহাজুদ্দিনের ছেলে দলু সাধুর পৈত্রিক পেশা ছিল এক সময় কাঠের ব্যবসা। তবে এখন তা করেন না। একমাত্র ছেলে মানিক হোসেন একজন প্রতিষ্ঠিত টেইলারিং ব্যবসায়ী। সংসারে তেমন অভাব নেই বলে তিনি বাউলগান ছাড়াও সাধুসঙ্গ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তার লালন গানে পাশাপাশি গানের মধ্যে অঙ্গভঙ্গি সকলের দৃষ্টি কারে। বাউল গানের পাগল লালন অনুরাগী দলু সাধু কখনো স্কুলে না গেলেও তিনি তাকে “প্রাকৃতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ পাস” বলে দাবী করেন। তবে তিনি এখনো “ছাত্র” বলে দাবী করেন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে দলু সাধু বাউল স¤্রাট লালন ফকিরকে অন্তরে ও বাহিরে লালন করে আসছেন বলেও জানিয়েছেন ।
দলু সাধু চিশতিয়া নিজামিয়া তরিকার অনুসারি বলে জানান। তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন, মানুষের দিন দিন অধপতন হচ্ছে। তবে তিনি এ ধারনার বিপরীতে। তার বক্তব্য দুনিয়ার মানুষ ক্রমেই ভাল হচ্ছে। লালন ফকিরের গানের বানী অনুসারে “মানুষকে ভজন করলে, মানুষকে ভাল বাসলে, নিজেই সোনার মানুষ হয়ে যায়”। তিনি সকলকেই সোনার মানুষ হবার আহবান জানান। তিনি মনে করেন, ইসলামের উদ্ধে কোন ধর্ম নেই। আর ইসলাম হচ্ছে সবচে বড় মানব ধর্ম। তবে তিনি এমন দিনের আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন, যেদিন মানুষের মধ্যে থাকবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি, থাকবে না কোন হানাহানি, রক্তপাত ও ভিক্ষাবৃত্তি। তিনি মনে করেন, মানুষ যদি সহজ ও সরলতার সাথে চলতে পারে তাহলে সৃষ্টিকর্তার সান্নিদ্ধ অবশ্যই পাওয়ার উপযোগী হবে। তাই তিনি প্রতিটি মানুষকে সরল হয়ে চলার আহবানও জানান। এতো বড় দাড়ি দীর্ঘ দিন ধরে কিভাবে সংরক্ষণ করছেন তিনি। এমন প্রশ্নের জবাবে দলু সাধু বলেন, দাড়িটা বেশির সময় পেচিয়ে রাখেন। তেমন কোন যতœ করেন না। এই দাড়ি আমাকে আল্লাহ দিয়েছেন, তিনিই তা রক্ষা করবেন।
তার ছেলে মানিক হোসেন বলেন, বাবার দাড়ি রাখার জন্য তিনি বিরক্ত নন। বরং তার খুব ভাল লাগে। বাবাকে তিনি প্রচন্ড ভাল বাসেন এবং তাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তার বাবার যে কোন কাজে তিনি সমর্থন করেন এবং পাশে থেকে সহায়তাও করেন। তার বাবা’র এতো দিনের রাখা দাড়ির জন্য দেশে বা বিদেশে সন্মানিত হোক এটাই তার ইচ্ছা।

(Visited 67 times, 1 visits today)