ধনী দেশগুলো ক্ষতি পুরণ দিতে বাধ্য

রুহুল আমিন বুলু :

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের মত দরিদ্র দেশগুলো কোনভাবেই দায়ী না হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব দরিদ্র দেশগুলোকেই বেশী বহন করতে হচ্ছে। যে কারণে বিশ্বব্যাপী দাবি উঠেছে যে জলবায়ু পরিবর্তন কার্যকর ভাবে মোকাবেলার জন্য ধনী দেশগুলো দায়ী। দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিগণিতদের প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রযুক্তির যোগান দিতে হবে।
ধনী দেশগুলোর ভোগ বিলাশের কারনে আমরা কেন ক্ষতিগ্রস্ত হবো,ক্ষতিগ্রস্ত দায় দায়িত্ব তাদেরকে নিতে হবে। শিল্প বিপ্লব সফল করার জন্য গত ২৫০ বছর ধরে মূলতঃ উন্নত বিশ্বের মানুষ যত কয়লা পুড়িয়েছে, জ¦ালানী ব্যবহার করেছে, সেই হারে গ্রীনহাউজ গ্যাস বাতাসে সঞ্চিত হয়েছে। সভ্যতার চাকা”ঘোরাতে এখন ও প্রচুর গ্রীন হাউস গ্যাস বাতাসে মিশছে। মানুষের বিলাসী জীবন-যাপনের জন্য পণ্য সেবা যোগান দিতে বিদ্যমান উৎপাদন ব্যবস্থাই অতিরিক্ত গ্রীন হাউস গ্যাস উদগিরণের প্রধান কারণ।সে কারনে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত তাপ ধরে রেখে পৃথিবীর গড় তাপমাত্র বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফরে এ গ্রহ ক্রমশঃ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর একটি। বিশ্বের যে কটি দেশে জনঘনত্ব একেবারে বিপদ জনক রকমের বেশী তার মধ্যে একটি বলা যায় সবচেয়ে ঝুকিপৃর্ন অবস্থানে থাকা দেশটি হচ্ছে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্বির কারনে বন্যা ,আকস্মিক বন্যা , জলাবদ্বতা, প্লাবন,নদীর ব্যাপক ভাঙ্গন, খরা ,অতিবৃষ্টি, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, ঘৃনিঝড় , শৈত্য ও তাপ প্রবাহ, ভুগর্ভস্থ পানি স্তর নিচে নেমে যা্েচ্ছ কৃষকের পানির চাহিদা পূরন হচ্ছে না । ফলে চাষাবাদের জন্য এবং লবনাক্ততার মাত্রাবেড়ে যাছে কৃষি হলে কৃষকের প্রান জলবায়ু প্রকুতিক বিপজয় ঘটছে। নদীর প্রবাহ ক্ষীণ হওয়া, ভুমি ধ্বস, রোগ জীবাণুর ব্যাপক বিস্তান, বিভিন্ন অজ্ঞাত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে মানুষও পশু পাখির মধ্যে। সহায়-সম্পদ ও বসতবাড়ীর ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি জীবন-জীবিকাসহ সার্বিক অর্থনীতির উপর মারাতœক অভিঘাত পড়ছে, দেশের ৭১ ভাগ দরিদ্র জনগোষ্টি বেশী ক্ষতিগ্রাস্ত সমুখিন দাড়িয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা বিশ্বের সবচেয়ে বেশী বিপন্ন ও ঝুকিপৃর্ণ দেশগুলের অন্যতম। বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান, নিচু জমি দুর্বল অবকাঠামো, মাত্রাধিক দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অধিক নির্ভরতার কারণে এ বিপন্নতা বহুগুণে বৃদ্বি পেয়েছে। খাদ্য সংকট কাজের অভাব,তাপ দাহ বৃদ্বি ফলে কৃষককেরা কৃষি কাজ করতে দমে দমে জিরাতে হয়।স্বাভাবিক ভাবে অসুস্ত হয়ে পড়ছে চিকিৎসার অর্থ না থাকার কারনে অকালে মরতে হচ্ছে। সংসারের কর্মক্ষম আয়ের লোকের অভাবে দারিদ্রগ্রস্ত হচ্ছে বেশী। একথা সত্য জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে কোনো দেশ রক্ষা পাবেনা আই পিসিসি প্রতিবেদনেও বাংলাদেশকে সবচেয়ে দুর্যোগ প্রবণ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছিল। উন্নত দেশ গুলোর ভোগ বিলাশের কারনে বাংলাদেশের মত দরিদ্র দেশ কেন ক্ষতিগ্রস্ত দায়ভার বহন করবে। তাদেরকে ক্ষয়ক্ষতি পুরনের অর্থ আদায় করতে হবে। সরকারকে দাবী আদায়ের বলিষ্ট ভুমিকা রেখে দর কষা কষি করতে হবে দেশকে জলবায়ুর অগ্রাশন থেকে রক্ষা করতে সবাইকে এক যোগে কাজ করতে হবে।
লেখকঃ রুহুল আমিন বুলু, পরিচালক, পল্লী বন্ধু সংস্থা ও মুক্ত সাংবাদিক। মোবাইলঃ ০১৭১২-০০২৯৫৩।

(Visited 54 times, 1 visits today)