শামুক কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ!

এজাজ আহম্মেদ :

-000-5-

রাজবাড়ীতে শামুক কুড়িয়ে প্রায় ৪০০ পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু গণহারে শামুক কুড়ানোর ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে মাত্রাতিরিক্ত আহরণ এবং ফসল চাষাবাদে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে ঝিনুক প্রায় নেই বললেই চলে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার পাটুরিয়া, বারুগ্রাম, নতুনচর, গুচ্ছগ্রাম, বাঘুটিয়া, বারেক গ্রাম, তুলসী বরাট, কোমড়দিয়া, গোবিন্দপুর, নটাপাড়া, মাশালিয়া, লক্ষ্মণদিয়া, সাঙ্গুরা, সন্ধ্যা, বাগচীডাঙ্গি, বেচকোলা, মঙ্গলবাড়ী, রতনদিয়া, মুচিদাহ ও বেলেশ্বর গ্রামের নিচু জমিতে গড়ে উঠেছে বিরাট বিল। এ বিলে বর্ষায় প্রচুর শামুক ধরা পড়ে। এ গ্রামগুলো সদর উপজেলার মূলঘর ও বানিবহ এবং বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ও জামালপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। প্রতিদিন সকাল থেকে দুটি ট্রলার ও বিভিন্ন নৌকায় শামুক সংগ্রহ করা হয়। এরপর জামালপুর-কোলারহাট সড়কের মাশালিয়া সেতুর পাশে শামুক জমা করা হয়। সেখান থেকে ট্রাকে করে পাঠানো হয় খুলনার বিভিন্ন চিংড়িঘেরে।
শামুক কুড়ানোর কাজে নিয়োজিত শ্রমিক জাহিদ শেখ বলেন, ‘প্রতিদিন সাত-আট ঘণ্টা কাজ করি। আবহাওয়া ভালো থাকলে দুই বস্তা পর্যন্ত শামুক পাওয়া যায়। তবে সাধারণত এক থেকে দেড় বস্তা কুড়ানো হয়। বিলের মধ্যে প্রতি বস্তা শামুক বেচে ১০০-১৩০ টাকা পাওয়া যায়। আর বাজারে এনে বেচলে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা দেয়।’
সোহেল মল্লিক বলেন, ‘আমরা এখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। দুপুর থেকে কাজ শুরু করতে হয়। ট্রাকে শামুক তুলে দেওয়া পর্যন্ত কাজ চলে। কখনো সন্ধ্যা আবার কখনো রাত ১২টা বেজে যায়। প্রতিদিন কাজের বিনিময়ে ৩৫০ টাকা পাই। বছরে বর্ষার সময় তিন-চার মাস এ কাজ করা যায়।’
বাগচীডাঙ্গির আজাহার ও লক্ষ্মণদিয়া গ্রামের জাহিদ শেখ বলেন, শামুক বেচাকেনার সঙ্গে স্থানীয় প্রায় ৪০০ মানুষ জড়িত। এঁদের কেউ কেউ বিল থেকে শামুক তোলেন, কেউ বিল থেকে কিনে নিয়ে বাজারে বিক্রি করেন, পরে এখান থেকে আবার চলে যায় খুলনায়।
বিমল বিশ্বাস বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে থেকে এখানে শামুক কুড়ানো শুরু হয়েছে। আগে বিলের পানিতে নামলেই শামুকে পা কেটে যেত। অল্প সময়ের মধ্যেই শামুকে নৌকা ভরে যেত। কিন্তু এখন অনেক সময় লাগে। আর ঝিনুক তেমন পাওয়া যায় না।
রাজবাড়ী সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক নূরুজ্জামান বলেন, শামুক তোলার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে ছোট শামুক ও ডিম নষ্ট না হয়। এটা হলে একসময় শামুক বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তবে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় শামুক তোলা হলে পরিবেশের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।
ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইদ আনোয়ার বলেন, ‘মাত্রাতিরিক্ত শামুক তোলা হলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও খাদ্যশৃঙ্খল নষ্ট হতে পারে। ওই অঞ্চলের শামুক তোলার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

(Visited 47 times, 1 visits today)