হাসপাতালে নবজাতককে ফেলে পালাল ‌‍‍‘মা’

জাহাঙ্গীর হোসেন :

tled-1

নিষ্পাপ চেহারার ফুটফুটে মেয়ে ‘আশা’। ক্যামেরার ফ্লাসের আলো চোখে পরতেই ঘুম ভেঙ্গে গেল তার। নরেচড়ে উঠল শরীর। তবে চোখ মেলনা সে। শান্ত হয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লো সে। যদিও গতকাল বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত তার পৃথিবীতে ভুমিষ্ঠ হওয়ার সময়কাল মাত্র ১০ ঘন্টা। জন্মের পর পরই ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে তার মা ও নানা বাড়ির স্বজনরা। হয়তো এখনি সে বুঝে ফেলেছে তার পরিণতির কথা। যে কারণে নতুন মা’য়ের কোলে স্থান পেলেও কান্নাকাটি করছে না সে। সুবোধ শিশুর মতোই শান্ত দেখা যায় তাকে।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের বেডে নতুন মা’ নাজমা বেগমের কোলে চুপটি করে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায় নবজাতক আশাকে। তাকে দেখতে সে সময় ওই বেডে ভীড় করে হাসপাতালে থাকা অন্যান্য রোগী ও স্বজনরা। সকলের মুখেই একটি কথা, ফুটফুটে এ শিশুকে ফেলে রেখে কিভাবে পালিয়ে গেলে তার মা।
এ সময় আশা’র নতুন মা নাজমা বেগম বলেন, তার ৯ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। স্বামী সাইদুল ইসলাম করেন গার্মেন্টে চাকুরী। বাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ী গ্রামে। তিনি গত বৃহস্পতিবার থেকে বুকের ব্যাথায় আক্রান্ত তার মা’ নবিরন নেছা (৫০) কে নিয়ে এ হাসপাতালের গাইনী বিভাগে অবস্থান করছেন। গত মঙ্গলবার রাত আড়াই টার দিকে প্রসব বেদনায় অস্থির এক যুবতিকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে আসেন। কিছু সময় পর ওই যুবতি স্বাভাবিক ভাবে একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। যদিও ওই যুবতির মা তাকে জানায় হাসপাতাল থেকে এখনি তারা বাড়ী ফিরে যাবেন। তবে তারা এ নবজাতক মেয়েটিকে সাথে নেবেন না। কাউকে দিয়ে যাবেন। যে কারণে তিনি ওই নবজাতককে দত্তক নেবার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তারা শিশুটিকে তার মা’য়ের বেডে রেখে চলে যান। আর অনুরোধ করেন, তাদের কোন পরিচয় কাউকে না বলতে। তিনি আরো বলেন, তার একটি কন্যা সন্তানের খুব আশা ছিল। তবে হাসপাতালে এসে ওই আশা তার পুরন হয়েছে। এখন তিনিই এ শিশুটির মা। তাই তিনি শিশুটির না রেখেছেন ‘আশা’। তিনি বলেন, আশাকে মানুষের মত মানুষ করবো। যে কারণে তিনি আশার সকল দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গুড়ো দুধ কিনেছেন। আশা’র স্বাসকষ্ট থাকায় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করেছেন। গতকাল সকালে তার অক্সিজেন দেয়া হয়েছে। একই সাথে ওষুধও খাওয়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, মেয়েটি অত্যান্ত লক্ষি। জন্মেও পর থেকেই সে শুধু ঘুমাচ্ছে। আর ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর একটু খাইয়ে দিলেই হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার রাতে গাইনী ওই ওয়োর্ডে কর্মরত ছিলেন, হাসপাতালের সিনিয়ান স্টাফ নার্স মালেকা বেগম ও আয়া মলিনা পারভীন মলি। তারা বলেন, ওই যুবতির গর্ভে ৫ মাস বয়সী শিশু রয়েছে বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানান। তবে সন্তান ভুমিষ্ঠ হবার পার আড়াই কেজি ওজন দেখে বোঝা যায় শিশুটি’র পূর্ণ বয়সেই জন্ম হয়েছে। যদিও শিশু জন্মের এক ঘন্টা পর তারা দেখতে পান শিশুটি নবিবরন নেছার বেডে আর তার জন্মদাতা মা ও তার পরিবারের সদস্যরা গেছেন পালিয়ে।
রাজবাড়ী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আব্দুল হান্নান বলেন, শিশুটির মা’সহ পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে গেছেন। তবে শিশুটিকে তারা অপর এক রোগীর কাছে রেখে গেছে। শিশুটি কিছুটা অসুস্থ্য থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং তাকে সু-চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

(Visited 59 times, 1 visits today)