জেলা শহরে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ, গণধর্ষণের শিকার অপর যুবতী উদ্ধার, দুই জন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পূজা দেখে বাড়ীতে ফেরার পথে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। অপর দিকে রাজবাড়ী জেলা শহরের শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রেখে গণধর্ষণের শিকার অপর এক যুবতীতে পুলিশ উদ্ধার করেছে। একই সাথে ওই বিদ্যালয়ের নাইটগার্ডসহ দুই জনকে করা হয়েছে আটক। এ দু’টি ঘটনাই গত শুক্রবার রাতে ঘটেছে বলে জানাগেছে।
গত শনিবার সকালে ধর্ষণের শিকার ছাত্রী (১৪) জানান, সে জেলা শহরের বিসিক শিল্প নগরী এলাকা মাদানী কমপ্লেক্সে মহিলা মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশোনা করে। গত এক বছর ধরে সে মাদ্রসায় আসা-যাওয়া কালে জেলা সদরের রামকান্তপুর গ্রামের জাফর খা’র ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা চালক বখাটে ছেলে আরিফ খা (১৮) অশ্লিল উক্তি করার পাশাপাশি প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত শুক্রবার বিকালে সে জেলা শহরের বড়পুর এলাকার পূজা মন্ডপ এলাকায় ঘুড়তে যায়। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের জন্য কিছু খাবার সামগ্রী কিনে রাত ৮ টার দিকে নিজ বাড়ীর পাশে থাকা জনৈক রিকশা চালক শাহিনের রিকশায় চরে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তার রিকশাটি জেলা শহরের পুলিশ লাইন সংলগ্ন নতুন বাজার এলাকায় পৌছতেই জোড়পূর্বক ওই বিকশায় বখাটে আরিফ খা উঠে বসে এবং রিকাশা চালককে ছুড়ি দেখিয়ে রামকান্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন জনৈক ওদুদ মোল্লার আখ ক্ষেতের সামনে নিয়ে যায়। এ সময় দশ মিনিটের জন্য তার সাথে কথা বলবে জানিয়ে ওই ক্ষেতের মধ্যে তাকে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তার মুখ ও হাত বেঁধে ক্ষেতের মধ্যে ধর্ষণ করে। একই সাথে আরিফ আরো ৩ জন যুবককে সেখানে ডেকে আনে। ওই সব যুবকরাও তাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। এতে সে অচেতন হয়ে যায়। সে সময় রিকশা চালক শাহিন চিৎকার করে এলাকার লোজনকে ডেকে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী রামকান্তপুর ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ ফারুক মজুমদার বলেন, মেয়েটিকে উদ্ধার করার পাশাপাশি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মোল্লাসহ বখাটে আরিফের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়। তবে আরিফের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার কোন পাত্তা না দেয়ায় রাত আড়াই টার দিকে মেয়েটিকে রাজবাড়ী থানায় নিয়ে আসা হয়। তিনি আরো জানান, আরিফ একজন বখাটে। যে কারণে তার পরিবারের সদস্যরা এক সপ্তাহ পূর্বে আরিফকে জেলা সদরের জৌকুড়া এলাকায় বিয়ে দেয়।
রাজবাড়ী থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে মেয়েটির পিতা আরিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
অপরদিকে, ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ী জেলা শহরের রেল কলোনীতে থাকা চাচার বাসায় বেড়াতে আসা এক যুবতী (১৭) কে গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর একদল বখাটে যুবক আটক করে। তারা ওই যুবতীকে জেলা শহরের ঐতিয্যবাহি শেরে বাংলা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের মধ্যে নিয়ে একটি রুমের মধ্যে আটকে রাখে। একই সাথে ৪ জন যুবক পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে।
ওই যুবতী জানান, আট মাস পূর্বে তার বিয়ে হয় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুরে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার স্বামী তাকে তালক দেবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। যে কারণে তিনি জেলা শহরের থাকা চাচার বাড়ীতে এসেছিলেন বিষয়টির সুরাহা করতে।
রাজবাড়ী থানার এসআই নিজাম উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৯ টার দিকে ওই যুবর্তীকে শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার দায়ে জেলা শহরের ভবানীপুর গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে ফরহাদ সেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সাথে ওই বিদ্যালয়ের নাইটগার্ড ও জেলা শহরের দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামের শুকুর আলী সেখের ছেলে আবুল হোসেন কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে বিকাল পর্যন্ত ওই ঘটনায় থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি বলেও জানাগেছে।

(Visited 73 times, 1 visits today)