ইউএনও’র নির্দেশ উপেক্ষা করেই কালুখালীতে প্রভাবশালীরা কাটলেন সরকারী গাছ

36

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ উপেক্ষা করেই গত ৪ জুলাই সন্ধ্যায় আওয়ামীলীগ নেতারা কেটে নিয়ে গেছেন, সরকারী রাস্তার বৃহৎ আকারের একটি মেগনী গাছ।

জানাগেছে, জেলার পাংশা-কালুখালী সড়কের কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্তরের ঝাউগ্রাম এলাকায় গত শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রজব আলী এবং ওই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আকরাম হোসেন বাচ্চু তাদের নিযুক্ত শ্রমিক দিয়ে অর্ধলক্ষাধিক টাকা মূল্যের একটি তাজা মেহগনী কাটতে শুরু করেন। বেলা ১২ টা পর্যন্ত তারা গাছের গোড়া থেকে মাটি অপসারনসহ বেশ কিছু ডালপালাও কেটে ফেলেন। সে সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাছ কাটার সংবাদ পেয়ে তা না কাটার জন্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে নির্দেশ প্রদান করেন। একই সাথে তিনি কালুখালী থানা পুলিশকেও ঘটনাস্থলে পাঠান। তারপরও রক্ষা পায়নি ওই গাছটি। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ যাবার পর কিছু সময়ের জন্য গাছটি কাটার কাজ বন্ধ থাকে। তবে পুলিশ চলে আসার পর সন্ধ্যার মধ্যেই গাছটি কেটে সড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানাগেছে।

এলাকাবাসী জানান, ১৯৮৮ সালে পাংশার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মজিদ কালুখালী পাংশা সড়কে শতাধিক মেহগনি গাছের চারা রোপন করে। বর্তমানে চারাগুলো পরিপূর্ন বৃক্ষে পরিনত হওয়ায় এর প্রতি নজর পরেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রজব আলীর। সে দীর্ঘদিন ধরেই রাতের আঁধারে সড়কের গাছ কেটে নিত। গত শুক্রবার সকালে রজব আলীর শ্রমিকরা প্রকাশ্যেই শুরু করেছে সড়কের গাছ কাটার কাজ।

স্থানীয় শফিকুল ইসলাম জানান, গাছের পাশের জমি আমার। সে হিসেবে আমিও সুবিধাভোগীর অংশ পাব। কিন্তু তা না দিয়ে রজব একাই দু’টি গাছ কেটে নিচ্ছে। গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক আব্দুল বারেক জানান, কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশমত গাছ কাটা হচ্ছে। নির্দেশপত্র রজব আলীর নিকট আছে।

কালুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রজব আলী জানান, স্থাণীয় ঝাউগ্রাম কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্যদের নতুন সদস্য হতেই তারা ওই গাছটি কেটেছে। তার ও আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সভাপতি আকরাম হোসেন বাচ্চুকে সহসাই ওই বিদ্যালয়ের সদস্য হিসেবে অন্তরভুক্ত হবার কথা রয়েছে। যে কারণে ওই স্কুলের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করতেই গাছটি কাটা হয়েছে।

ওই ইউনিয়নের মেম্বার আব্দুল জলিল জানান, কোন রকম টেন্ডার ছাড়াই সরকারী রাস্তার ওই গাছটি  রজব আলী ও বাচ্চু কেটে নিয়েছে। তিনি আরো জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে গাছ কাটা প্রতিরোধ করতে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের লোকজন আসলেও বন্ধ হয়নি গাছ কাটা।

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসির উদ্দিন মাহমুদ জানান, টেন্ডার ছাড়া সরকারী রাস্তার গাছ কাটার কোন সুযোগ নেই। যে কারণে ওই গাছ কাটার খবর পেয়েই তা বন্ধে করার জন্য থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে। তিনি গত ৫ জুলাই দুপুরেও দাবী করেন, ওই গাছটি কাটা হয়নি। তবে তার নির্দেশ উপেক্ষা করে যদি কেউ গাছটি কেটে থাকা তাহলে যারা গাছটি কেটেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর বিষয়টি সরজমিনে দেখতে তিনি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলেও জানিয়েছেন।

(Visited 54 times, 1 visits today)