রামকান্তপুর ইউনিয়ন পরিবার কল্যান কেন্দ্রটি নিজেই রোগাক্রান্ত

লিটন চক্রবতী/আল-মামুন আরজু :

7

রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রটি স্থাপিত হয় এলাকা বাসীর স্বাস্থ্য সেবার লক্ষ্যে। কিন্তু এখানে চিকিৎসক কর্মচারী ও ওষুধ স্বল্পতার কারনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিজেই এখন রোগাক্রান্ত। এখানে একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ভিজিটর, একজন ফার্মাসিষ্ট, একজন আয়া কর্মরত থাকার কথা। তবে তাদের উপস্থিতি একেবারে কম বলে এলাকা বাসীর অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, রামকান্তপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রটি দীর্ঘ দিন পুর্বে প্রতিষ্ঠা পেলেও সমস্যা বিরাজ করছে প্রথম থেকেই। অভিযোগ আছে প্রায়ই অফিস খোলা থাকার সময়ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির গেট তালা বদ্ধ দেখা যায়। গত শনিবার দুপুর বারটার দিকে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গেলে দেখা যায়, প্রধান গেটটি তালা বদ্ধ। আর গেটের উপর মেলে রেখে শুকানো হচ্ছে শাড়ি কাপড় ইত্যাদি। গেটের কাছে একটি পুকুরে কাপড় কাচছিল স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সংলগ্ন বাসিন্দা মৃত্য আনন্দ দাসের স্ত্রী লক্ষী রানী দাস। তিনি জানালেন, শুক্র ও শনিবার স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বন্ধ থাকে, তবে শনিবার অনেক রুগী এসে চিকিৎসা না পেয়ে চলে যায়। কথা বলতে বলতে নিজেকে হাসপাতালে কেয়ারটেকার দাবী করে গেটটি খুলে দিল পার্শবর্তী বাসিন্দা মৃত্য অপার দাসের ছেলে বিষ্ণু দাস। তিনি একাই গড় গড় করে বলে গেলেন এখানে সকলেই ঠিক মত আসে এবং ওষুধ পত্র বিতরন করে আর এই বিষ্ণু দাস হাসপাতালে ভিতরে গাছ গাছালী লাগান ও দেখা শুনা করেন বলে জানান। কথা বলতে বলতে বিষ্ণু দাস হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও অন্যান্যদের ফোন করে সাংবাদিক আসার কথা জানান এবং সকলকে হাসপাতালে আসার কথা জানান এবং হাসপাতালে চলে আসতে বলেন। এক ঘন্টা সময় অতিবাহিত হবার পর ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ এস এম গোলাম মোস্তফা একটি মটরসাইকেল যোগে চলে আসেন। তিনি হাসপাতালে কেও না আসার কারন সম্পর্কে জানান, এখানকার আয়া রয়েছে ছুটিতে। ভিজিটরের চাকুরীর সময় সীমা উত্তীর্ন হয়ে যাওয়ায় তিনি হাসপাতালে আসছেন না বলে জানান। হাসপাতালে প্রবেশ করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, পার্শবর্তী গ্রাম আড়াবাড়ীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্যাটালাইট ক্লিনিকে যেতে হবে বলে তিনি হাসপাতালে প্রবেশ করা সম্ভব হবে না। আড়াবাড়ীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্যাটালাইট ক্লিনিকে লোক জন বসে আছে, তাই স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান করতে যেতে হবে। বিকালে কোন এক সময় তিনি হাজিরা খাতায় সই করবেন বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে জনবলের সমস্যা ছাড়াও নেই টিউবওয়েল, নেই বিদ্যুৎ, নেই পানির ব্যবস্থা ও কোন নৈশ প্রহরী।
কথা হয়, ওই এলাকার মুদি দোকানদার কাজী ওয়াহিদুজ্জামানের সাথে। তিনি জানান, এখানে শুধু মাত্র পরিবার পরিকল্পনা গ্রহন কারীদের স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হয়। তবে কেও ওষুধ পায়, কেও পায় না। ওই এলাকা বাসিন্দা আজহার আলী খান জানান, কর্তব্যরত ডাঃ এস এম গোলাম মোস্তফা প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। পার্শবর্তী মাটিপাড়া গ্রামের মৃত্য ওসমান কাজীর ছেলে কাজী মোতালেব জানান, আমরা এখানে প্রায়ই থাকি, এখান থেকে শুধু মাত্র মহিলাদের কিছু কিছু ওষুধ দেয়া হয়। তবে রোগীর অনুপাতে ওষুধ খুবই অপ্রতুল। বেথুলিয়া ডাঈীপারা গ্রামের মৃত্য মধু সরদারের ছেলে আকরাম আলী সরদার জানান, এখানে বয়স্কদের কোন ওষুধ দেয়া হয় না। স্বাস্থ্য কেন্দ্র সংলগ্ন মাটিপাড়া কাজী ছমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম ছাত্র মোঃ রাসেল রহমান জানান, এখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক থেকে শুরু করে অন্যন্য কর্মচারীরা প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে বলে অনেকেই চিকিৎসা এবং ওষুধ না পেয়েই চলে যায়।
হাসপাতাল সংলগ্ন বাসিন্দা কৃষ্ণ কুমার দাস জানান, এখান থেকে আমরা ওষুধ পাই না, লোক চিনে ওষুধ বিতরন করা হয়। তিনি জানান, ইতিপূবে আমার ছেলের হাত কেটে গেলে ড্রেসিং ও ওষুধের জন্য যাই ওই কেন্দ্রে। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়ে দেন, তোমার ছেলেকে সদর হাসপতালে নিয়ে যাও । তিনি অভিযোগ করেন, এখানে কর্মরতরা সপ্তাহে এক দিন অফিসে আসে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

(Visited 39 times, 1 visits today)