দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে মধ্যরাতে ফেরিতে জুয়ার নামে চলছে ডাকাতি

আজু শিকদার :

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরিতে মধ্যরাতে নিয়মিত জুয়ার আসর বসিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করছে জুয়াড়ি নামের সশস্ত্র ডাকাত দল।
দৌলতদিয়া ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সুত্রের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদ ও শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে মধ্যরাতে চলন্ত ফেরিতে জুয়ারু দল ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রাতে চলাচলকারি ফেরিতে পুলিশি প্রহরার কোন ব্যবস্থা না থাকার সুযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্র এমন জুয়ার ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে সাধারন যাত্রীদের কাছ থেকে।
গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন শত শত বিভিন্ন গাড়ির পাশাপাশি কয়েক হাজার যাত্রী ফেরিতে নদী পারাপার হয়ে থাকে। এখানে সার্বক্ষণিক ভাবে ফেরিসার্ভিস চালু থাকলেও রাতে চলাচলকারি ফেরিগুলোতে যাত্রীর নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা নেই। এই সুযোগে ২০-২৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত রাতের অন্ধকারে ট্রলার নিয়ে এসে তারা চলন্ত ফেরিতে গিয়ে উঠে। সেখানে তারা জুয়া খেলার নামে ডাকাতির ফাঁদ বসায়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ফেরিতে উঠে প্রথমে তারা তিন-চারজন মিলে নিজেদের মধ্যে নগদ টাকার জুয়া খেলা শুরু করে। এসময় অপর জুয়ারুরা যাত্রীবেশে বিভিন্ন নৈশকোচের সাধারণ যাত্রীদেরকে ওই জুয়া খেলায় অংশ নিতে নানা ভাবে প্রলুব্ধ করে। এতে কৌতুহলী হয়ে সাধারণ যাত্রীদের অনেকেই জুয়ার ফাঁদে পা বাড়িয়ে স্বর্বস্ব হারায়। অনেকক্ষেত্রে কোন সাধারন যাত্রী তাদের আশপাশে ভিঁড়লেও তার কাছ থেকে সব কিছু ছিনিয়ে নেয় ওই চক্রের সদস্যরা। পরে ফেরি ঘাটে ভেড়ার আগেই জুয়ারুদল সুযোগ বুঝে ফেরি থেকে নেমে ট্রলারে করে নদীর ভাটিপথে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এই নৌরুট দিয়ে যাতায়াতকারী নৈশকোচ চালক হারুন আর রশিদ জানান, এই নৌপথে ফেরিতে জুয়া খেলা বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিল। ঈদ ও পূজাকে সামনে রেখে এখানে জুয়ারুদল ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি আরো জানান, চলন্ত পথে জুয়ার ফাঁদে পড়া ভুক্তভোগী যাত্রীরা ঝামেলা এড়াতেই আইনের আশ্রয় নেন না। প্রায় প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে শুরু হয়ে ভোর ৪টা পর্যন্ত চলা এ লুটতরাজে ঢাকা-দক্ষিণাঞ্চল-ঢাকাগামী প্রায় দুইশ নৈশ কোচের অধিকাংশ যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্রটি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার মাদার কাজীর নেতৃত্বে জামাল, রব, সেন্টু, কুব্বাত, জহুর, হাসেম কাজী, মনেক্কা, সোনাই, এরশাদ, বাহা, মনোমুচি, ইয়াকুব, হাবু, হারানসহ স্থানীয় ২০-২৫ জনের একটি শক্তিশালী চক্র রাতে ফেরিতে জুয়ার আসর বসিয়ে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ফেরি মাষ্টার ও হকাররা বলেন, ক্ষমতাসীন দলের দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের আশ্রয়ে চলে এ লুট। তাই জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না কেউ। এদের কাছে অসহায় পুলিশ প্রশাসনও।
রাতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী ফেরিতে পুলিশ পাহারা না থাকার কথা স্বীকার করে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল খালেক বলেন, এখান দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের এ বিষয়ে আরো সতর্ক হতে হবে। জুয়ারুদের আশ-পাশে না ভিড়লে কারো কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। তাছাড়া ১৫/১৬টি ফেরিতে পুলিশ দেয়ার মত জনবল আমাদের নেই। চিহ্নিত জুয়ারুদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত আছে।

(Visited 36 times, 1 visits today)