ভুমিষ্ঠ হতে না হতেই শিশুটিকে নিয়ে চিন্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নবজাতক

নবজাতক

শিশু জন্মের পর পরই মায়ের বুকের দুধ পান করবে, হাত-পা নেড়ে মায়ের আঁচলে মুখ লুকাবে, দেখাবে চঞ্চলতা। অথচ মা’য়ের কোলে মুখ লুকানোতো দূরের কথা, তার এক ফুটা বুকের দুধও পান করা হলো না সদ্য ভুমিষ্ঠ ছেলে নবজাতকের। এখন তার ঠাই মিলেছে ফুপু ও আতœীয়দের কোলে। অদর-অনাদর আর অন্যের বুকের দুধ পান করেই শুরু হলো তার জীবন। যদিও এমনটি হবার কোন কারণ ছিল না ওই নবজাতকের জীবনে। আজ তার মা’য়ের কোলে চড়ে নিশ্চিত মনে বেড়ে উঠার কথা ছিল।
জানাগেছে, গত শুক্রবার রাতে রাজবাড়ী জেলা শহরের রাবেয়া প্রাইভেট ক্লিনিক হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ভুল অপারেশনে মৃত্যু হয়েছে ওই নবজাতকের মা লিপি বেগম (৩০)-এর। তার মা’য়ের মৃত্যুর পর থেকেই জেলা সদরের রামকান্তপুর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের দাদা বাড়ীতে স্থান হয়েছে তার। সেখানে এখন সে ফুপু ও নিকট স্বজনদের তত্বাবধানে রয়েছে।
তার ফুপু সিমা খাতুন বলেন, এখনো এ নবজাতকের নাম তারা নির্ধারণ করেন নি। জন্মের পরই মা হারা এ শিশুকে তিনি নিজের সন্তান হিসেবে বুকে তুলে নিয়েছেন। তবে সমস্যা একটাই তা হলো, বুকের দুধ। এ শিশুকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে, ৫ থেকে ১০ মিনিট পর পরই দিতে হচ্ছে বুকের দুধ। আর দুধ দিতে না পরলেই চিৎকার করে কেঁদে উঠছে সে। যে কারণে প্রতিবেশি কয়েক জন সদ্য সন্তান জন্ম দেয়া মা’য়ের সরনাপর্ন হয়েছেন তিনি। তাদের কাউকে বাড়ীতে ডেকে এনে আবার কারও বাড়ীতে গিয়ে বুকের দুধ এনে ক্ষুধা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে শিশুটির।
স্বজন সালেহা খাতুন বলেন, মা’তো মা’ই। মায়ের ¯েœহ ভালবাসা একটি সদ্য ভুমিষ্ঠ সন্তানের জন্য কত যে প্রয়োজন তা এ শিশুটি’র মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। সাধারণত সদ্য ভমিষ্ঠ শিশুরা মা’য়ের বুকের দুধ পান করে, আর ঘুমায়। তবে এ শিশুটি ক্ষুধার তারনায় ঠিতমত ঘুমাতেও পারছেনা। তিনি দুঃখ করে বলেন, ডাক্তারদের অবহেলা অথবা ভুল অপারেশনের জন্য এ শিশুটি আজ মা’য়ের আদর থেকে বঞ্চিত হলো। তার ফুপু ও নানা বাড়ীর স্বজনদের অন্যের বাড়ী থেকে বুকের দুধ চেয়ে এনে তাকে বাঁচিয়ে রাখে অনেক বেগ পেহাতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নবজাতকের পিতা শামিম সেখ বলেন, এ নবজাতক শিশুটিকে নিয়ে তিনি চরম দূশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার আরো একটি ৫ বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে। মেয়েটিকে লালনপালন করা তার জন্য কিছুটা সহজ ব্যাপার হলেও এ নবজাতক শিশুকে তিনি কিভাবে বড় করে তুলবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। প্রাথমিক ভাবে শিশুটির দায়ীত্ব তার বোনরা নিয়েছে। এখন তারা নিয়মিত সহযোগীতা করলে এবং প্রতিবেশি মা’রা বুকের দুধ ঠিকমত দিলেই ছেলেটিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, কম করে হলেও টানা ৬ মাস বুকের দুধ তাকে খাওয়ানো ছাড়া কোন উপায় নেই। ৬ মাস পর হয়তোবা বাইরের খাবার খাওয়ানো সম্ভব হবে। সে সময় হয়তো অন্য মা’দের কাছে না গেলেও হবে।

(Visited 69 times, 1 visits today)