দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে একের পর এক খুন, রহস্য অজানা

আসজাদ হোসেন আজু :

গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় দেশের বৃহত্তম পতিতাপল্লীতে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটলেও হত্যা রহস্য থেকে যায় অন্তরালে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি না পাওয়ায় এসব ঘটনা ঘটেই চলেছে বলে মনে করেন এলাকার সচেতন মহল। এ সকল ধারাবাহিক ঘটনায় গত ২১মার্চ জোড়া খুনসহ সর্বোশেষ শিকার হয়ে রবিবার ভোরে পল্লীর ভেতরে দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিপন।
বিভিন্ন সূতের সাথে কথা বলে জানা যায়, দক্ষিণ বঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে অবস্থিত উপমহাদেশের অন্যতম পতিতাপল্লী। এখানে মাদক, নারীসহ সকল ধরনের অবৈধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রন ও আধিপত্য বিস্তারে প্রায়ই মারামারি-গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে অহরহ আহত হওয়াসহ নিহতের ঘটনা ঘটেই চলেছে। যেসব ক্ষেত্রে লাশের পরিচয় পাওয়া যায় না সেগুলো নিয়ে কোন আলোচনাও হয় না। আবার যেগুলো পরিচয় মেলে সেগুলো নিয়ে কিছুদিন আলোচনা হলেও হত্যা রহস্য অন্তরালেই থেকে যায়।
গত ৭ সেপ্টেম্বর রবিবার ভোর চার টার দিকে যৌনপল্লী¬তে সাইফুল ইসলাম রিপন (২২) নামের এক যুবককে গুলি করে খুন করে দুর্বৃত্তরা। সে ঢাকার সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ও বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি মোহন মন্ডলের ছেলে। এসময় তার সাথে থাকা ফরিদ শেখ নামের এক বন্ধুও গুলিবিদ্ধ হয়।
পরদিন সোমবার বিকেলে নিহতের মামা মো. খলিল মন্ডল বাদি হয়ে জামাল প্রত্তনদার (৩২), মো. ইয়াসিন শেখ (৩০), মো. সুমন শেখ (২৭), মো. শহিদ (৩০) ও মো. হারুনের নাম উল্লেখ ও আরো ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) কফিলউদ্দিন জানান, দায়িত্ব পেয়েই তিনি আসামীদের গ্রেফতারসহ হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ধারে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
অপরদিকে এ বছর ২১ মার্চ সন্ধ্যায় যৌনপল্লী এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যৌনপল্লীর প্রভাবশালী বাড়িওযালী সালমী আক্তার ও গোয়ালন্দ পৌরসভার স্টিল ফার্নিচার ব্যবসায়ী চাঁনমিয়া ফকির খুন হন। জোড়া খুনের এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেও আজ পর্যন্ত তার প্রকৃত কারণ ও ঘাতকদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এতে নিহতদের পরিবার মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ।
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) এ.কে.এম মিজানুর রহমান বলেন, যে কোন ঘটনার পর দ্রুত সময়ে তদন্তে সাফল্য না আসলে পরবর্তীতে বিষয়টি কিছুটা জটিল হয়ে যায়। এ কারণেই চাঞ্চল্যকর এ জোড়া খুনের প্রকৃত রহস্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই গত ২০ জুলাই জোড়া খুনের ওই মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল খালেককে যৌনপল্লীর নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে বলেন, এ ব্যাপারে পরে কথা বলব।

(Visited 100 times, 1 visits today)