টিআরের গম আত্মসাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজবাড়ী সদর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় অধিকাংশ প্রকল্পে কাজ না করেই সরকারদলীয় কর্মীরা গম তুলে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে টিআর কর্মসূচির আওতায় রাজবাড়ী-১ আসনে আওয়ামী লীগের সাংসদ কাজী কেরামত আলীর অনুকূলে তৃতীয় পর্যায়ে দুই উপজেলায় ১৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য (গম) বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৭টি প্রকল্পের বিপরীতে ৮০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্যের বিনিময়ে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ ২৬ জুন শুরু হয়। ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে এসব প্রকল্পের সভাপতিরা গম তুলে নেন।

মিজানপুর ইউনিয়নের ধুঞ্চি গ্রামের বেড়িবাঁধ থেকে আবুর দোকান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারকাজের জন্য দুই টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজের দায়িত্ব পান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক খান। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেনসহ অনেকে জানান, এই রাস্তায় কোনো কাজ হয়নি। এক বছরের বেশি সময় আগে রাস্তায় সংস্কারকাজ হয়েছে। এরপর আর কোনো কাজ হতে দেখা যায়নি। তবে রফিক খান দাবি করেন, রাস্তায় কাজ হয়েছে।

একই ইউনিয়নের বাগমারা পল্লন মাজার থেকে ঘোনাপাড়া মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারকাজের জন্য তিন টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা কবির উদ্দিন শিকদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গম তুলে নেন। স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল শেখ জানান, বৃষ্টির দিনে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না। এ জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কবির উদ্দিন শিকদার বলেন, ‘কাজ করতে দেরি হয়ে গেছে এ কথা সত্য। তবে আবহাওয়া ঠিক হলে রাস্তার কাজ করে দেব।’

দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর নুরুর বাড়ি থেকে রজব আলী সরদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা এবং লালনের বাড়ি থেকে দুদু ব্যাপারীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য পাঁচ টন করে গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরেজমিনে এসব কাজের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের সভাপতি দাদশী ইউপি চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘এসব রাস্তায় দু-চার মাসের মধ্যে কোনো কাজ হয়নি।’ কিন্তু কাজের কথা বলে তাঁর (মোখলেছুর) নামে মোট ১০ টন গম তোলা হয়েছে বললে তিনি একটু পরে জানাবেন বলে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন। পরে তিনি বলেন, এসব রাস্তায় খুব সুন্দর কাজ হয়েছে।

পিআইও আবু সাইদ মণ্ডল বলেন, বৃষ্টির সময় এসব কাজ হওয়ায় ঠিকমতো তদারকি করা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া কাজ হয়নি, এমন কোনো অভিযোগও কেউ করেনি। তবে অভিযোগ তদন্ত করা হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেওয়ান মাহবুব রহমান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

সাংসদ কাজী কেরামত আলী বলেন, ‘কাজ না করে গম তোলার সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

(Visited 38 times, 1 visits today)