বালিয়াকান্দিতে পূজা কমিটির পরিচিতি সভা পন্ড সংঘর্ষে আহত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক :

Picture- 05

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ডিগ্রী কলেজে শুক্রবার বিকালে উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের পরিচিতি সভায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু,গ্রুপের সংঘর্ষে ১০জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে থানার পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
দিপক কুমার রায়, বিজয় সান্যাল ও রাজু দাস জানায়, সাবেক সম্পাদক ও বর্তমান কমিটি উপদেষ্টা সুজিত কুমার সাহার উপর চড়াও ও মারপিটের আমরা প্রতিবাদ করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সনজিত দাস, প্রল্লাদ দাস, অলোক চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দ চাকী সহ ৩/৪ জন বেধড়ক মারপিট করে। মারপিটে আমরা ৩ জন আহত হই।
রামগোপাল চ্যাটার্জী, সাংবাদিক সনজিৎ দাস, গিরিধারী চক্রবর্তী জানান, পুর্ব ঘোষিত পরিচিতি সভায় রঘুনন্দন সিকদার, সবুজ শিকদার, সুজিত সাহা, ভানু সোম অর্ধশত লোকজন নিয়ে হামলা চালালে আমরা বাইরে বের হয়ে আসি। পরে পুলিশও তাদের পক্ষাবল্বন করে আমাদেরকে মারপিট করে।
সাবেক সম্পাদক ও বর্তমান কমিটি উপদেষ্টা সুজিত কুমার সাহা জানান, পুজা উদযাপন পরিষদের পরিচিতি সভায় গিয়ে নতুন কমিটি কবে কোথায় কিভাবে গঠিত হয় তা আমি জানি না। এ বিষয়ে কিভাবে কমিটি গঠন হলো এবং উপদেষ্টা হলাম সে বিষয়ে হাউজে প্রশ্ন করলে, রাম গোপাল চট্টপাধ্যায় আমার কথা বলেতে বাধা সৃষ্টি করে। তার অনুগত রামানন্দ দাস ওরফে সনজিত দাস, প্রল্লাদ দাস, গোবিন্দ দাস, সুবল সিকদার সহ ১০/১৫ জন মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মারপিট ও লাঞ্ছিত করে। এরপর আমি ঘটনাস্থল বালিয়াকান্দি কলেজ থেকে চলে আসি।
উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি বিনয় কুমার চক্রবর্তী জানান, শুক্রবার বিকালে বালিয়াকান্দি কলেজে পুর্বনির্ধারিত পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয়। সভা শুরুর সাথে সাথে উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক রঘুনন্দন শিকদার, সাবেক সাধারন সম্পাদক সুজিত সাহা ও ভানু সোমের নেতৃত্বে অর্ধশত লোক প্রবেশ করে। তারা মাইক নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা চালালে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে হামলা চালিয়ে জেলা পুজা উৎযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি রামগোপাল চ্যাটার্জী, তার ছেলে গিরিধারী চ্যাটার্জী, অলোক চক্রবর্তী, প্রভাস চন্দ্র দাস, সাংবাদিক সনজিৎ দাস, তার ভাই প্রল্লাদ দাসকে পিটিয়ে আহত করে। এব্যাপারে থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা পুজা উৎযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক রঘুনন্দন শিকদার জানান, উপজেলা পুজা উৎযাপন কমিটি হয়েছে আমাদের জানা নেই। আমাদের কিভাবে পদে রাখা হলে জিজ্ঞাসা করতে গেলে উত্তেজিতদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত করি। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুজা কমিটির সভা না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

(Visited 40 times, 1 visits today)