ডিজিটাল যুগে শিশু রাজ্যের শিক্ষার্থীদের দেখানো হলো ডাক ঘরের কার্যক্রম

লিটন চক্রবর্তী, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

SAMSUNG CAMERA PICTURES

ডিজিটাল এ যুগে উচ্চ ক্ষমতা সম্পূন্ন মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ই-মেইল, ইমো, স্কাইফ, ব্লুটুথ, শেয়ারিং, ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অবাধ ব্যবহারের সাথে ব্যাপক ভাবে পরিচিত বর্তমান সময়ের শিশু শিক্ষার্থী। তবে তারা ডাক ঘর বা চিঠি কাকে বলে এবং কিভাবে তা প্রাপকের কাছে পৌছায় সে সম্পর্কে কিছুই জানেনা। জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ওই বিষয়টি নিয়ে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করে রাজবাড়ী জেলা শহরের ৩ নং বেড়াডাঙ্গা এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান “শিশু রাজ্যে”।

গত রবিবার সকাল ১০ টার দিকে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদে শিশুরা পরিদর্শন করেছে রাজবাড়ী জেলা ডাক ঘর। তাদের আগ্রহের বিষয়টিকে উপেক্ষা করেননি, জেলা ডাক ঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। ডাক ঘরের চলমান কর্মকান্ড দেখে হাজারো প্রশ্নের বানে জর্জরিত হয়ে পরেন তারা। তবে বিরক্ত না হয়ে স্বাদরে তারা শিশুদের মনে জেগে উঠা প্রশ্নের জবাব দেন। সেই সাথে আগত ক্ষুদে অতিথিদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ডাক ঘর দেখালেন, বুঝালেন কিভাবে চিঠি তার গন্তব্যে যায়। কিভাবে দুর দুরান্তে মানি অর্ডার পৌছায় আর কিভাবে ডাক ঘরের কর্মচারীরা তাদের এই কাজ সম্পাদন করে থাকে।
গতকাল সকালে ওই বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা ডাক ঘরে পৌছালে, রাজবাড়ীর প্রধান পোষ্ট মাষ্টার নাজমুল হুদা কার্যালয় থেকে বের হয়ে আসেন এবং শিশুদের সাথে পরিচয় পর্য সেরে তাদের ভেতরে নিয়ে যান। একই সাথে ডাক বিভাগের সকল কাজ সম্পর্কে অবহিত করেন। শিশু শিক্ষার্থীরা স্বতস্ফুর্ততার সাথে তা বোঝা ও শেখার চেষ্টা করে। ওই সময় টুকু শিশুদের পদচারনায় এবং কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে ডাক ঘর। এতে ওই অফিসে কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আনন্দিত হন।
কেজি ২ ও ৩-এর শিক্ষার্থী ফাতেমা, নিপুন ও তামিয়া জানায়, তারা কখনো চিঠি দেখেনি। চিঠি কিভাবে অন্যত্র পাঠানো হয় তাও জানতাম না। আমার এখানে এসে বিষয় গুলো দেখে বিস্মত হয়েছি।
এ সময় পোষ্ট মাষ্টার বলেন, যদিও ডাক বিভাগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে, তবুও চিঠিসহ বেশ কিছু কর্মকান্ড এখন কমে গেছে। এছাড়া ডাক ঘরের কাজ কর্মের বিষয়ে এ যুগের শিশু কিশোররা তুলনামূলক ভাবে কম জানে। তবে তারা উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ণ মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা কম্পিউটার সম্পর্কে অবগত। তাই শিশুরা ডাক ঘরের নিত্যদিনে কাজ সম্পর্কে জ্ঞান গ্রহণ করতে আসায় তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সাদুবাদ জানান।
ওই বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোঃ সাইফুল্লাহ বলেন, শিশুদের পাঠ্য বইয়ের বাইরে জ্ঞান অর্জনের জন্য তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিত্যনতুন কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। এর অংশ হিসেবে তারা ডাক বিভাগের কর্মকান্ড শিশুদের সরজমিনে বোঝানোর জন্য এখানে নিয়ে এসেছেন। কম্পিউটার ও ইন্টার নেটের বাইরেও ঐতিহ্যবাহি ডাকা বিভাগ রয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চিঠিসহ সকল ধরণের সংবাদ আদান প্রদান ও টাকা লেন-দেন করা যায়।

(Visited 72 times, 1 visits today)