গোয়ালন্দ পশু হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী

আজু সিকদার,রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

Goalundo Photo 2

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা পশু হাসপাতালে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীও পশুর চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে কোন কোন ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসায় পশু মারা যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সরকারী পশু হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবার বিধান থাকলেও পশুর বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ব্যাক্তিদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কর্মচারীরা চিকিৎসার বিনিময়ে নগদ টাকা আদায় করে আসছেন। ওষুধের মূল্য বাবদ এমনকি কখনো কখনো সরাসরি চিকিৎসকের ফিস বাবদ টাকা আদায় করা হয়। এর বাইরেও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকরা পশু মালিকদের কাছ থেকে গলাকাটা ফি আদায় করে থাকেন।
উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চর বালিয়াকান্দি গ্রামের কৃষক দীলিপ কুমার সরকার অভিযোগ করেন, তিনি কয়েকদিন আগে রোগাক্রান্ত দুটি ছাগলের চিকিৎসার জন্য পশু হাসপাতালে যান। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক ভেটেরীনারী সার্জন ডা. পলাশ কান্তি দত্ত তার পশুর চিকিৎসা না করে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আব্দুল কাদের এসময় পশুর সমস্যা শুনে ইনজেকশন পুশ ও অন্যান্য চিকিৎসা দেন। বিনিময়ে ৩শ টাকা দাবি করেন তিনি। তার কাছে থাকা ১শ টাকা দিলেও ছাগল না দিয়ে আটকে রাখেন। ইতিপূর্বে আব্দুল কাদেরের চিকিৎসায় তার একটি ছাগল মারা গেছে বলেও তিনি জানান। একই ধরনে অভিযোগ করেন স্থানীয় আরো কয়েকজন।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন স্বাস্থ্য সহকারী জানান, অনেক জরুরী ওষুধ আছে যে গুলো সরকারী ভাবে সাপ্লাই নেই। আবার একটা পশুর ক্ষেত্রে যে স্বল্প মাত্রার প্রয়োজন হয় তার জন্য একটা পুরো একটা বোতল বা ফাইল কিনতে হয়। এটা বিবেচনা করে তারা হাসপাতালে ওই ওষুধগুলো কিনে রাখেন এবং সেগুলো ব্যবহার করে টাকা নিয়ে থাকেন।
চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (ড্রেসার) আব্দুল কাদের দাবি করেন, তিনি চিকিৎসকদের নির্দেশ মোতাবেক চিকিৎসা দেন। নগদ টাকা দিয়ে ওষুধ কিনে চিকিৎসা দেই বলে টাকা নিয়ে থাকি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা বরুন কান্তি দত্ত জানান, এখানে সব ধরনের ওষুধের সাপ্লাই নেই। বাইরে থেকে ওষুধ কিনে পশুর চিকিৎসা দিলে শুধু ওষুধের দাম নেয়া হয়। এছাড়া কেউ অতিরিক্ত টাকা নেয়র অভিযোগ তার কাছে করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(Visited 69 times, 1 visits today)