ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক – পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

-- (1)-10.11

সর্বহারা, চরমপন্থী অধ্যুষিত রাজবাড়ী জেলা। এ জেলার সাথে পাশ্ববর্তী পাবনা, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, মাগুরার সীমানা রয়েছে। সংগত কারণেই চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে অনেকাংশেই গড়ে উঠেছিল এ জেলা। নিকট অতিতে জেলার জৌকুড়া পুলিশ ফাঁড়ি লুট, পুলিশ অফিসার ও কনষ্টেবল হত্যাসহ নানা ভীতিকর কর্মকান্ডের কারণে জনমনে আতংক বিরাজ করে। সংগত কারণে জেলার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাসহ পুলিশী স্থাপনা, যানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেন্স। তবে সে অবস্থা এখন আর নেই। পুলিশী তৎপড়তায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে এখন এ জেলা। ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক। গোয়েন্দা ও থানা পুলিশকে সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। ফলে চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের মুলহোতারা পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে হতা-হত হয়েছে। অন্যরা ভয়ে প্রতিবেশি রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন স্থানে করেছে আত্নগোপন। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আর কখনোই মাথাচারা দিয়ে উঠতে পারবে না সর্বহারা-চরমপন্থীরা। তাদের সমূলে উৎপাটন করাও সম্ভব হবে। কথা গুলো জানিয়েছেন, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম।

আজ (বুধবার) সাহসী এ পুলিশ সুপারের রাজবাড়ীতে সাত মাসের কর্মজীবন পূর্ণ হবে। গত মঙ্গলবার সকালে নিজ কার্যালয়ে এ জেলায় স্বল্প সময়ের কর্মজীবনের চাঞ্চল্যকর কর্মকান্ড নিয়ে কথা বলেন তিনি রাজবাড়ী বার্তা ডট কমের সাথে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মেদসহ জেলা পুলিশের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি প্রায় ৩ বছর পুলিশে সুপারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি প্রতিবেশি মাগুরা জেলায়। ওই জেলায় কর্মরত অবস্থায় তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পিপিএম পদক পান। চলতি বছরের ১২ এপ্রিল তিনি রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন।
তিনি বলেন আরো বলেন, চরমপন্থী গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জেলা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। যথাপোযুক্ত কৌশল, সমন্বয়, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এবং শক্তিশালী গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং ধারাবাহিকভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাত্র সাত মাসে জেলার পাংশা থানার কুখ্যাত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, খুন, ডাকাতিসহ গুরুতর মামলার ৫ জন, সদর থানায় ১ জন এবং গোয়ান্দ ঘাট থানার ১ জন আসামী পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ৫ জন। এছাড়াও বিশেষ ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আলি জামান, আকরাম, মাদক স¤্রাট ওসমান কাজী গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযোনে ৬টি দেশী বন্দুক, ২টি বিদেশী বন্দুক ৬টি দেশী রিভালবার, ২টি বিদেশী রিভালবার, ২টি বিদেশী পিস্তল, ১টি দেশী পিস্তল, ২টি পাইপগান, ২১টি সাটারগান ও শুটারগান, ২টি এলজিসহ ৪৪ টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৯২২ রাউন্ড গুলি ও ৪৬টি কাতুর্জ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ওই সব ঘটনায় ২৬ মামলায় ৩২ জন আসামীকে গ্রেপ্তার পূর্বক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সময়ে ২,১৪০ বোতল ফেনসিডিল, ৩৪ কেজি ২১০ গ্রাম গাঁজা, ৬,৯১৮ পিছ ইয়াবা, ৩৮০ গ্রাম হেরোইন, ৩৬২ লিটার চোলাই মদ, যৌন উত্তেজক তরল জাতীয় দ্রব্য ১,৮২৪ বোতল এবং ৪ বোতল হুইস্কি উদ্ধার করা হয়েছে। বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার, বন্দুক যুদ্ধে কুখ্যাত সন্ত্রসী নিহত, বিপুল পরিমান আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও আসামী গ্রেপ্তার হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং শান্তিপ্রিয় জনসাধারণ এলাকায় মিষ্টি বিতরণসহ আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, জেলার দৌলতদিয়া ফেরীঘাট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত। বেপরোয়া ড্রাইভিং, নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাফিক অব্যবস্থাপনার জন্য ঘরমুখো মানুষের ছিল সীমাহীন দুর্গতি। তার সময়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, দুর্গাপূঁজা সহ জাতীয় এবং অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবকালীন সময়ে ফেরীঘাট ব্যবস্থাপনায় পুলিশের উদ্যোগ ছিল ধারাবাহিকভাবে প্রশংসনীয়। আস্থার সাথে বলা যেতে পারে, কোন যাত্রীকে যানজট বা ট্রাফিক অব্যবস্থাপনার কারণে ঘাট এলাকায় ঈদ বা পূঁজা উদযাপন করতে হয়নি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ফেরীঘাটের যানজট নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের লজিস্টিক সাপোর্ট বরাবরই অপ্রতুল। উপরন্তু ফেরীঘাট এলাকায় কখনো কখনো রাস্তাঘাটের বেহালদশা, ফেরী সংকট, নদীর নাব্যতা হ্রাস, কাজের সমন্বয়হীনতা ইত্যাদি কারণে এ সমস্যা প্রকট থেকে প্রকটতর হতো। কিন্তু দৃঢ মনোবল, পেশাদারিত্ব, অফিসার-ফোর্সদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং উৎসবকালীন সময়ে প্রায় সার্বক্ষণিক সরেজমিনে উপস্থিত থেকে তিনি যানজট নিরসনে স্থানীয় ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ -সহ অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় করতঃ ঘাট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে জনমনে সরকার এবং পুলিশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরী হয়েছে।
পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বা ইমেজ সংকটে পড়ে এমন কোন কর্মকান্ড এ জেলায় সংঘটিত হয়নি। অফিসার-ফোর্সদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা, দক্ষ নেতৃত্বের কারণে এ জেলায় পুলিশ বাহিনী সত্যিকার অর্থেই পুলিশ সার্ভিসে পরিণত হওয়ার জন্য আশানুরুপ পথ অতিক্রম করেছে বলেও তিনি মনে করেন।

(Visited 55 times, 1 visits today)