গোয়ালন্দে বন্ধুক যুদ্ধে শীর্ষ সন্ত্রাসী আরশাদ নিহত হওয়ায় এলাকায় স্বস্থি

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

365_n

জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী আরশাদ ব্যাপারী (২৫) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের সাথে গত রবিবার গভীর রাতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ একনলা বন্দুক ও তার দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। আরশাদ জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উত্তর দৌলতদিয়ার শাহাবুদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে।

এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, আরশাদ ছিলেন জেলার দৌলতদিয়া ফেরী ঘাট ও পতিতা পল্লী এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার নেতৃত্বে পরিচালত হয়ে আসছে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। ওই বাহিনীর সদস্যরা দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যাবসা, পতিতা পল্লীর যৌনকর্র্মীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা ছিনিয়ে নেয়ার কাজ করে আসছিল। গত কয়েক বছর ধরে তার এবং তার বাহিনীর সদস্যদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে সেখানকার বেশিরভাগ মানুষ। ১৫ থেকে ১৬ বার সে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। যদিও পর মুমুর্তেই জামিনে সে বের হয় এবং নতুন উদ্দমে শুরু করে তার ভয়ঙ্কর কর্মকান্ড। বন্দুক যুদ্ধে তার নিহত হবার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে আনন্দিত হয়ে পড়েন ওই এলাকার বাসিন্দারা সকলে। তবে সে আনন্দ তারা প্রকাশ করতেও এখনো ভয় পাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার স্বর্তে দৌলতদিয়া ঘাট রেল ষ্টেশন এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, ভয়ঙ্কার একজন সন্ত্রাসী ছিল আরশাদ। তার পিতার দৌলতদিয়া পতিতা পল্লীর মধ্যে জমি রয়েছে। ওই সব জমিতে থাকা যৌনকর্মীদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাবে সে টাকা উঠাতো। অভ্যন্তরিন কোন্দলের জের ধরে কয়েক মাস আগে তার গ্রুপের সদস্য হানিফকেও হত্যা করা হয় এবং লাশ গুম করার লক্ষে তা যৌনপল্লীর পাশের ডোবার পানিতে লুকিয়ে রাখা হয়। একই ভাবে তাদের কথা না শুনলে সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে যৌনকর্মী, পথচারী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা কাউকেই তারা ছাড় দেয়না। শুরু করে তারা অত্যাচার। সে নিহত হলেও তার বাহিনীর সদস্যরা এখনো এলাকায় অবস্থান করছে। ফলে যে কোন সময় তার বাহিনীর সদস্যদের অত্যাচারের সম্মুখীন হতে পারে যে কেউ।
গোয়ালন্দ থানার ওসি এসএম শাহজালাল জানান, গত রবিবার দিন রাত ৯ টার দিকে দৌলতদিয়ার ক্যানাল ঘাট এলাকা থেকে হত্যার মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী হিসেবে আরশাদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সে তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথা শিকার করে। তাকে নিয়ে ওই দিন রাত ২টার দিকে গোয়ালন্দের পদ্মার মোড়ে থাকা নুরু মিয়ার পরিত্যাক্ত ইটভায় যান পুলিশ সদস্যরা। এ সময় সেখানে মাটিতে পুতে রাখা একনলা একটি বন্ধুক ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এর পর পরই অতর্কিত ভাবে আরশাদের বাহিনীর সদস্যরা পুলিশের উপর গুলি বর্ষণ করে। পুলিশও পাল্টা ১২ রাউন্ড গুলি বর্ষন করে। এতে তিনি (ওসি) সহ থানার এসআই রফিক উদ্দিন, কনষ্টেবল আনিস এবং সন্ত্রাসী আরশাদ আহত হন। মাথা ও বুকে দু’টি গুলি বৃদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত আরশাদকে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। তবে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে রাজবাড়ী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম জানান, আরশাদ জেলা পুলিশের তালিকা ভুক্ত একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে ৩টি ডাকাতি, ১টি হত্যা, ১টি পুলিশের উপর বোমা হামলা, ১টি হত্যা চেষ্টা ও ১টি মাদক মামলাসহ ৭টি মামলা রয়েছে। এদিকে, আরশাদকে হত্যা ও পুলিশের উপর হামলা এবং অস্ত্র আইনে গতকাল আরো দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দু’টির বাদদী হয়েছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই রফিক উদ্দিন।

(Visited 40 times, 1 visits today)