আরোগ্য ক্লিনিকে “ইনজেকশন পুশ করার পাঁচ মিনিটের মাথায় মারা গেল নবজাতক”

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

4-0 RAJBARI

গত শনিবার সকালে রাজবাড়ী জেলা শহরের আরোগ্য ক্লিনিকে নার্স কর্তৃক ইনজেকশন পুশ করার পাঁচ মিনিটের মাথায় মারা গেছে এক নবজাতক। এ অভিযোগ করেছেন, মৃত নবজাতকের মা’সহ ওই ক্লিনিকে থাকা পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

জানাগেছে, রাজবাড়ী জেলা সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের কোলারহাট বাজার এলাকার দরিদ্র কৃষক আলম সেখ তার সন্তান সম্ভাবা স্ত্রী কাজলী আক্তার (২২) কে গত বৃহস্পতিবার জেলা শহরের বড়পুলস্থ আরোগ্য ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। কাজলী আক্তারের সন্তান প্রসবের তারিখ ছিল আগামী ২ নভেম্বরর। তবে পেটের মধ্যে নবজাতক নরাচরা কম করার কারণ জানতেই তারা ওই ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করান। তবে পরীক্ষার পর পরিস্থিত সুখকর নয় বলায় ওই দিন বিকাল ৩ টার দিকে এ ক্লিনিকেই কাজলীর অপারেশন করা হয় এবং একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। তার অপারেশন করেন, সরকারী মা ও শিশু কেন্দ্রের গাইনী কনসালটেন্ট ডাঃ সামসুন্নাহার বেবি। সাথে ছিলেন এ্যানেছথেশিয় চিকিৎসক ডাঃ রইসুল ইসলাম ও সিনিয়ন নার্স জোহোরা বেগম।
কাজলীর বোন জোসনা বেগম বলেন, জন্মের পর নবজাতকের শরীর থেকে জ্বর না যাওয়ায় চিকিৎসা শুরু করেন, শিশু বিশেষজ্ঞা ডাঃ আব্দুল কুদ্দুস। ওই চিকিৎসক তার প্রেসক্রিপশনে নবজাতককে মেক্সবেগ নামক একটি ইনজেকশনের ৩ ভাগের ১ ভাগ করে শরীরের পুশ করার নির্দেশনা প্রদান করেন। এতে করে গতকাল সকাল পর্যন্ত নবজাতকটি অনেকটাই সুস্থ্য হয়ে উঠতে শুরু করে। তবে গতকাল সকাল ১০ টার দিকে ক্লিনিকের নার্স সুমা কুন্ডু নিয়ম উপেক্ষা করে ইনজেকশনের ৩ ভাগের ২ ভাগ নবজাতকের শরীরে পুশ করেন। ওই ইনজেকশন পুশ করার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই নবজাতকটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। ওই ঘটনাটি ছড়িয়ে পরলে সেখানে রাজবাড়ী থানা পুলিশ ও সংবাদ কর্মীরা ছুটে যান।
শিশুটির মা কাজলী বেগমও একই দাবী করে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন এবং বলেন, নিয়ম মাফিক ইনজেকশন দেয়া হলে তার মেয়েটি বেঁচে থাকাতো। তিনি সে সময় ওই ঘটনার বিচার দাবী করেন।
তবে ক্লিনিকের কর্তব্যরত নার্স সুমা কুন্ডু দাবী করেন, নবজাতককে তিনি সঠিক পরিমাপেই ইনজেকশন পুশ করেছেন। শিশুটি জন্ম থেকেই অসুস্থ্য ছিল। যে কারণে সে মারা গেছে। এখানে তার কিছুই করার নেই।
কাজলীর মামা কামিল সরদার জানান, বিষয়টি নিয়ে দুপুর ১ টার দিকে তাদের সাথে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অনুষ্ঠানিক ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। কাকলীকে আরো ৪ দিন ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করাসহ মোটা অংকের অর্থদন্ড প্রদানের পরই নবজাতকের লাশ তারা বাড়ীতে নিয়ে দাফন করেছেন। তবে কত টাকায় বিষয়টির নিস্পত্তি হয়েছে তা তিনি বলতে অস্বীকার করেন।
বিষয়টির মিলমিল হয়ে যাওয়ার কথা শিকার করে ক্লিনিকের কর্মকর্তা বিকাশ কুমার সরকার জানান, ক্লিনিক মালিক সাখওয়াত হোসেনের ভাই আজমীর হোসেন, মৃত শিশুর নানা হবিবর বিশ্বাস, দাদা সামাদ সেখসহ কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তি ওই নিস্পত্তি সভায় উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা কোন অর্থদন্ড প্রদান করেননি বলে জানান।
রাজবাড়ী থানার এসআই নাজমুল হুদা জানান, তিনি ঘটনার পর পরই ওই ক্লিনিকে গিয়েছিলেন। তবে মৃত শিশুর অভিভাবকরা থানায় কোন অভিযোগ না করায় বিষয়টি আমলে নেয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।

(Visited 484 times, 1 visits today)