চার্টার্ড লাইফের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা ! মূল হোতার বিরুদ্ধে থানায় মামলা

রাজবাড়ী বার্তা নিউজ :

Rajbari- (1)- 03.09.2015

দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত বীমা কোম্পানী “চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিঃ” এর নাম ব্যবহার করে রাজবাড়ীতে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে শত শত বেকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে ফাঁকা চেক, নগদ টাকা ও বাধ্যতামূলক পলিসি খোলার নামে প্রিমিয়াম হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। আর প্রতারণার খবর ফাঁস হওয়ার পর থেকেই প্রতারক চক্রের মূল হোতা সিকদার লিটন গাঁঢাকা দিয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মূল হোতা সিকদার লিটনকে প্রধান আসামী করে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা মামলাটি দায়ের করেছেন, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড-এর কোম্পানী সচিব হোছাইন সুমন।
জানাগেছে, এ বছরের ১ জুলাই রাজবাড়ী শহরের প্রাণ কেন্দ্রে সজ্জনকান্দা এলাকায় (রাজবাড়ী ক্লিনিকের পিছনে) জনতা ব্যাংকের অবঃ কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন জোয়াদ্দারের মালিকানাধীন ৫ নং ওয়ার্ডের ৪৯/১ নং বাসা ভাড়া নিয়ে জনৈক সিকদার লিটন শুরু করেন চার্টার্ড লাইফের কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটির কোন সাইনবোর্ড স্থাপন করা না হলেও শাখা অফিস হিসেবে এখান থেকেই পরিচালিত হতে থাকে কর্মী সংগ্রহসহ সবধরণের কার্যক্রম। রাজবাড়ী শহরের বিভিন্ন অলি-গলি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ অফিস-আদালতের দেয়ালে একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকদের নাম ব্যবহার করে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। এতে শত শত বেকার যুবক-যুবতী প্রলুব্ধ হয়ে চাকুরী পাবার আশায় আবেদন পত্র জমা দেয়। আর আগ্রহীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে বীমার প্রিমিয়াম হিসেবে আদায় করা হয় ১৪শ -২ হাজার টাকা। যারা অফিসে বড় পদে কাজ করবেন তাদের বাড়তি নিরাপত্তা হিসেবে দিতে হয় নিজ নামীয় ব্যাংক হিসাবের ফাঁকা চেক।
দেশের বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারী টিভি চ্যানেল – এর সম্পৃক্ততা রয়েছে চার্টার্ড লাইফের সাথে এমন প্রচারণায় বেকার যুবক-যুবতীরা রীতিমত লাইন দিয়ে ভীড় করতে শুরু করে রাজবাড়ীর এই শাখা অফিসটিতে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কোন সাইন বোর্ড স্থাপন না করা, বিভিন্ন অজুহাতে বাড়ীর মালিকের সাথে ডিড না করা এবং বাছাইকৃত কর্মী বা কর্মকর্তাদের নিয়োগপত্র প্রদান না করায় সকলের মধ্যেই কৌতুহল শুরু হয়। অনেকেই কৌতুহল বশতঃ ওই চ্যানেল-এর ঢাকা ও স্থানীয় কার্যালয়ে যোগাযোগ শুরু করে। আর তখনই পরিস্কার হয়ে যায় রাজবাড়ীতে চার্টার্ড লাইফের কোন শাখা অফিস নেই।
এ খবর জানার পর স্থানীয় সাংবাদিকরা চার্টার্ড লাইফের কথিত ওই শাখা অফিসে যান। সেখানে সাক্ষাত মেলে ইউনিট অফিসার দিলীপ চন্দ্র মজুমদার, রোকেয়া খাতুন ও অফিস সহকারী মেহেদী হাসানসহ অন্যান্যদের। তাদের সাথে আলাপচারিতায় উঠে আসে রাজবাড়ীতে এ পর্যন্ত পরিচালিত কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
ইউনিট ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র মজুমদার জানায়, বিজ্ঞাপন দেখে তিনি এখানে এসেছেন। তাকে ইউনিট ম্যানেজার হিসেবে চাকুরী নিতে বীমা ছাড়াও একটি ফাঁকা চেক প্রদান করতে হয়েছে।
একইভাবে ইউনিট ম্যানেজার হিসেবে চাকুরী পেতে নিজের সহ ৮/১০ টি বীমা করেছেন রামকান্তপুরের রোকেয়া আক্তার, রায়নগরের তাহমিনা আক্তার সহ অনেকেরই। অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করতে কাজীবাধার নওশের মোল্লার পুত্র মেহেদী হাসানকে বাড়তি নিরাপত্তা স্বরুপ দিতে হয়েছে নিজ নামীয় ব্যাংক হিসাবের একটি ফাঁকা চেক।
যে বাড়ীতে চার্টার্ড লাইফের কথিত শাখা অফিস স্থাপন করা হয়েছে ওই বাড়ীর মালিকের স্ত্রী এমিলি পারভিন জানান, ১ জুলাই এই কোম্পানীর লোক মাসিক ৪ হাজার ৫০০ টাকার ভাড়ায় তাদের বাড়ী ভাড়া নিয়েছে। কিন্ত মাস শেষে পরিশোধ করেছে ৪ হাজার টাকা। আগস্ট মাসের ভাড়া এখনও বকেয়া রয়েছে। আর বাড়ী ভাড়ার ডিড অফ এগ্রিমেন্টের জন্য শুরু থেকেই বলা হচ্ছে। আজকাল করতে করতে দুমাস পেড়িয়ে গেছে। বাড়ীর মালিকের কাছে প্রদত্ত বায়োডাটায় চার্টার্ড লাইফের বৃহত্তর ফরিদপুরের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচয় প্রদানকারী সিকদার লিটনের পিতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে মোঃ সিদ্দিক সিকদার, মাতা- পিয়ারা বেগম, গ্রাম- পুঁইশুর পশ্চিমপাড়া, ডাকঘর- হাতিয়াড়া,উপজেলা- কাশিয়ানী, জেলা-গোপালগঞ্জ। প্রচারিত বিজ্ঞাপনে সিকদার লিটনের যে চারটি মোবাইল ফোন নম্বর (০১৯৫১-৭১৭১৭৮,০১৮১৯-৯৩৫৭৫৩,০১৬২৭-৮৩৮৩৯৬,০১৯২০-২০৪০৫৩) উল্লেখ করা হয়েছে তা সময়ই বন্ধ থাকে। ফলে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড-এর কোম্পানী সচিব হোছাইন সুমন জানান, প্রতারক চক্রের বিভিন্নমুখী প্রতারণায় প্রতিষ্ঠিত অনেক কোম্পানীই ইমেজ সংকটে পড়ে। রাজবাড়ীতে এখন পর্যন্ত চার্টার্ড লাইফের কোন শাখা অফিস নেই এবং কাউকে অফিস পরিচালনার দায়িত্ব কিংবা প্রাথমিক অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। যে কারণে প্রতারক সিকদার লিটনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোপূর্বে ফরিদপুরে সিকদার লিটন একই ভাবে প্রতারনা করায় তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় গত ১ জুন সাধারণ ডায়রী করা হয়।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী থানার এসআই খান বিল্লাল হোসেন জানান, ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তৎপড় রয়েছে।

(Visited 53 times, 1 visits today)