দাম নেই বাজারে, গাছেই পাকছে কাঁঠাল, খাচ্ছে পশু-পাখিতে

বার্তা নিউজ :

Rajbari- (1)- 12.07.2015

রাজবাড়ী সদর উপজেলার সর্বত্র কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিটি গাছে এত বেশি কাঁঠাল ধরেছে যে মানুষের এখন কাঁঠাল খাওয়াতে অভক্তি এসে গেছে। যদিও অল্প টাকায় বাজারে মিলছে বিশাল আকৃতির কাঁঠাল। সেজন্য কেউ কেউ গাছের কাঁঠাল, গাছেই রেখে দিয়েছেন। ফলে গাছেই পেকে যাচ্ছে ওই সব কাঁঠাল, আর খাচ্ছে তা পশু-পাখিতে। অনেকের গাছের কাঁঠাল ফেলে দিচ্ছেন খালে, কেউ আবার দীর্ঘ দিন ধরে খাবার আশায় কাঁঠালের বীজ সংরক্ষন করছেন। তবে কৃষিবিদরা শুধু বীজ নয় কাঁঠালের খাবার উপযোগি অংশ সংরক্ষন নিয়ে ভাবছেন।
এক সময় রাজবাড়ী সদর উপজেলায় কাঁঠালের তেমন আধিক্ষ ছিল না। প্রতি বছর বন্যায় মারা যেত অসংখ্য কাঁঠাল গাছ। কিন্তুু বন্যা রুখতে নদী ঘেষে বেড়িবাধ দেওয়ায় আর বন্যা হয় না বলে সদর উপজেলায় বর্তমানে ৭৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল গাছ মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে। আর এ থেকে কাঁঠাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে ৮ শ মেক্টিক টন।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা গেল, ফলন বেশি হওয়ায় গাছ থেকে সংগ্রহ করা কাঁঠালের স্থান হয়েছে ঘরের বারান্দায় অথবা উঠানে। কম দামের কারনে গাছের কাঁঠাল বাজারে বিক্রি না করে প্রতিবেশি ও আতœীয়দের মধ্যে বিতরন করছেন। কেউ আবার এলাকার শিশু কিশোরদের ডেকে এনে প্রতিযোগিতার মতো কাঁঠাল খাওয়াচ্ছেন। অনেকে আবার কাঠাল বীজ গুলো সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে তা সংরক্ষণ করছেন। স্বাদ একটু কম থাকালে সে কাঁঠায় হয় ফেলে দিচ্ছেন, নতুবা দিচ্ছে গরুর খাবারের চাড়িতে।
তবে কাঠালের এই দুরাবস্থার তা সংরক্ষন করা নিয়ে ভাবছেন কৃষিবিদরা। তাই স্বল্প সময়ের অধিক শক্তিশালী উপাদানে ভরপুর দেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল দিয়ে জুস-জ্যাম, জ্যালি চাটনি ক্যানডি,ইত্যাদি ছাড়াও বিভিন্ন মিষ্টি উপকরন তৈরির পর সংরক্ষন করে বার মাস কাঁঠালের স্বাদ ও গুনাগুন গ্রহণ করা যায়। এছাড়া বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমেও অর্থ উর্পাজন করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার কৃষিকর্মকর্তা মোঃ রকিব উদ্দিন।
তিনি আরো বলেন, কাঁঠাল খেলে রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রনসহ ধ্রতযন্ত্র ভাল থাকে। অল্প পানিতে মরনশীল কাঠাল গাছ লাল মাটিতে ভাল হয়। প্রতি ১ শ গ্রাম কাঁঠালে ক্যালরির পরিমান ৯৫.গ্রাম, ফ্যাট ৬ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ২৩ গ্রাম, আশ ১.৫ গ্রাম, প্রটিন ১.৭ গ্রাম, ভিটামিন এ ৫ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন সি ১৩.৮ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৪ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২১ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৪৪৮ মিলিগ্রাম, খাদ্যগুন রয়েছে।

(Visited 71 times, 1 visits today)