পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌনহরানী, গ্রাম্য সালিশে রাজবাড়ীতে শিক্ষককে রক্ষার চেষ্টা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

DSC77702355

 

স্কুলের শিক্ষক কর্তৃক পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌনহারানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যদিও এ ঘটনা ধামা চাপা দিতে ওই শিক্ষক প্রভাবশালীদের দিয়ে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করে। সালিশে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের দোষ শিকার করে ওই ছাত্রীর বাবা ও মার কাছে ক্ষমা চান এবং আর্থিক দন্ড প্রদানেরও চেষ্টা চালান। তবে ওই ছাত্রীর পরিবার লম্পট শিক্ষকের বিচারের দাবী করেছেন। সেই সাথে আর কোন মেয়ে যাতে শিক্ষক নামের এমন দুচরিত্র ব্যক্তির কাছে গিয়ে বিপদে না পরে তারও প্রতিকার চেয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ী থানায় অবস্থান করা ওই ছাত্রীর মা বলেন, তারা অত্যান্ত দরিদ্র একটি কৃষক পরিবার। অল্প টাকায় মেয়েকে প্রাইভেট পড়ানোর লক্ষে রাজবাড়ী জেলা সদরের বাণিবহ ইউনিয়নের লক্ষিনারায়নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালাউদ্দিন খান ওরফে আলম মাষ্টারের হাতে তুলে দেন তার পঞ্চম শ্রেণীতে পড়–য়া বড় মেয়ে (১৩) কে। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত ওই শিক্ষক নিজ বাড়ীর একটি ঘরে তার মেয়েসহ একই বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ায়। তবে মাঝে মধ্যেই ওই শিক্ষক তার মেয়ের পড়া হয়নি বলে অন্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেন এবং তার মেয়েকে শাররীক ভাবে যৌনহয়রানীর চেষ্টায় লিপ্ত হন। গত ১৮ আগষ্ট সকালে হঠাৎ করেই তার মেয়ে আর ওই শিক্ষককের কাছে প্রাইভেট পড়তে যেতে রাজি হচ্ছিল না। তিনি তার পরও জোড়পূর্বক মেয়েকে ওই শিক্ষকের কাছে পাঠান। তবে তার মেয়ে ওই শিক্ষকের বাড়ী থেকে পালিয়ে আসে। সে সময় পালিয়ে বাড়ী ফিরে আসার কারণ জানতে মেয়েকে চাপ দেন। চাপের ফলে সে জানায় এ পর্যন্ত তিন বার ওই লম্পট শিক্ষক তাকে শাররীক ভাবে যৌনহারানী এবং বিদ্যালয়ের মধ্যেও একাধিকবার তার ওড়না টেনে ধরেছে। যে কারণে সে আর ওই শিক্ষকের কাছে যেতে চায় না। এর পরই বিষয়টি ধিরে ধিরে এলাকায় ছড়িয়ে পরে। তারা মেয়েকে নিয়ে লোকলজ্জার মধ্যে পড়েন। যে কারণে ওই লম্পট শিক্ষকের হাত থেকে মেয়েকে বাঁচানো এবং ওই শিক্ষককের বিচারের দাবীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে যাবার চেষ্টা চালান। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে লেলিয়ে দেন আলম মাষ্টার।
গতকাল সকালে থানা হেফাজতে থাকা ওই ছাত্রী জানায়, আলম মাষ্টার শুধুমাত্র তাকে যৌনহয়রানী করেছে তা নয়। তাদের ক্লাসের আরো দু’জন মেয়েকেও সে একই ভাবে যৌনহয়রানী করেছে। যে কারণে আলম মাষ্টারের কাছে তার এখন প্রাইভেট পড়তে যেতে ইচ্ছা করে না।
ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, প্রভাবশালীদের চাপে তার এক স্বজনের বাড়ীতে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে গ্রাম্য সালিশে বসা হয়। সালিশে মধ্যে আলম মাষ্টার তার কৃতকর্মের জন্য প্রকাশ্য ক্ষমা চান এবং তাকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা আর্থিক দন্ড দেবার চেষ্টা চালান। তবে তারা ওই টাকা নেন নি। বরং তারা ওই লম্পট শিক্ষকের বিচার দাবী করেন। যে কারণে গত বুধবার বিকালে তারা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে দেখা করেন এবং মৌখিক ভাবে তাকে তাদের অভিযোগের বিষয়টি অবহিত করেছেন।
ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং বানিবহ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মন্টু জানান, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালাউদ্দিন খান আলমের স্ত্রী, ১ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তান রয়েছে। নিজ বাড়ীতেই প্রাইভেট পড়ান। তবে মাঝে মধ্যে স্ত্রী তার সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়ীতে বেড়াতে গেলে আলম মাষ্টার পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীদের যৌনহয়রানী করে থাকেন। কয়েকদিন আগে পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌনহয়রানী করার বিষয়টি প্রকাশ পায় এবং গ্রাম্য সালিশে ওই শিক্ষক তা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের আইনের আশ্রয় নেবার পরামর্শও প্রদান করেছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক সালাউদ্দিন খান ওরফে আলম মাষ্টার জানান, তার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্তে লিপ্ত হয়েছে। তিনি ছাত্রীদের শাসন করেন। তবে তাদের কোন যৌনহয়রানী করেননি। “তাহলে গ্রাম্য সালিসে প্রকাশ ক্ষমা চাওয়া এবং অর্থদন্ড দেয়ার চেষ্টা কেন করেছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে কোন উত্তর না দিয়ে তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন।”
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের আপন দুলাভাই ওহিদুজ্জাদান ওরফে ওহেদ মাষ্টার জানান, সহকারী শিক্ষক সালাউদ্দিন খান আলম কর্তৃক ছাত্রীদের সাথে যৌনহয়রানীর কোন বিষয় তার জানা নেই। তবে আলম মাষ্টারকে নিয়ে গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা নুর মহল আসরাফি জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তা খতিয়ে দেখে ওই শিক্ষককের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, একজন অভিভাবক শিক্ষকের কাছে সন্তানকে পাঠিয়ে যদি নিশ্চিন্তে না থাকেন, তাহলে কার উপর বিশ্বাস করবেন। ওই শিক্ষক দায়ি হলে তাকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।
রাজবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল বাশার মিয়া বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে লম্পট শিক্ষক সালাউদ্দিন খান ওরফে আলম মাষ্টারের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

(Visited 452 times, 1 visits today)