শিশু রাব্বিকে হত্যার প্রতিবাদে পাঁচুরিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা, গ্রেপ্তার ১-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

RAJBARI - (3)-27.07

চতুর্থ শ্রেণীতে পড়–য়া মাদ্রাসা ছাত্র রাব্বি সেখকে নির্মম ভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ ইউসুফ সেখ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত জেলা সদরের পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের প্রধান সড়কে এ কর্মসূচী পালন করা হয়। ওই কর্মসূচীতে চর আন্ধার মানিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হবিবুর রহমান, মরডাঙ্গা মাদ্রাসার শিক্ষক আলতাফ হোসেন, শিশু রাব্বির নানী সাহেদা বেগম, খালা শিল্পী বেগম, একমাত্র বোন মুক্তা খাতুন বকৃতা করেন। এতে চর আন্ধার মানিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মরডাঙ্গা মাদ্রাসার এবং মরডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এলাকার কয়েক সহ¯্রাধিক বাসিন্দা অংশ গ্রহণ করেন। বক্তারা নির্মম এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শান্তির দাবী জানান।
রাজবাড়ী থানার এসআই আবু হানিফা জানান, এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাজবাড়ী থানায় একই এলাকার রিয়াজ ও শাকিল গাজীকে চিহ্নিত করে এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো কয়েকজনকে আসামী করেন রাব্বির নানা মোহন মল্লিক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। একই দিন বিকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে একই ইউনিয়নের মড়ডাঙ্গা গ্রামের আলেক সেখের ছেলে ইউসুফ সেখ (২০) নামে এক যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার পূর্বক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেই সাথে অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, নিখোঁজের তিন দিন পর চতুর্থ শ্রেণীতে পড়–য়া মাদ্রাসা ছাত্র রাব্বি সেখ (১৩) -এর অর্ধগলিত লাশ গত সোমবার দুপুরে পুলিশ উদ্ধার করে। দূর্বৃত্তরা রাব্বিকে আঘাত ও স্বাসরোধে নৃশংস ভাবে হত্যার পর পুকুরের দেয়া পাট জাগের নিচে লাশ লুকিয়ে রাখে। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি রাজবাড়ী জেলা সদরের পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের মরডাঙ্গা গ্রামে ঘটে। নিহত রাব্বি মরডাঙ্গা মাদ্রাসার ছাত্র ছিল। সে পাশ্ববর্তী খানখানপুর ইউনিয়নের নতুন বাজার গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী সেখের ছেলে।
রাব্বির অটো রিকশা চালক মামা জাহিদ মল্লিক বলেন, রাব্বিরা দুই ভাই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। দশ বছর পূর্বে তার বাবা মোহাম্মদ আলী সেখ মারা যান। এর পর থেকে তার বোন হাসিনা বেগম ছেলে রাব্বি ও মেয়ে মুক্তি খাতুনকে নিয়ে একই ইউনিয়নের গুপ্তমানিক গ্রামে থাকা তাদের বাড়ীতে এতে ওঠেন। তিন মাস আগে হাসিনা বেগম ছেলে ও মেয়েকে তাদের নানি সাহেদা বেগমের কাছে রেখে সৌদি আরবে যান। বর্তমানে হাসিনা বেগম সৌদি আরবেই চাকুরীরত অবস্থায় রয়েছেন। আর দুই মাস আগে মেয়ে মুক্তি খাতুনকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। মুক্তি তার স্বামীর সাথে রাজধানী ঢাকায় থাকে। শিশু রাব্বি নানির কাখে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।
রাব্বির আরেক মামা খোকন মল্লিক বলেন, গত শুক্রবার বিকালে নানিকে বলে রাব্বি বাড়ীর বাইরে যায়। এর পর থেকেই তাকে আর খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনার পর তারা নিকট স্বজনদের বাড়ীতে খোঁজ করা এবং এলাকায় মাইকিং করা পর্যন্ত করেন। তার পরও রাব্বির কোন সন্ধান তারা পাচ্ছিলেন না। গতকাল সোমবার সকাল ১০ টার দিকে নানা বাড়ী থেকে আধা কিলো মিটার দুরে থাকা জনৈক কাশেম পাটোয়ারীর পুকুরে দেয়া একটি পাট জাগের নিচে স্থানীয়রা রাব্বির লাশ দেখতে পান। এ সময় তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এবং লাশ সনাক্ত করেন। তবে কারা কি কারণে রাব্বিকে এমন নৃশংস ভাবে হত্যা করেছে তা তিনি জানাতে পারেননি। তিনি এ ঘটনার হেতাদেও খুজে দৃষ্টান্ত মূলক শান্তির দাবী জানান।

(Visited 77 times, 1 visits today)