এবার লাভের আসা করছেন বালিয়াকান্দির আম চাষী সাঈদ –

লিটন চক্রবর্তী, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

10

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইলিশকোল গ্রামের যুবক সাইদের আম বাগান গত বছরের প্রকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। তবে এবার তার আম বাগানে ফলন অধিক পরিমানে এসেছে। চলছে পুরোদমে পরিচর্যার কাজ। ফলে এবার সে বিগত বছরের লোকশানের কাটিয়ে উঠবেন বলে মনে করছেন।
বালিকান্দির বহরপুর ইউনিয়নের ইলিশকোল গ্রামের মৃত বাহাদুর আলী খানের পুত্র মোঃসাইদুল ইসলাম খান সাইদ।ছোটকাল থেকেই গাছ গাছালি রোপন বোপনের ওপর ঝোঁক ছিলো তার। সে জন্য বাড়ীর ওপর ছোট্ট পরিসরে আম,লিচু আর মেহগুনির নার্সারী করে টুকটাক চরা বিক্রি করতো।
এরই ভেতরে তার দেশের একমাত্র এক্রোবেটিক সেন্টারে তার কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হলে সে এক পর্যায়ে নিজ দক্ষতার বলে সেন্টারের ক্যাপটেন হয়ে যায় এবং ভালো স্যালারি পেয়ে সুন্দর জিবন যাপন করতে থাকে।সাথে কর্মচারীদের দিয়ে চালানো নার্সারীর পরিসর বৃদ্ধি করে।হঠাৎ করে সেন্টারের সদস্যদের সম্মানী দেয়া সরকার থেকেই বন্ধ হয়ে গেলে সকল সদস্য বেকার হয়ে হতাশায় পড়লেও সাইদ কিন্তু বসে থাকেনি।সে নেমে যায় তার নার্সারির কজে।
সাইদ জানান,বেকার হবার আগে যখন রাজশাহী সহ সারা দেশে এক্রোবেটিক শো করতাম তখন বড় বড় ফলজ বনজ বাগান দেখে সেখান থেকেই বাগান করবার চিন্তা মাথায় ঢোকে।তাই বেকারত্ব ঘোচাতে মাঠে নামা।
প্রথমে সে ৫০ শতাংশ জমিতে শতাধীক আম,৮ টি লিচু সহ ২/১ টি করে কতবেল,জামরুল ও চারপাশে মেহগুনি আর নিমের গাছ লাগাই।পরের বছর সব আম গাছে মুকুল আসলে এগুলো ভেংগে দেই।এর পরের বছর সামান্য আম আসলে তা আত্মিয় স্বজন মিলে খেয়ে ফেলি।এর পরের বছর ১৮/২০ মন আম ধরলে তা বেচে ২৫ হাজার টাকা কামাই করি আর ১২/১৩ মন আম নিজেরা খাই।এর পর বছর থেকে আম উৎপাদন দ্বিগুণ হয়।

এর পরের বছর থেকে একে একে দেড় একর জমিতে ২০০ টি আম্রপালি,হীম সাগর ইত্যাদি উচ্চ ফলনের আম গাছ পূর্ণাঙ্গ রুপ নিয়েছে তার বাগানে।তার পরিসংখ্যান মতে ১৩ সালে ২লক্ষাধীক টাকার আম বিক্রি করে সকলে খাবার পরেও। তবে গত বছর ফলনের শেষ দিকে একটানা দশ দিনের বৃষ্টিতে অতিরিক্ত বাতি হওয়া আমগুলো ফেটে যায়।যার পরিমান দাড়ায় ২০০মনের অধীক। সে বছর স্থানীয় কৃষি অফিস পর্যন্ত কোনো সহায়তা দিতে পারেনি।এর পরেও প্রায় ১লক্ষ ৩৫হাজার টাকার আম বাজারে বা বাগান থেকে বিক্রি করেছি।
সাইদ জানায়,এবছর তার এলাকার উপ সহকারি কৃষিকর্মকর্তা মোঃআশরাফ আলীর ব্যাপক সহায়তা নিয়ে সে ছত্রাক নাশক, কীটনাশক,চুন ও তুতের মিস্রন,শুকনা নিম পাতা পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি স্প্রে করেছি।আবার মাছি পোকা নিয়ন্ত্রন করতে ২৫টি বয়েমে সেক্সফেরোমন ফাঁদ বানিয়ে তা গাছগুলোতে ঝুলিয়ে দিয়েছি।
সাইদ আরো জানায়,এবার প্রথমে খড়ায় আম ঝড়ে যায় এরপর ঝড়েও অনেক আম পড়ে যায়।আমগুলো এখন রং আসতে শুরু করেছে সেই সাথে বেড়ে চলছে মাছি পোকার তান্ডব।এবারের আম গত বারের চেয়ে কম হলেও সাইজ ভালো আর দেখতে সুন্দর হয়েছে।দুর্যোগ মুক্ত ভাবে আম পাঁকাতে পারলে সকলে খেয়েও ৩লক্ষাধীক টাকার আম বিক্রি করতে পারবে।
এদিকে বাগানটিতে সার্বক্ষনিক ১জন এবং কখনো কখনো ৫/৬জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।স্থায়ী কর্মচারি মোঃহাসান মোল্লার সাথে কথা হলে সে জানায় ১২মাস বাগানে কাজ করি।আমরা বাগানের আমে কোন মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ স্প্রে করিনা বলে বেশির ভাগ আম বাগান থেকেই বিক্রি হয়ে যায়।সারা বছর প্রতিক্ষার পর যখন আম পাঁকে তখন প্রাণ ভরে মন ভরে আম খাই আর বাড়ীতে নেই।

(Visited 92 times, 1 visits today)