ঢাকাFriday , 2 September 2022

“৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সিডও দিবস” : লেখক – শারমিন রেজা লোটাস

Link Copied!

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সিডও দিবস, ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারন পরিষদে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডিও) গৃহীত হয়। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র গুলোর স্বাক্ষরের মাধ্য দিয়ে ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সনদটি কার্যকর হতে শুরু করে, এরপর থেকেই এই সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ গুলো প্রতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর কে আন্তর্জাতিক সিডও দিবস হিসেবে পালন করে।


নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) ইংরোজীদে যা “Convention on the Elimination at all forms of Discrimination against women’’ (CEDAW) নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারন পরিষদে গৃহীত হয়। ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সনদটি কার্যকর হতে শুরু করে। এ পর্যন্ত ১৮৫ টিরও বেশি দেশ সিডও সনদ গ্রহন করেছে। এদের মধ্যে প্রায় ১৬০টি দেশ সিডও সনদের ধারা গুলো তাদের জাতীয় সংবিধান ও আইনে যুক্ত করার উদ্দ্যেগ নিয়েছে। এই স্বাক্ষরকারী দেশ সমূহের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
পুরুষের পাশাপাশি নারীকে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কুতিক প্রভৃতি পরিমন্ডলে সম্পৃক্ত করা তথা সমান অধিকার প্রদান করাই সিডও এর মূল লক্ষ্য।


সিডিও এর পূর্ণ অভিব্যক্তি (Convention on the Elimination of all Forms of Discrimination against Women. অর্থাৎ নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ। এ সনদে নারীর প্রতি বৈষম্য (Discrimination against women) বলতে বুঝানো হয়েছে Any distinction exclusion of restriction made on the basic of sex which effect the recognition, enjoyment on of men and women of human rights and fundamental freedoms in the political, economic social cultural or any other field.

নারীর প্রতি বৈষম্য বলতে বুঝাবে পুরুষদের ভিত্তি যে কোন পার্থক্য বঞ্জনা অথবা বিধিনিষেধ যার মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাগরিক অথবা অন্য যে কোন ক্ষেত্রে মৌলিক স্বাধীনতা স্বীকার করেও নেয়া, তা ভোগ করা অথবা বৈবাহিত অবস্থা নিবিশে পুরুষ ও নারীর সমতার ভিত্তিতে নারীর দ্বারা তার ব্যবহার বা চর্চা ক্ষতিগ্রস্থ অথবা দরকার মত প্রভাব বা সিডও সনদে ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মাসে কার্যকারী হয়। এ সময় থেকে বিশে^র বিভিন্ন দেশে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ব্যতীত বিশে^র ১৬০টি দেশের জাতীয় সংবিধান ও আইনে এ সনদের ধারা যুক্ত করার উদ্দ্যেগ গৃহিত হয়েছে।
নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরনের প্রত্যয় নিয়ে গৃহীত সিডও সনদ নারী ও পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মানবাধিকারের সর্বজনীনতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বাংলাদেশ জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৮৪ সালের ৬ নভেম্বর সিডও সনদ অনুমোদন করে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহিত সিডও সনদ ১৯৮১ সালে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকারী হয়। এ সময় থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র সমূহ।


এ সনদটি মূলত তিনটি প্রেক্ষিতে সমস্যা সমন্বয়ের নির্দেশ দেয়। ক. নারীর নাগরিক অধিকার ও আইন সমতা নিশ্চিতকরণ যার মাধ্যমে নারী গণজীবনে ও সমাজে পুরুষের সমপর্যায়ে সব সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। খ. নারীর প্রজনন ভূমিকাকে সামাজিক ভূমিকা হিসাবে গণ্য করা যাতে প্রজনন কারনে নারীর অবদানকে স্বীকৃতী দেওয়া। গ. আচার-প্রথা, সংস্কার ও বিধি যা নারীর জেন্ডার ভূমিকা নির্ধারণ করে, তা বাতিল করা।
পরিবার ও সমাজে শুধু মানুষ হিসেবে নারীকে সম্মন করা এবং পুরুষের ক্ষমতা ভিত্তিতে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সিডও একমাত্র আন্তজার্তিক চুক্তি বা সনদ, যা শুধু নারী সংক্রান্ত জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহিত ৬০ টির অধিক সনদ বা চুক্তির মধ্যে ৭টি সনদ কে মৌলিক বা মানবধিকার চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িক করা হয়। তার মধ্যে সিডও সনদ অন্যতম। বিশে^র ১৮৬ টিসদস্য রাষ্ট্র সিডও সনদে স্বাক্ষর করেছে।
বাংলাদেশে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন নীতিমালা আছে যেমন, তেমনি এসব হাতিয়ার প্রনীহাও আছে। নারী আন্দোলন নেত্রীরা বলছেন, আশির দশকে নারীর প্রতি বৈষম্য বলোপ সনদ (সিডিও) শর্ত দিয়ে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সেটা আরও প্রকট হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নারী অধিকার আন্দোলন এগিয়ে গেলেও নীতি নির্ধারকদের কারনেই বারবার পিছিয়ে পড়তে হয়।


প্রসাঙ্গিক ভাবেই উল্লেখ্য যে জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, মালদ্বীপ, ওমান, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, তুরুস্ক সহ অনেক মুসলিম দেশই ২ নং ধারায় কোন আপত্তি না রেখেই সিডও সনদ অনুমোদন করেছেন। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানে ১০,১৯,২৭,২৮ ও ২৯ ধারায় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার বিষয় মানবধিকার হিসেবেই স্বীকৃতি হয়েছে। নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সমাজ এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সিডিও সনদ সংরক্ষণ প্রত্যাহার এবং অনুমোদন আজ সময়ের দাবী। আমরা চাই ধরা দুটির শর্তাবলী প্রয়োগে বাংলাদেশ তার সংবিধান ও প্রচলিত আইনের বিধান বলির সঙ্গে সামঞ্জস্য ঘটাবে। বাংলাদেশের নারী সমাজ এবং সচেতন নাগরিকগণ উদ্বেগের সঙ্গে অপেক্ষায় রয়েছে কখন সিডও সনদ পূর্ণাঙ্গ ভগৃহিত হবে বিদ্যমান বৈষম্য মূলক ব্যবধান ঘুচবে।


লেখক -শারমিন রেজা লোটাস, সংগঠনিক সদস্য, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, রাজবাড়ী জেলা শাখা।

(Visited 54 times, 1 visits today)