বালিয়াকান্দির ৭ ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের শঙ্কা বাড়ছে –

সোহেল রানা, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

6nn65

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-২০১৬ , ২৩এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীরা সুষ্টু ভোট নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।
বালিয়াকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান বলেন, আচরন বিধি লঙ্গনের মহোৎসব চলছে। এর কোন প্রতিকার নেই। ওসমান গণি মানিক বলেন, নির্বাচন একটি উৎসব। সুন্দর ভাবে প্রচারনা চালাতে পারছি। প্রশাসনকে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। খোন্দকার মশিউল আযম চুন্নু বলেন, শান্তিপুর্ণ ভাবে নির্বাচন করতে পারছি। ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে পারবে নিশ্চিত করতে হবে। ওয়াপদা মোড়ে সরকারী দলের প্রার্থী লাইটিং করে অফিস করেছে। আলমগীর বিশ্বাস বলেন, শ্রমিকলীগ নেতা ইদ্রিস আলী ফকির তার কর্মীদেরকে হুমকি দিচ্ছে। তিনি সুষ্টু নির্বাচনের আশা করেন। নায়েব আলী শেখ বলেন, সুষ্টু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবী জানাই। ভুলেন্দ্রনাথ রায় বলেন,আচরণ বিধি লঙ্গন ও অবাধ, সুষ্টু নির্বাচণের আশা করছি। ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আহম্মদ আলী মাষ্টার বলেন, আবুল হোসেন খান বিএনপি থেকে মনোনয়ন এনে তিনি সতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার ভাই পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা। হুলাইল মোড়ে ও নতুননগর বাজারে নৌকা প্রতিক ভেঙ্গে ফেলেছে। আবুল হোসেন খান বলেন, নৌকা মার্কার প্রার্থী আহম্মদ মাষ্টার হুমকি দিচ্ছে। ৩টি ওয়ার্ডে প্রচারনা চালাতে পারছেন না। ১টি নির্বাচনী অফিস খুলতে গিয়ে বাধার সম্মুখিন হয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হান্নান মাষ্টারের হস্তক্ষেপে করতে পেরেছি। ষড়যন্ত্রমুলক ভাবে নতুননগর বাজারে নৌকা প্রতিক ভেঙ্গে ফেলে রাতের অন্ধকারে। সকালে আমার পোষ্টার ছিড়ে ফেলেছে। তারপর অফিস ভাংচুর করেছে। মিটিং করে ঘোষনা দিয়েছে ভোট কেটে নেওয়া হবে। জীবনের নিরাপত্তা নেই। তৌহিদুজ্জামান তপন বলেন, কোন সরকারী কর্মচারী প্রকাশ্যে জনসভায় ভোট চাইতে পারে কিনা। বহরপুর ইউনিয়নের সহকারী তহশিলদার মুন্নু সরকার সমর্থক প্রার্থীর পক্ষে ইসলামপুরে ভোট চাচ্ছে। জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী একেএম ফরিদ হোসেন বাবু বলেন, তফশীল ঘোষনার আগেই ১২ হাজার লোককে খাইয়েছি। ইউনুছ আলী সরদার ও হাবিবুল ইসলাম দেওয়ানকে আমি দু,বার নির্বাচন করেছি। কেউ যদি কোন দলীয় প্রধানকে কুটুক্তি করে তার কি সমর্থকরা ছেড়ে দিবে। এ নিয়ে থানায় জিডিও হয়েছে। আর আমার ভাইয়েরা কি রকম, আর অন্যান্যে প্রার্থীর ভাইয়েরা কি রকম তার জবাব জনগণ দেবে। ইউনুছ আলী সরদার বলেন, ৫-৬ হাজার লোককে খিচুরী খাইয়েছেন নৌকা মার্কার প্রার্থী। মাজার নিচ থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত মারা হবে যাতে প¬াস্টার করার জায়গা থাকবে না। তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভোট কিভাবে নেবে হুমকিসহ প্রচারনায় বাধা সৃষ্টি ও ভোটারদেরকে হুমকি দিচ্ছে। নিজেও ভোট চাইতে পারছে না। মীর সোহেল রানা বলেন, আমরা জনগণের সেবক। সেবা করার আগেই যদি হাত-পা ভেঙ্গে দেই, তাহলে কেমন সেবক। নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্গনের মহোৎসব শুরু হয়েছে। প্রার্থীদের সকলকে বিজয়ী ঘোষনা করলে আর হাত-পা ভাঙ্গবে না। বহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী খলিলুর রহমান খান বলেন, আজ থেকে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভুমিকা পাবো কিনা। হাটু ভাঙ্গা, গিড়ের মালই ভেঙ্গে দেওয়া হবে বলে হুমকি আসছে। ২বার কর্মীদেরকে মারপিট করা হয়েছে। রেজাউল করিম বলেন, বহরপুর অঞ্চলে ৩বার পোষ্টার লাগিয়েছি, বারংবার ছিড়ে ফেলছে। এ্যাড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভোটাররা ভীত। নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে কিনা। সঠিক গননা হকে কিনা। এজেন্টদের যেন হুমকি না দেওয়া হয়। পুলিশ টহল জোৎদার করার দাবী জানান। নারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুস সালাম মাষ্টার বলেন, নৌকা মার্কার প্রার্থীর লোকজন কর্মীদেরকে মারপিট, মাইকে প্রচার করতে গেলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। প্রকাশ্যে ভোট চাইতে পারছি না। কিভাবে আচরন বিধি লঙ্গন করবো। সুষ্টু ভাবে জনগণ ভোট দিতে পারবে তার নিশ্চয়তা কি।
আলমগীর হোসেন বলেন, নির্বাচন শান্তিপুর্ন হবে কিনা ভোটারদের মধ্যে শংশয় দেখা দিয়েছে। সুষ্টু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনকে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। নবাবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাদশা আলমগীর বলেন, ইতিমধ্যেই যে অবস্থা বিরাজ করছে, এতে নির্বাচন সুষ্টু হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে অস্ত্রধারী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আগমন ঘটেছে। ভোটারদেরকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
শাহিদুল ইসলাম বলেন, নবাবপুর উৎশৃঙ্খল এরিয়া এ জন্য প্রশাসনকে নজর রাখার জন্য অনুরোধ জানান। ইউপি সদস্য প্রার্থী নিভাষ মজুমদার, রুস্তম আলী, আঃ সালাম সিকদার সুষ্টু নির্বাচনের আশা করেন।
কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, আচরন বিধি লঙ্গনের অভিযোগ করেও কোন পদক্ষেপ পাওয়া যাচ্ছে না।

(Visited 60 times, 1 visits today)