টোকিও অলিম্পিকে সাঁতার দলের কোচ হিসেবে নেতৃত্ব দিলেন রাজবাড়ীর নিবেদিতা দাস –


রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

টোকিও অলিম্পিকে আর কোনও সম্ভাবনা নেই বাংলাদেশের কারও পদক জয়ের। শুক্রবার বিকালে অনুষ্ঠিত সাঁতারে হিট পার করার লড়াইয়ে নেমেছিলেন আরিফুল ইসলাম। সেটা করতে পারলেও ইতিহাস গড়তে পারতেন এই সাঁতারু। কিন্তু বাদ পড়েছেন হিটেই।
তবে বাদ পড়লেও ছাড়িয়ে গেছেন নিজেকে। আরিফুলের এতদিন সর্বোচ্চ টাইমিং ছিল ২৪.৯২ সেকেন্ড। দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০১৯ সালে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে ১৪.৯২ সেকেন্ডে সময় নিলেও এবার সেটিকে টপকে গেছেন। টোকিওতে ২৪.৮১ সময় নিয়ে নিজের হিটে তৃতীয় হয়েছেন ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে ইভেন্টে। এই ইভেন্টে ২৪.৭১ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয়েছেন ক্যারিবীয়ান সাঁতারু শেন ক্যাডোগান।


এবারের অলিম্পিকে বাংলাদেশকে পদকের স্বপ্ন দেখানোদের মধ্যে ছিলেন আরিফুলও। এর আগে আর্চার রোমান সানা প্রথম রাউন্ডে গ্রেট ব্রিটেনকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলেও কানাডার কাছে হেরে স্বপ্ন ভাঙেন।
অন্যদিকে, নিজের হিটে জুনায়না আহমেদও নিজের পুরনও রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন। আগের সেরা টাইমিং থেকে ১.১৮ সেকেন্ড ছেঁটে ফেলে ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলের হিট জুনায়না আহমেদ শেষ করলেন ২৯.৭৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে। যদিও নিজের হিটে আটজনে পঞ্চম হয়েছেন তিনি।


জানাগেছে, টোকিও অলিম্পিকে অংশ নেয়া বাংলাদেশের দুই সাঁতারুই বিদেশে থাকেন। আরিফ আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির বৃত্তিতে প্যারিসে উচ্চতর প্রশিক্ষণে ছিলেন। অন্যদিকে লন্ডন প্রবাসী জুনাইনা স্থায়ীভাবে সেখানেই থাকেন। তিনি লন্ডনেই নিজের অলিম্পিক অনুশীলন সেরেছেন। রাজবাড়ী জেলা শহরের সজ্জনকান্দার বাসিন্দা, সাবেক জাতীয় সাঁতারু ও বাংলাদেশ সাঁতার দলের কোচ নিবেদিতা দাস টোকিওতে দুই সাঁতারুকে শেষ মুহূর্তের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

নিবেদিতা দাস সম্পর্কে কিছু তথ্য-

তিনি ইতিপূর্বে নেপালে অনুষ্ঠিত ১৩তম সাফ গেমস ২০১৯ সালে জাতীয় মহিলা ভলিবল দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৯ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বঙ্গমাতা এশিয়ান সেন্ট্রাল জোন ওমেন ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপ এ জাতীয় মহিলা ভলিবল দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস এ বাংলাদেশ জাতীয় সাঁতার দলের টিম অফিসিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।
২০১৫ সালে থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক সাঁতার সংস্থা ঋওঘঅ আয়োজিত” ংরিসসরহম ভড়ৎ ধষষ ,ংরিসসরহম ভড়ৎ ষরভব”প্রোগ্রামে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
২০১৪ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ডড়সবহ’ং ঝঢ়ড়ৎঃং খবধফবৎংযরঢ় প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন।
২০১৪ সালে ক্রীড়া ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মান ব্লু এওয়ার্ড (২০০১) অর্জন করেন।
১৯৯৭ সালে ইরানে অনুষ্ঠিত ২য় ইসলামিক মহিলা গেমস এ খেলোয়াড় হিসেবে রৌপ্য পদক অর্জন করেন।
১৯৯৭ সালে ভারতের মুর্শিদাবাদে ৫৪ তম বিশ্ব দূরপাল্লা সাঁতারে ভাগীরথী নদীতে ১৯ কিলোমিটার ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে সফলভাবে সমাপ্ত করেন।
১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি কর্তৃক সেরা সাঁতারু এওয়ার্ড অর্জন।
১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক শামসুননাহার হল রজত জয়ন্তী স্বর্ন পদক অর্জন।
২০০৫ সালে মহিলা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পদে পাঁচ বছর চাকুরি করলেও খেলার প্রতি ভালবাসার টানে পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর পদে যোগদান করেন।
এছাড়াও তিনি ঢাকা ক্লাব,গুলশান ক্লাব,ক্লাব আমাজন সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুইমিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।
চাকুরির পাশাপাশি তিনি সংগঠক হিসেবে যে সকল দায়িত্ব পালন করছেন তা হলো :
কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন।
সম্পাদক, বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশন এর মহিলা ভলিবল কমিটি।
সদস্য, ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা।

(Visited 418 times, 1 visits today)