সৎ মায়ের অত্যাচার : দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে তরুণীকে বিক্রির চেষ্টা, যুবক গ্রপ্তার –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :


রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রির হাত থেকে রক্ষা পেল ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। মঙ্গলবার দিনগত রাতে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর প্রধানগেট থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

 এ ঘটনায় পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদর উপজেলার রাজমহল গ্রামের মো. জালালের ছেলে মো. মনির (২৫) নামে  এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ অপর আসামী পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদর উপজেলার মফিজার রহমান কলেজের পেছনে  বাদুমৃধা গ্রামের মো. শাহউদ্দিন এর ছেলে মো. মাসুম (৩০) ও অজ্ঞাত নামা আরো একজন পলাতক রয়েছে। বুধবার (৯ জুন) দুপুরে এক এজহারের মাধ্যমে এ তথ্য জানান গোয়ালন্দ ঘটি থানা পুলিশ।

এজহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিমের বাবা ও মায়ের মধ্যে ডিভোর্স হওয়ায় বাবা নতুন করে একটি বিয়ে করেন। সে বাবার কাছে থাকায় নতুন মা তাকে প্রতিনিয়ত শারিরিক, মানষিক ভাবে অত্যাচার ও খাবার কষ্ট দিত। এই কষ্টের কথা পূর্ব পরিচিত মাসুমকে জানালে সে ভালো বেতনে গার্মেন্টেসে চাকরীর কথা বলে পঞ্চগড় থেকে  প্রথমে ঢাকায় পাঠায়, সেখানে কোন চাকরীর ব্যবস্থা না হওয়ায় মাসুমকে জানায়। তখন মাসুম তাকে ঢাকা থেকে বাসযোগে গোয়ালন্দে আসলে ভাল বেতনে চাকরী ব্যবস্থা করার কথা বলে। সে কথায় সরল বিশ^াসে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌছালে মনির ও মাসুম তাকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর প্রধানগেটে নিয়ে তাকে বিক্রির চেষ্টা করে যৌনপল্লীতে ঢোকানোর চেষ্টা করে। এসময়  তাদের ও অন্যান্য মেয়েদের চলাচল ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে সে ডাক চিৎকার করে। ঐসময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মনিরকে আটক করলেও মাসুম ও অজ্ঞাতনামা আরো একজন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তখন স্থানীয়রা ওই তরুণীকে উদ্ধার ও মনিরকে পুলিশে সোপর্দ করে।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ্ আল তায়াবীর জানান, ওই তরণীকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রির চেষ্টা কালে স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে আটক ও তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশে দেন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার ও অন্য দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ওই তরুণী মানবপাচার আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে আদালতের মাধ্যমে রাজবাড়ীর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

(Visited 144 times, 1 visits today)