ভিজিডি’র কার্ড কার, খায় কে ? –

ইমরান হোসেন মনিম, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের মহারাজপুর গ্রামের হত দরিদ্র মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী রুনা বেগম। গত চার থেকে পাঁচ মাস আগে দুই বছর মেয়াদী তিনি ভিজিডির একটি কার্ড করতে ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি দিয়ে ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদে। কিন্তু তিনি জানেন না তার ভিজিডি’র দুই বছর মেয়াদী কার্ডটি তার নামে হয়েছে কি না। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন তার কার্ডটি ইউনিয়ন পরিষদ তার নামে সম্পন্ন করেছে। কিন্তু তাকে সেই কার্ডটি এখনও তার হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। রুনা বেগমে নামে কার্ডটির চাল উত্তোলন করেন একই গ্রামের ইসমাইল শেখের স্ত্রী কমেলা বেগম নামে একজন মহিলা।


জানাগেছে, গত জানুয়ারী থেকে মার্চ পর্যন্ত এই তিন মাসের চাল এই কমেলা বেগম উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। কার্ডের মালিক রুনা বেগম হলেও স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার সহযোগিতায় এই কার্ডটি প্রভাব খাটিয়ে কমলাকে দিয়ে চাল উত্তোলন করেন তিনি। অথচ কার্ডের প্রকৃত দাবিদার রুনা বেগম আজ তিন মাস ধরে কোন চাল উত্তোলন করতে পারছেন না তার নামে কার্ডটি অন্যজনকে দেওয়ার কারনে। এতে অসহায় দরিদ্র রুনা বেগম তার সরকারী সহযোগীতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার বাড়িতে গীয়ে দেখা যায় তিনি অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন। বাড়িতে তার দুটি ছোট সন্তান ও স্বামী নিয়ে কোন রকম জনাকীর্ণ পরিবেশে একটি ছোট ছাপড়া ঘরে দরজা বিহীন ঘরে বসবাস করছেন। স্বামী মঞ্জুরুল ইসলাম দিন মজুর ও কৃষি কাজ করে দিনাতিপাত করেন। আমাদেও কথা রশুনে তিনি অসুস্থ্য অবস্থায় ঘর থেকে বেড়িয়ে আসেন। অসহায়ের শেষ পর্যায়ে পৌছেছে এই রুনা বেগমের দারিদ্রতা। প্রভাবশালীদের প্রভাবের কারনে অসহায়দের সরকারী দান অনুদান সঠিক ভাবে বন্টন সম্ভব হচ্ছেনা দরিদ্র অসহায় মানুষের মাঝে।


রুনা বেগম বলেন, তার নামে কার্ড হয়েছে শুনেছেন এবং পরিষদে গিয়ে জনতে পারেন তার নামও তালিকায় রয়েছে অথচ তিনি কার্ড ও চাল কিছুই পাননা। তার নামে যদি কার্ডটি হয়ে থাকে তাহলে তিনি কার্ডটি ফেরত চান। এই কার্ডটি পেলে তিনি তার কষ্টের সংসারে একটু সহযোগিতা হত বলে জানান।
বসন্তপুর ইউনিয়নের সচিব মোঃ শোয়েবুর রহমা রাজিব বলেন, এই কার্ডটি রুনা বেগমের নামে রয়েছে। কিন্তু কার্ডটি জনৈক আওয়ামীলীগ নেতা তিনি চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করে কার্ডটি কমেলা বেগম নামে একজনকে দিয়েছেন। বর্তমানে প্রকৃত কার্ডের মালিক রুনা বেগমের কার্ডটি দিয়ে কমেলা বেগম নামে এক মহিলা চাল তুলে নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি তিন মাসের ৩০ কেজি হারে চাল উত্তোলন করেছেন। রুনা বেগমের কার্ডটির নম্বর ১৩৪।


বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন মীর্জা বদিউজ্জামান বাবু বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমি মোঃ সায়েফ জানান, একজনের কার্ডের চাল অন্যজন তুলে খাবে এটা সম্পূর্ন নিয়ম বহির্ভূত। প্রকৃত ভিজিডির কার্ডটি রুনার নামে হয়ে থাকলে অবশ্যই তা তিনি পাবেন। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(Visited 172 times, 1 visits today)