অনুগল্প : “ভালোবাসার জন্মসূত্র”- লেখক- সালাম তাসির –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

অনেকগুলো সন্ধ্যার রঙ জলে মিশিয়ে একটি রাত তৈরি ক’রে তুমি চোখের পাতায় ঘুম নিয়ে এলে। সেই রাতে জলপাত্রে পূর্ণিমা চাঁদ ভাসতে দেখে তোমার গাঁয়ে হলুদের দিনটি মনে পড়ে গেলো।


শেষের কবিতায় রঙ পেন্সিলের আঁচরে যে গোলাপটি সেদিন এঁকেছিলে তা আজও সদ্যফোটা মনে হয়। অথচ শেষ বসন্তে স্বর্ণ শিমুলে জড়িয়ে থাকা ভালোবাসা কি বিবর্ণ মনে হয়। আজকাল ভালোবাসা রোদে শুকিয়ে ঘরে তুলতে হয়। যে ঘরে মন থাকে সে ঘরেই তার নিত্য আবাস।

একদিন পাশের বাড়ীর দিদিমা বলেছিলো কোন পাপেই যে ভালোবাসার জন্ম হয়েছিলো? সেদিন বুঝি নাই ভালোবাসার জন্মসূত্র। আজ বুঝতে পারছি কেন দিদিমা বিশ বছর ঘর করার পর আত্মহত্যা করেছিলো…..।

একদিন দীপাবলি সন্ধ্যায় আকাশে ঝড়ের মেঘ,বর্ষার জল উঠোন ছেড়েছে মাত্র। রাস্তার কাদাজলে হামাগুড়ি দেয়া বৃদ্ধ রমিজ মাঝি খাদ্যের সন্ধানে চেয়ারম্যানের দারস্থ হয়। দিন শেষে চোখ ভরা অন্ধকার নিয়ে বাড়ী ফেরে সে। রাতের আহার জোটেনি বলে ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো দিয়ে মনের ক্যানভাসে দূর্ভিক্ষের ছবি আঁকে।

একদিন খরস্রোতা হড়াই নদীতে নৌকা ডুবে বউয়ের সলিল সমাধি হলে রমিজ মাঝি আর কোনদিন বৈঠা হাতে তোলেনি। সেই থেকে নিঃসঙ্গ জীবন, বড় একা ভাবে নিজেকে। ভোর হলে আবার খাদ্যের সন্ধানে, বাঁশ বাগানে তখনও অসংখ্য বাঁদুর ঝুলে আছে। পাখিদের কিচির মিচির শব্দ বাতাসে ভাসছে। আবার দিন শেষে রাত্রি নেমে এলে ঘরে ঘরে মাটির প্রদীপ আলো ঝলমল মহোৎসব। পৃথিবী থেকে অমঙ্গল দূর করতেই কার্তিকের অমাবস্যায় দিদিমা উঠোনময় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করতেন ।


দীপাবলির সেই রাতে দিদিমা বলেছিলেন আজকের এইদিনে শ্রীরামচন্দ্র রাবন বধ করে অযোদ্ধায় ফিরলে প্রজারা তাকে স্বাগত জানানোর জন্য সারারাত আলোকশয্যা করে। অশুভ শক্তির পরাজয় এবং সত্যের জয়কে স্মরণীয় করে রাখতেই প্রতিবছর দীপাবলিতে আলোর উৎসব করে থাকে।

আজ দিদিমা নেই, মঙ্গল দীপ জ্বলে এখনো। নেই রমিজ মাঝিও অথচ চাঁদ এখনো জোছনা ছড়ায়।

লেখক : সালাম তাসির
কবি ও প্রাবন্ধিক।

(Visited 51 times, 1 visits today)