দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট: কুয়াশায় এক তৃতীয়াংশ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার –

রুবেলুর রহমান, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

ঘন কুয়াশার কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে প্রায় প্রতিদিন ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। ফলে যাত্রীবাহি যানবাহন গুলো ঘন্টার পর ঘন্টা ও পন্যবাহি ট্রাককে দিনের পর দিন নদী পারের অপেক্ষা থাকতে হচ্ছে। এতে করে প্রতিদিন এক-তৃতীয়াংশ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।


এদিকে প্রায় ৫ কোটি টাকা খরচ করে ২০১৪ সাল এই নৌরুটে চলাচলকারী খানজাহান আলী, শাহ আলী, কেরামত আলী, ভাষা শহীদ বরকত ও কে-টাইপ ফেরি কপোতি, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, শাহ আমানত ও শাহ পরান ফেরিতে ফগ এন্ড সার্চ লাইট সংযোজন করা হয়। কিন্তু সংযোজিত লাইট গুলো দিয়েও কুয়াশাকালীন সময়ে কোন কাজে আসছে না।


অপরদিকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় নদী পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে আটকে থেকে চরম ভোগান্তি পড়ছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। এ সময় খাবার ও টয়লেট সমস্যায় পড়ছেন তারা। এছাড়া রয়েছে নিরাপত্তাহীনতা ও শীতের তীব্রতা।
জানাগেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট। দক্ষিণ পশ্চিমঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার ছোট বড় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার যানবাহন ও লক্ষাধিক যাত্রী প্রতিদিন এরুট দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু শীত মৌসুমে কুয়াশায় ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় সিরিয়ালে আটকে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রী ও চালকরা। এছাড়া একই কারণে দিনের পর দিন সড়কে আটকে থাকে পন্যবাহি ট্রাক। ফলে এখন প্রতিদিন এরুটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। গত এক সপ্তাহে অর্থাৎ আজ মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারী) সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিলো।
সড়কে আটকে থাকা জীবন মিয়া, আব্দুল হাকিম, রবিউল ইসলাম সহ একাধিক ট্রাক চালকরা জানান, আজ তিন দিন তারা নদী পারের অপেক্ষায় আটকে আছেন। প্রথমে তাদের গোয়ালন্দ মোড়ের সড়কে আটকে রাখা হয়। পড়ে সিরিয়াল নিয়ে আস্তে আস্তে ঘাট এলাকায় আসলেও কুয়াশায় ফেরি বন্ধ থাকায় বসে আছেন। এদিকে সময় মত মালামাল পরিবহন করতে না পেরে মালিকের কথা শুনছেন। বর্ষায় নদী ভাঙ্গন, শীতে কুয়াশা সহ নানা কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে । আর সব সময় ভোগান্তিতে পড়েন তারা। তাই তাদের ভোগান্তি লাঘবে এরুটে বিকল্প কোন ব্যবস্থার দাবি জানান তারা। এছাড়া টার্মিনাল চার্জ দিয়েও তাদের থাকতে হয় ফাঁকা সড়কে। যেখানে জান মালের নিরাপত্তাহীনতা নাই এবং সেখানে নেই খাবার, টয়লেট ও গোসলের কোন ব্যবস্থা। যে কারণে বাধ্য হয়ে মালামাল ভর্তি ট্রাক রেখে দুরে গিয়ে টয়লেট, গোসল, খাবার সেরে আসতে হয়। এসব ভোগান্তি যেন কেউ দেখে না।


দৌলতদিয়া ঘাট বিআইডব্লিউটিসি শাখা ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, ঘন কুয়াশার কারণে সোমবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে নৌ-দূর্ঘটনা এড়াতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব কিছুটা কমে আসলে ফেরি চলাচলের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু আবারও কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পড়ে সকাল পৌনে ৮টার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব কমে গেলে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়।
তিনি আরও জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন এরুটে ছোট বড় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার যানবাহন নদী পারাপার হয়। কিন্তু কুয়াশার কারণে এখন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিন কুয়াশায় ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকছে। এতে করে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন এরুটে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা আয় হতো। এখন সেখানে ২০ লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে। এতে দিনে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা আয় কমেছে। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহন পারাপারের জন্য ছোট-বড় ১৬টি ফেরি রয়েছে।

(Visited 60 times, 1 visits today)