কানাডা প্রবাসী রাজবাড়ীর কৃতি সন্তান অধ্যাপক নাসির উদ্দীনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ –

সোহেল রানা, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যাপকের ড. নাসির উদ্দিন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছেন। অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীন রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ী গ্রামের মরহুম আরশেদ আলী মাষ্টারের পুত্র। বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে কানাডার এন্টারিও প্রদেশের ব্যারি শহরে বাস করছেন।


কানাডার লেকহেড বিশ্ববিদ্যলয়ের তড়িৎ কৌশলের অধ্যাপক ড.মোঃ নাসির উদ্দিনকে ২০২১ সাল থেকে আই,ই,ই,ই ফেলো হিসেবে মনোনীত করেছেন তড়িৎ কৌশলের পেশাজীবি সংগঠন আই,ই,ই,ই (Institute of Electrical and Electronics Engineers). আই,ই,ই,ই মনোনীত ফেলো তড়িৎ কৌশল বিভাগের পৃথিবীর সর্বোচ্চ সম্মান।
আই,ই,ই,ই ড. নাসির উদ্দিনকে তাঁর গবেষণার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক মোটরের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং অপচয় রোধের কৌশল আবিষ্কারের জন্য তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করেছে।
আই,ই,ই,ই বিশ্বের অন্যতম পেশাজীবি সংগঠন যা প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে মানবকল্যানে নিয়োজিত। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৪ লাখেরও বেশী এবং এর কার্যক্রম পৃথিবীর ১৬০টি দেশে বিস্তৃত। মানবকল্যানে গবেষনার প্রভাবের উপর ভিত্তি করে প্রতি বছর আই,ই,ই,ই ০.১% হার কম সংখ্যক সদস্যকে ফেলো মনোনীত করে থাকে।
ড. নাসির উদ্দিন ২০১০ সালে লেকডে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা গবেষকের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। ইতিপূর্বে লেকহেড বিশ্ববিদ্যালয়ে সাময়িকীর ২০১০ সালের নভেম্বর/ডিসেম্বর সংখ্যায় নিবন্ধ প্রকাশ হয়েছিলো। সেখানে কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘মোটর মাস্টার’ উপাধিতে ভূষিত করে। এ পর্যন্ত ড. নাসিরের গবেষণার ফলাফল ২৩০ এর বেশী গবেষণাপত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন নামকরা জার্নাল এবং সম্মেলন কার্যক্রমে প্রকাশিত হয়েছে।


ড. নাসির উদ্দিন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ কৌশল বিভাগ থেকে ১৯৯৩ সালে ১ম শ্রেণিতে ২য় স্থান অধিকার করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর একই বিভাগে যোগদান করে তিন বছরের অধিক সময় শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তীতে কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে কানাডার মেমোরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন।


আই,ই,ই,ই স্বীকৃতি প্রাপ্ত ড. নাসির উদ্দিন বলেন, “বৈদ্যুতিক প্রকৌশল ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিবেচিত হয়ে আমি সম্মানিত, এ পর্যন্ত আমাকে যে সমস্ত পুরষ্কার ও সম্মান প্রদান করা হয়েছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ পুরস্কার এটি। আমি খুবই আনন্দিত। যেহেতু এটি আমার সহকর্মীরা সমর্থন করেছিলেন এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

(Visited 38 times, 1 visits today)