মুজিব বর্ষ : গোয়ালন্দে পরিত্যক্ত ভবনের ইটের খোয়া ও রড দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে সরকারী পাকা ঘর –

ইমরান হোসেন মনিম, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়টি পদ্মা নদী কেন্দ্রিক দরিদ্র অসহায় মানুষের বসবাস সবচেয়ে বেশি। এ ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের দেয়া-মুজিব বর্ষে কেউ থাকবেনা গৃহহীন জমি আছে ঘর নেই এবং জমি ও ঘর নেই প্রকল্পের বরাদ্দ পাওয়া ঘর গুলো তৈরী করা হচ্ছে পরিত্যক্ত ভবনের ইটের খোয়া ও মরিচাপরা রড দিয়ে। অনেক দরিদ্র পরিবার তাদের পরিবহন খরচ যোগাতে না পেরে সরকারী ঘর তুলতে পারছেন না তাদের জমিতে। অথচ এ ঘর গুলো তৈরীতে পুরাতন মালামাল ব্যবহার করা যাবেনা এবং গ্রাহক ঘর তৈরীতে তাদের কোন ধরনের খরচ হওয়ার কথা ছিলনা। সরকারী ঘর তৈরীতে পুরাতন মালামাল ব্যবহার, নিজ বাড়িতে সরকারী ঘর তৈরী ও দরিদ্র গ্রাহক পরিবহন খরচ দিয়ে তাদের ঘরের সরঞ্জাম আনতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন অনিয়ম ও দুর্নিতীর অভিযোগ তুলেছেন সরকারী ঘর পাওয়া গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হেসেনের বিরুদ্ধে।


রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শত বছরের পরিত্যাক্ত ভবনের ইট, ইটের খোয়া ও পুরাতন মরিচা পড়া রড দিয়ে সরকারী নতুন ঘর তৈরীর লিংটন বানিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। স্তুপ করে রাখা হয়েছে নষ্ট ইটের খোয়া ও মরিচা পড়া পেঁচানো রড। ইউনিয়নের চরাঞ্চল মহিদাপুর গ্রামে যেখানে ঘর গুলো তৈরী করা হচ্ছে, এ ঘরগুলো পুরাতন ইেিটর খোয়া, পুরাতন মরিচা পড়া রড, বালিতে সিমেন্টর পরিমান কম দেওয়া ও নম্বর বিহীন ইটের ব্যবহার করা হচ্ছে পুরোদমে। আবার রাস্তা ঘাট না থাকায় সেখানে ঘর বরাদ্দ পাওয়া অসহায় মানুষ গুলো ঘর তৈরীর সরঞ্জাম আনতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পরিবহন খরচ দিতে হচ্ছে। যারা দিতে না পারছেন তারা বাড়িতে ঘর তৈরী করতে পারছেন না। কিন্তু ঘর তুলতে কোন ধরনের ব্যক্তিগত খরচ হওয়ার কথা ছিলনা গ্রাহকদের। প্রকল্প বাস্তবায়নের যাবতীয় খরচ সহ ঘর প্রতি ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকার পুরো অর্থ বরাদ্দটাই দিয়েছেন সরকার। গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর, দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের দরিদ্র ৪ শত ৪০ জন মানুষ সরকারী ঘর গুলো বরাদ্দ পেয়েছে।
শহর থেকে ঘর তৈরীর সরঞ্জাম রড, সিমেন্ট, বালু ও ইট সহ অন্যান্য যাবতীয় মালামাল আনতে নিজ পরিবহন খরচ বহন করতে হয়েছে। অনেক দরিদ্র পরিবার তাদের নগদ অর্থ না থাকায় ঘর তৈরী করতে পারছেন না। অথচ আগামী ১৫ জানুয়ারী তারিখের মধ্যে এসব ঘর পরিপূর্ণ ভাবে তৈরী করে দরিদ্র গ্রাহকদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার সময় নির্ধারিত করা হয়েছে। এমন দুর্নিতীর কারনে সরকারের এই মানবিক প্রকল্প মুখ থুবড়ে পরার আশঙ্কা রয়েছে। এ ইউনিয়নে জমি আছে ঘর নাই মুজিব বর্ষে কেউ থাকবেনা গৃহহীন এই প্রকল্পের ৬৫ জন দরিদ্র পরিবারকে ঘর দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ইউনিয়নের প্রায় ৬০ জন দরিদ্র পরিবার সরকারী ঘর পেলেও বাড়তি খরচ যোগাতে না পেরে ঘর তৈরী এখন তাদের স্বপ্নেই থেকে যাচ্ছে। পুরাতন মালামাল ব্যবহার ও যেন তেন ভাবে ঘর তৈরীর কারনে নতুন এ ঘরে বসবাস করা ঝুকিপূর্ণ মনে করছেন দরিদ্র পরিবার গুলো। এমন অভিযোগ উজানচড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে।
তারা বলেন, যে ঘর গুলো তারা পেয়েছেন এ ঘর গুলোতে পুরাতন খোয়া, খারাপ ইট, মরিচা পড়া রড, বালিতে সিমেন্টের পরিমান কম দেওয়া হয়েছে। দেওয়ালের অনেক স্থানে তৈরী হওয়ার আগেই দেখা দিয়েছে ফাটল। ঘর তৈরীর সরঞ্জাম পরিবহন খরচ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে আনতে হচ্ছে মালামাল। অনেকে পরিবহন খরচ দিতে না পারায় ঘরের মালামাল দেওয়া হচ্ছেনা।


গোয়ালন্দের উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হোসেন জানান, পরিত্যাক্ত ভবনের ইট, ইটের খোয়া, মরিচার পড়া রড, নিজ বাড়িতে সরকারী ঘর তোলা, সরকারী টাকায় পুকুর পাড় বাঁধা ইত্যাদি দুর্ণীতি অভিযোগ করা হলে তার কাছ থেকে কোন ধরনের সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এ সময় তিনি নানা ধরনের গোজামিল দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে পুরাতন পরিত্যক্ত স্কুলের ভবন ক্রয় করেছেন বলে স্বীকার করেন।

গোয়ালন্দ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আবু সাইদ বলেন, সরকারী ঘরে কোন ধরনের পুরাতন মালামাল ব্যবহার করা যাবেনা, এ ধরনের অনিয়ম করা হলে অনিয়মের সাথে জড়িত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ও প্রকল্প সভাপতি আমিনুল ইসলাম ঘর তৈরীতে গ্রাহককে পরিবহন খরচ বহন করা ও ঘরে নি¤œমানের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে এমন অনিয়ম প্রশ্নে তিনি বলেন, যারা উপকার ভোগী রয়েছেন ঘর তৈরীতে কারো কাছ থেকে কোন ধরনের পরিবহন খরচ নেওয়া যাবেনা। তবে গ্রাহক মালামাল বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। তবে ঘর তৈরীতে পুরাতন কোন ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করার প্রশ্নই আসেনা। এমনটা হলে ঘর ঘুলো ভেঙ্গে ফেলা হবে বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, সরকারী ঘর তৈরীতে কোন ধরনের পুরাতন মালামাল ব্যবহার করা যাবেনা। সরকারী ঘরে অনিয়ম দূর্নীতি করা হলে এটা কঠোর হাতে দমন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত করে যদি এর সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।

(Visited 312 times, 1 visits today)