রাজবাড়ীতে স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্ম-বিরতি, ঝুকিতে মা ও শিশুরা –


রুবেলুর রহমান, রাজবাড়ী বার্তা :

বেতন বৈষম্যে ও নিয়োগবিধি সংশোধনের দাবিতে সারাদেশের মত রাজবাড়ীতেও চলছে স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের অনিদ্দিষ্টকালের কর্ম-বিরতি। এতে টিকাদান কর্মসূচিসহ স্বাস্থ্য সহকারীরা সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ায় ঝুকিতে পড়েছেন মা ও শিশুরা।


এদিকে দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্ম-বিরতি চালিয়ে যাবার হুমকি দিয়েছেন আন্দোলনরত নেতাকর্মীরা। আজ চলছে ৬ষ্ঠ দিনের মত এ কর্ম-বিরতি। কিন্তু টিকা না পেলে পোলিওসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগে বাচ্চাদের আক্রান্ত হবার আশঙ্কা করছেন অভিভাকরা। অপরদিকে সিভিল সার্জন বলছেন, উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে, দ্রুত এর সমাধান হবে এবং কর্ম-বিরতিতে বাঁধাগ্রস্থ কাজ অতিরিক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে পুশিয়ে নেবেন।


জন্মের পর থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের পালিও খাওয়ানোসহ মোট ১০টি প্রতিরোধমূলক রোগের টিকা দেয়া, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী কিশোরী ও মহিলাদের ২টি টিকা দেয়া, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের দুই বার ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন করা, হাম রুবেলা ক্যাম্পেইন করা, স্বাস্থ্য শিক্ষা দেয়া। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়াসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পালন করেন স্বাস্থ্য সহকারীরা এবং যা দেখভাল করেন স্বাস্থ্য পরিদর্শকগণ। আর এসব কার্যক্রম চলে ইউনিয়ন মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ও সাব সেন্টার গুলোতে। কিন্তু বর্তমানে বেতন বৈষম্যে ও নিয়োগবিধি সংশোধনের দাবিতে গত ২৬ নভেম্বর থেকে সকল কর্মকান্ড বন্ধ করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্ম-বিরতি পালন করছেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীরা। এ সময় উল্লেখিত কেন্দ্র গুলোতে গিয়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের না পেয়ে হতাশ মা ও শিশুরা। ফলে সচেতন অনেকেই জেলা সদর হাসপাতালে শিশু বাচ্চাকে টিকা দিতে নিয়ে আসছেন।
জানাগেছে, নিয়োগবিধি সংশোধন করে স্নাতক/সম্মান উল্লেখ করতঃ স্বাস্থ্য সহকারী-১৩তম, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১২তম, ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক-১১তম গ্রেড প্রদান) বেতন বৈষম্যের দাবিতে জেলা পর্যায়ে চলতি মাসের ২৬ নভেম্বর থেকে কর্ম-বিরতি পালন শুরু করেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীরা। এ সময় তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন চালাবে বলেও জানাগেছে।


অভিভাবকরা বলেন, টিকা না পেলে বাচ্চাদের পোলিও রোগ সহ নানান রকম সমস্যা এবং কিশোরী মেয়ে ও নারীদের টিটেনাসের সমস্যা হবে। আর নিয়মিত টিকা পেলে কোন রোগ হবে না। এ জন্য অনেকে হাসপাতালে গিয়ে টিকা নিয়ে আসছে। এছাড়া ওষুধ নিতে এসে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। সমস্যা সমাধান করে আগের মত টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
আন্দোলনরত স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীরা বলেন, টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার কারণে শিশুদের মরাত্মক ১০টি রোগ দেখা দিতে পারে। এছাড়া হাম রুবেলা ক্যাম্পেইনও এখন হুমকিন মুখে। মা ও শিশু মৃত্যুর ঝুকি কুমানো তাদের দ্বায়িত্ব এবং কর্তব্য। কিন্তু আজ তারা সে দ্বায়িত্ব পালন না করে আন্দোলন করছেন বেতন বৈষম্য ও নিয়োগবিধি সংশোধনের দাবিতে। কারণ অতিথে তাদের অনেকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কোন সমাধান করা হয়নি। ফলে আজ তারা বাধ্য হয়ে কর্ম-বিরতি পালন করছে। আশা করছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার তাদের দাবী মেনে নিয়ে কাজে ফিরতে সহযোগিতা করবেন এবং তারা আবার কর্মক্ষেত্রে ফিরে গিয়ে মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমাতে ভূমিকা রাখবেন। তবে যতদিন তাদের দাবী আদায় না হবে, ততদিন তাদের আন্দোলনও চলবে বলে জানান।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম টিটন বলেন, জেলায় ১২৬ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ২৯ জন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক আছে এবং ৩ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক রয়েছে। কিছু দাবি দাওয়া নিয়ে তারা কর্ম-বিরতি পালন করছে। তবে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম মুলত তারাই পালন করে এবং সামনে হাম রুবেলা ক্যাম্পও তারা করবেন। দাবী-দাওয়ার বিয়য়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ আলাপ আলোচনা করছেন এবং আশা করছেন দ্রুত এর সমাধান হবে। আর টিকাদান কর্মসুচির ক্ষতি পরবর্তীতে অতিরিক্ত কাজের মাধ্যমে পুশিয়ে নেবেন।

(Visited 56 times, 1 visits today)