বালিয়াকান্দিতে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২১, বাড়ী-ঘর ভাংচুর –

সোহেল রানা, রাজবাড়ী বার্তা :

ঈদগাহের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনটি বাড়ী ভাংচুর করার পাশাপাশি ২১ জন আহত হয়েছে। আহতদের বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।


এলাকাবাসী ও আহতরা জানিয়েছেন, উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের চষাবিলা গ্রামের ঈদগাহের জমির ৩ শতাংশ প্রতিবেশি হাই মন্ডলের বাড়ীর মধ্যে রয়েছে মর্মে অভিযোগ তোলে স্থানীয়রা। গত শনিবার বিকালে নারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ও সাবেক চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক মন্ডল পরিষদের অফিস কক্ষে বিষয়টি সুরহার জন্য হাই মন্ডলের সাথে কথা বলছিল। সে সময় নারুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বারেক বিশ্বাস লোকজন নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ করে হাই মন্ডলকে কুটকথা করে। বিষয়টি চষাবিলা গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে হাই মন্ডলের অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। রাতে হামলার ভয়ে আওয়ামীলীগ সভাপতি বারেক বিশ্বাস বাড়ীতে ফিরতে পারছিল না। পরে থানা পুলিশের সহায়তার তিনি বাড়ীতে যান। এ নিয়ে রবিবার সকালে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে চষাবিলা গ্রামের কামাল খান (৩৮), আইদুল খান (৪৫), হানেফ মন্ডল (৪৫), লাবলু খান (৩৬), জোবায়েদ হোসেন (১৭), সাকু শেখ (৩০), হাবিবুর (৫২), সাবু মন্ডল (৩০), আকো (২৫), তোমছেল (৪০), আব্দুল কুদ্দুস (৫০), সবুজ মন্ডল (২৫), লাবলু মন্ডল (৩০), জিয়ারুল (৩৮), আলী (৩৬), ইলিয়াছ (২৮), মিরাজ (৩৬), আবু বক্কার (৪৮), সাফুল (৪০), শাপলা (৩০), আজিজল (৬৮) আহত হয়। আহতদেরকে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দু’গ্রুপের সংঘর্ষে কামাল খান ও হাই মন্ডলের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।


নারুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল বারেক বিশ্বাস বলেন, চষাবিলা গ্রামের ঈদগাহের জমি হাই মন্ডলসহ কয়েকজন দখল করে রাখে। ওই জমিতে নতুন করে ঘর উত্তোলন করতে গেলে আমরা বাধা দেই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায় ও কামাল খানের বাড়ী ভাংচুর করে। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।


চষাবিলা গ্রামের আব্দুল হাই মন্ডল জানান, চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে আজিজুল মন্ডল, তৈয়ব মন্ডল ও আমার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করাসহ আগুন ধরিয়ে দেয়। আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুজ্জামান বলেন, রবিবার বিকাল পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(Visited 161 times, 1 visits today)