দুঃখি মা-এর বাড়ীতে ফল নিয়ে হাজির হলেন বালিয়াকান্দি থানার ওসি –

রাজবাড়ী বার্তা :

গত শুক্রবার সকাল ১০টা। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুজ্জামান অফিসে বসে কাজ করছিলেন। এমন সময় উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের পাটুরিয়া গ্রামের শাহিদা বেগম নামে পঞ্চাশোর্ধ একজন মা ও তার স্বামী কিয়ামুদ্দিন মন্ডল এসে কথা বলার জন্য রুমে প্রবেশ করেন।


মা আপনার কি সমস্যা এমন কথা বলতেই কান্না জড়িত কন্ঠে বলে উঠেন, বাবা আমার একমাত্র ছেলে রিপন মন্ডল, আমাকে ভরণপোষনের জন্য টাকা পয়সা দেয় না। খুবই কষ্টে দিনতিপাত করছি। এমন কথা শুনে ঠিকানা লিখে রেখে বাড়ীতে চলে যেতে বলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্যকে খবর দিয়ে থানায় ডেকে আনা হয় রিপন মন্ডলকে। তাকে কিছু পরামর্শ ও উপদেশ এবং মাকে ভরণপোষনের জন্য কথা বলার পরই রিপন তার ভুল স্বীকার করে ও তার মাকে ভরণপোষনের জন্য স্বীকারোক্তি ও ভবিষ্যতে এ ধরণের কাজ করবে না বলে অঙ্গিকার করে। এ কাজ করেই থামেন নি থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুজ্জামান। তিনি রাত ৯ টার দিকে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে অভিযোগকারী মায়ের বাড়ীতে বিভিন্ন ফলসহ খাবার সামগ্রী নিয়ে হাজির হন। তিনি উপস্থিত হওয়ার পর ছেলে অবহেলার অভিযোগটি ভুলে যান মা। ওই ফল সবাই মিলে খেয়ে তাদের আগের সব দুঃখ কষ্ট ভুলে যান।


শাহিদা বেগম বলেন, একজন মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন ওসি। আমি তার মঙ্গল কামনা করছি। এ ধরণের সন্তান যেন বাংলার ঘরে ঘরে জন্ম হয়।


স্থানীয় ইউপি সদস্য মুরাদ বিশ্বাস বলেন, থানার অফিসার ইনচার্জের ফোন পেয়ে ওই বাড়ীতে যাই। ছেলে রিপন কে ডেকে থানায় সাথে করে নিয়ে আসি। সহজেই তার ভুল স্বীকার করে। সে ভবিশ্যতে এ ধরণের কোন কাজ করবে না বলে অঙ্গিকার করে। পরে রাতে বিভিন্ন ফলসহ খাবার নিয়ে ওই মায়ের বাড়ীতে হাজির হন। একজন মানবিক ওসি তিনি। না হলেও হয়তো রাতে কোন খোজ নিতেন না।


বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুজ্জামান বলেন, আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালনের জন্য নয়, একজন মায়ের পাশে দাড়িয়েছি। এতে সহজেই ওই মায়ের পরিবারে শান্তি ফিরে এসেছে।

(Visited 96 times, 1 visits today)