প্রকৌশলীকে মারপিটের ঘটনার প্রতিবাদে পাংশায় সরকারী কর্মকর্তাদের মানববন্ধন –

রাজবাড়ী বার্তা ডেস্ক :

রাজবাড়ীর পাংশায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ করতে না দেওয়ায় আওয়ামীলীগ নেতা ঠিকাদারের ছেলে কর্তৃক উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জাফর আলীকে মারপিট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে ও দায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে সোমবার সকালে পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।


পাংশা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের সামনে ঘন্টা ব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। ওই মানববন্ধনে উপজেলা পরিষদের সকল দপ্তরের উদ্ধর্তন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অংশ গ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস, রাজবাড়ী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুজ্জামান, পাংশা অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব হোসেন,পাংশা সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আওয়াবুল্লাহ ইব্রাহিম প্রমুখ। বক্তরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টন্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান।


মারপিটের স্বীকার পাংশা উপজেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জাফর আলী জানান, ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পাংশা পৌর এলাকায় অবস্থিত সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসার চার তলা ভিত বিশিষ্ঠ এক তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। এক তলা ভবনের নির্মাণ কাজটি করছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ঠিকাদার আব্দুর রহিম মোল্লা। তিনি ফরিদপুর’র মের্সাস আনোয়ার হোসেন’র প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করছেন। তবে কাজটি দেখভালো করছেন আব্দুর রহিম মোল্লার পালিত পুত্র জাহিদ হাসান। গত ২৭ অক্টোবর বিকালে ওই একডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য নি¤œ মানের ইট, বালি, খোয়া নিয়ে আসে জাহিদ হাসান। সেই সাথে সে জোর র্প্বূক ওই নিম্ম মানের সামগ্রী দিয়ে ঢালাই কাজ করার জন্য পায়তারা শুরু করে। তিনি নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ কাজ না করার জন্য বললে জাহিদ হাসান তাকে বেধড়ক মারপিট করে এবং তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি ভাংচুর করে। জাফর আলীর চিৎকারে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে জাহিদ হাসান পালিয়ে যায়। তাকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে জাহিদ হাসান, আব্দুর রহিম মোল্লা ও আনোয়ার হোসেনকে আসামি করে পাংশা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। যদিও সে সময় থেকে ওই ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।


পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান, ওই মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

(Visited 119 times, 1 visits today)