এক স্কুল ছাত্রী ও অপর এক তরুনীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীতে এক স্কুল ছাত্রী (১৬) ও অপর এক তরুনী (১৮) কে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া তরুনীকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


গত মঙ্গলবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ওই তরুনী জানায়, তিনি প্রায় ৫ আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের সাভার গোপালবাড়ী গ্রামের লালন সরদারের ছেলে মাইক্রোবাস চালক সেলিম সরদার (২০)-এর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন। গত ১৮ অক্টোবর বিকালে সে তার এক ভাবির সহযোগিতায় রাজবাড়ী জেলা শহরের লক্ষিকোল পুরাতন হরিসভা এলাকায় সেলিমের সাথে দেখা করতে আসেন। এ সময় সেলিম তাকে অপহরণ করে নিয়ে সেখানকার একটি ঘরে আটকে রাখে এবং ওই দিন থেকে গত সোমবার দুপুর পর্যন্ত ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষন করে। সোমবার সন্ধ্যায় তাকে বিয়ে করবে বলে বাইরে চলে যায় সেলিম। এরপর আর সেলিম ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে স্থানীয়রা অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল-এর প্রোগ্রাম অফিসার আমান উল্লাহ বলেন, এই তরুনীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টি রাজবাড়ী থানার ওসিকে অবহিত করাও হয়েছে।


অপরদিকে, অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে রাজবাড়ী জেলা শহরের পান্না চত্বর এলাকা থেকে গত ২৫ জানুয়ারী সকালে অপহরণ করা হয় হয়ে বলে ওই ছাত্রী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলাটি আদালতের নির্দেশে সোমবার রাজবাড়ী থানায় রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের বড়ভবানীপুর গ্রামের সালাম মোল্লার ছেলে সাব্বির মোল্লা (২২), সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের কল্যানপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস শেখের ছেলে মামুন শেখ (৪০) এবং বসন্তপুর ইউনিয়নের উদয়পুর রাজাপুর গ্রামেরমামুন ওরফে রাফুল শেখ (৩২) কে আসামি করা হয়েছে।


ওই ছাত্রী জানায়, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে তাকে অপহরণ করে সাব্বির ও তার সহযোগিরা। তাকে ফরিদপুরের টেপাখোলা এলাকায় নিয়ে একটিবাড়ীতে আটকে রেখে সাব্বির জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং মিথ্যা বিয়ের কথা বলে সাব্বির তাকে তার বাড়ীতে নিয়ে তোলে। সেখানে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে গরম খুন্তি ও সিগারেটের আগুন দিয়ে সাব্বির তার শরীরের হাত,পা সহ বিভিন্ন স্থানে ছ্যাকা দেয়। একই সাথে তাকে অন্যত্র পাচার করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। বিষয়টি টের পেয়ে সে পালিয়ে বাবার বাড়ী চলে আসে এবং তাকে সে সময়ই রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


রাজবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

(Visited 1,315 times, 1 visits today)