গোয়ালন্দে মুক্তিযোদ্ধার মেয়েকে পিটিয়ে যখম করার অভিযোগ –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের কাশিমা গ্রামের বীর মুক্তি যোদ্ধা ওমর আলীর মেয়েকে জমি জমা সংক্রান্ত আক্রোশে পূর্ব শত্রুতার জেরে পিটিয়ে মারাত্বক ভাবে যখম করেছে প্রতিবিশে চাচাতো ভাই আক্কাস আলী। আক্কাস আলী ছোট ভাকলা ইউনিয়নের কাশিমা গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে। আহত লাকীকে আক্কাস বেধরক মারধর করার পর ৬দিন গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাড়িতে রয়েছেন। তবে তিনি আজ প্রায় পনেরদেন অতিবাহিত হলেও বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। এই ঘটনার দিন শনিবার ৭ অক্টবর তারিখে গোয়ালন্দ থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে ওমর আলীর মেয়ে। তবে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তাদের বাড়িতে তদন্তে আসলেও আজ বেশ কয়েকদিন পার হলেও গোয়ালন্দ থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকারীদের কোন ধরনের পদক্ষে নিতে দেখছেন না বলে লাকীর পরিবার।এই ঘটনায় তারা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে বিচার চাইলেও তারা কোন সহযোগীতা করেনি মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলীর পরিবারকে।


গত ৭ অক্টবর শনিবার দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা ওমর আালীর মেয়ে লাকী তার চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানের দুই দিন পর তাদের বাড়িতে যায়। বাড়ি আসার সময় রাস্তায় আক্কাস তার গতি রোধ করে এবং অকথ্য ভাষায় বকাবাজি করার পর লাকীর উপর এলোপাথারি মেহেগুনি গাছের ডাল দিয়ে পেটাতে থাকে। এতে মারাত্বক ভবে যখম হয় লাকী। এসময় সেখানে এলাকার অনেক মানুষ মারধর করতে দেখলেও তাকে কেই রক্ষা করেনি। মেরে তাকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। কাশেম অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেয় তাদের পরিবারকে। পরে লাকীকে ঠেকাতে তার বাড়ির লোকজন সেখানে গেলে লম্পট আক্কাস চলে যায়। লাকীকে সেসময় গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে ৬দিন চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। তবে ডাক্তারের পক্ষ থেকে আরো কয়েকদিন হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু করোনা ও বাড়ির বিভিন্ন সমস্যার কারনে তাকে অসুস্থ্য অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে আসে তার পরিবার। তবে বাড়িতে আসলেও লাকী বর্তমানে শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্যাথা নিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রচন্ড পরিমানে আঘাত করায় সে এখন উঠে দ্বাড়াতেও পারছেনা। শরীররের দুই হাত ,দুই পা,বাম কানের ওপরে ,মাথায় মারাত্বক ভাবে আঘাতের কারনে সেসসব স্থানে প্রচন্ড কালো দাগ তৈরী হয়েছে এবং ফুলে আছে। তবে এ ঘটনায় তার পরিবার এখনও পর্যন্ত কোন সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেন। তাদের মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হয়ে এমন পরিস্থিতি কেন হবে,আর কেনইবা লম্পট কাশেমের বিচার হবেনা সেটা বুঝতে পারছেন না। বেশ কয়েক বছর আগে ওমর আলীর পরিবারে কোন ছেলে সন্তান না থাকায় তার স্ত্রীর নামে বাড়ির জমি লিখে দেওয়া হয়। আর বাড়ির জমি স্ত্রীর নামে লিখে দিলে সে জমি তার মেয়ে সন্তানরা পাবে এই একথা জানতে ক্ষোভের আক্রোশে তার ভাতিজা আক্কাস বিভিন্ন সময় গালাগাল ও হুমকি দিয়ে আসছিলো। গত কয়েক বছর আগেও মক্তিযোদ্ধা ওমর আলীর গায়ে হাত তুলেছিল। এই দিনও তার চাচির গায়ে হাত তুলেছে। এখন একই আক্রোেেশর জেরে তার মেয়েকে পিটিয়ে আহত করেছে। পরিবারটি দাবি জানান তাদের এভাবে নির্যাতন করার পর কোন বিচার তারা এখনও পাচ্ছেন না। লম্পট আক্কাস পেশায় রাজ মিস্ত্রি হলেও বেশিরভাগ সময় সে বিভিন্ন স্থানে জুয়া খেলে নেশায় থাকে। এ পর্যন্ত সে চারটি বিয়ে করেছে,বর্তমানে তার ঘরে ৩য় স্ত্রী রয়েছে।


আক্কাস মারপিটের ঘটনা স্বীকার করে বলেন,সেদিন তিনি তার চাচাতো বোনকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়েছেন। তবে তার চাচা ওমর আলীকে তার চাচী ও চাচাতো বোনেরা মিলে মারধর করতেছিল। সে তা সহ্য করতে না পেরে লাকীকে পিটিয়েছেন। তবে জমি জমা বিষয়ে আক্রোশের জেওে তাকে মারধর করেছেন কিনা জানতে চাওয়া হলে বলেন,তাদের জমি তারা কি করবে সেটা তাদের ব্যাপার,তবে এ নিয়ে লাকীকে তিনি মারধর করেননি।এমন মারাত্বকভাবে তাকে কেন মারধর করলেন কেন ,জানতে চাইলে বলেন আমার চাচাতো বোনকেতো আমি শাসন করতেই পারি। তাই তাকে বাঁশ দিয়ে কয়েকটা আঘাত করেছি।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই (ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা) মুরাদ হোসেন বলেন, ওমর আলীর মেয়েকে মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি কাশিমা গ্রামে ওমর আলীর বাড়িতে যান এবং সেসময় আহত লাকীকে হাসপাতালে পাঠান তিনি নিজেই। তবে এখনও কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করেছেন কিনা এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন প্রতিবেশিরা এই মারপিটের ঘটনায় কোন ধরনের কথা বলতে রাজি হয়নি। তার পরও তিনি সাক্ষির জন্যে এলাকার কিছু মানুষের সাথে কথা বলেছেন। বর্তমানে এ ঘটনায় আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্যে অভিযোগটি প্রসিকিউশনের জন্যে কোর্টের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন হলে আক্কাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান। তবে গত দুই দিন আক্কাসের বাড়িতে তার খোজে গিয়েছিলেন।তিন বর্তমানে পলাতক রয়েছে বলে জানান।


অতিরিক্ত সদর সার্কেল শেখ শরিফুজ্জামান বলেন,এ ঘটনায় তিনি অভিযোগে যাকে আসামী করা হয়েছে,তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে পদক্ষে গ্রহন করবেন এবং সে যদি দোষি হয় তাহলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে বলে জানান।

(Visited 101 times, 1 visits today)