ই‌লিশের প্রজনন মৌসুম: রাজবাড়ীতে খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে ৪ হাজার ৭শ মৎস্যজী‌বি‌ –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

ই‌লিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমের ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা, ক্রয়-‌বিক্রয়, মজুদ নি‌ষিদ্ধ থাকায় রাজবাড়ীর ৪ হাজার ৭শ কার্ডধারী জে‌লে‌কে খাদ্য সহায়তা হিসা‌বে ২০ কে‌জি ক‌রে ভি‌জিএফ এর চাল দেয়া হ‌চ্ছে ।

বুধবার দুপু‌রে রাজবাড়ী সদর উপ‌জেলার চন্দনী‌তে ইউ‌নিয়‌নের ৫০৬ জন মৎস্যজী‌বি‌কে ২০ কে‌জি ক‌রে এ চাল দেয়া হয়।

এছাড়া অাজ রাজবাড়ী পৌরসভার ৩৮৮ ও খানগ‌ঞ্জ ইউ‌নিয়‌নের ৪৪৩ জন‌ মৎস্যজী‌বি‌কে এ খাদ্য সহায়তা দেয়া হ‌য়ে‌ছে।

চন্দনী ইউ‌নিয়ন প‌রিষদ চেয়া‌রম্যান এ‌কেএম সিরাজুল অালম চৌধুরীর সভাপ‌তি‌ত্বে প্রধান অ‌তি‌থি হি‌সে‌বে বক্তব্য রা‌খেন, জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম।

উপ‌জেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সাঈদ অাহ‌ম্মেদ এর সঞ্চালনায় বি‌শেষ অ‌তি‌থি হি‌সে‌বে বক্তব্য রা‌খেন, সদর উপ‌জেলা প‌রিষদ চেয়ারম্যান এডঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ অা‌রিফুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকতা জয়‌দেব পাল, উপ‌জেলা সি‌নিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ্জামান প্রমূখ।

জানা‌গে‌ছে, রাজবাড়ী জেলার ৮৫ কি‌লো‌মিটার দৈর্ঘ্যর প্রবাহ পদ্মার নদীতে ৮ থে‌কে ৯ হাজা‌র মৎস্যজী‌বি মাছ ধ‌রে জী‌বিকা নির্বাহ কর‌লেও সরকারী খাদ্য সহায়তা পা‌চ্ছে কার্ডধারী ৪ হাজার ৭শ জন জে‌লে। নি‌ষেধাজ্ঞার সময় অার কোন সহায়তা না পে‌য়ে হতাশ জে‌লেরা। কারণ জে‌লে‌দের সাংসা‌রিক খর‌চের পাশাপা‌শি র‌য়ে‌ছে ঋণ ও মহাজনদের দাদ‌ন টাকা প‌রি‌শোধের চিন্তা। ফ‌লে নি‌ষেধাজ্ঞা থাক‌লেও জেল জ‌রিমানার ভয় উপ‌ক্ষো ক‌রে নদী‌তে না‌মেন অ‌নেক জে‌লেরা। এছাড়া মৌসু‌মি মৎস্য শিকারীও নদী‌তে না‌মেন।

এবছর রাজবাড়ী সদর উপ‌জেলায় ২২৮১, কালুখালী‌তে ৩১০, পাংশায় ৪৮২ ও গোয়াল‌ন্দে ১৬২৭  জনসহ মোট ৪৭০০ জন মৎস্যজী‌বি‌কে খাদ্য সহায়তা দেয়া হ‌চ্ছে।

চাল নি‌তে অাসা জে‌লেরা জানান, তারা নদীতে মাছ ধ‌রে জী‌বিকা নির্বাহ এবং ঋণ ও দাদ‌নের টাকা প‌রি‌শোধ ক‌রে। একদিন মাছ না ধর‌লে ক‌ষ্টে দিন যায়। তারপরও সরকা‌রের নি‌র্দেশ তারা মানার চেষ্টা কর‌ছেন। এখন নদী‌তে অ‌নেক ইলিশ এবং প্রায় সবই ডি‌মে প‌রিপূর্ণ। সরকার ২২ দিন মাছ ধর‌তে নি‌ষেধ ক‌রে‌ছে। কিন্তু এত দিন মাছ না ধর‌লে সাংসা‌রিক খরচ, ঋণ ও দাদ‌নের টাকা প‌রি‌শোধ কর‌বেন কিভা‌বে। ২০ কে‌জি ক‌রে চাল দি‌চ্ছে, সেটা কত দিন যা‌বে? অার শুধু কি ভাত খে‌য়ে থাকা যায়। ভা‌তের সাথে তো অারও কত কি লা‌গে। তারপর অাবার ২০ কে‌জি চা‌লের স্থা‌নে পা‌চ্ছেন ১৭ থে‌কে সা‌ড়ে ১৮ কে‌জি ক‌রে। এছাড়া ছে‌লে মে‌য়ে‌দের নানা‌বিধ খরচ র‌য়ে‌ছে। তাই নি‌ষেধাজ্ঞার সময় সকল ধর‌নের সু‌যোগ সু‌বিধা দি‌তে সরকা‌রের প্র‌তি অনু‌রোধ জানান।

তারা অারও ব‌লেন, নি‌ষেধাজ্ঞার সময় তারা অ‌নেকে নদী‌তে না‌মে। একপ্রকার বাধ্য হ‌য়ে জী‌বিকার তা‌গি‌দেই  না‌ম‌তে হয়। তাই  সরকার‌কে সব বিষয়ই দেখা উ‌চিত।

‌জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়‌দেব পাল ব‌লেন, জেলার কার্ডধারী জে‌লেদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হ‌চ্ছে এবং নি‌ষেধাজ্ঞার সময় ই‌লিশ মাছ ধরা, বি‌ক্রি, প‌রিবহন, মজুদ না কর‌তে বি‌ভিন্নস্থা‌নে জনস‌চেতনতামূ‌লক সভা ক‌রে‌ছেন। এছাড়া নি‌ষেধাজ্ঞার সময় মা ই‌লিশ রক্ষায় প্রশাসন ও অাইন শৃঙ্খলা বা‌হিনীর সহ‌যো‌গিতায় নদী‌তে নি‌য়মিত অ‌ভিযান প‌রিচালনা শুরু ক‌রে‌ছেন। কার্ডধারী জে‌লে ছাড়া অন্য জে‌লেরা কোন সহ‌যো‌গিতা পা‌বে না। ত‌বে পর্যায়ক্র‌মে কার্ডধারী জে‌লেদের সংখ্যা বাড়‌ছে। গতবছর থে‌কে এবার ৬০ জন কার্ডধারী জে‌লের সংখ্যা বে‌ড়ে‌ছে রাজবাড়ী‌তে।

সদর উপ‌চেলা চেয়ারম্যান এডঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাস ব‌লেন, মিজানপুর ও বরাটে চাল কম দেবার অ‌ভি‌যোগ উ‌ঠে‌ছে, যে ১৭ কে‌জি ক‌রে দেয়া হ‌চ্ছে। অাস‌লে অ‌ভি‌যোগ সত্য না।  চাল ১৯ থে‌কে সা‌ড়ে ১৯ কে‌জি পর্যন্ত দেয়া হ‌য়ে‌ছে। বাঁকীটুকু দি‌তে পা‌রেন নাই প‌রিবহন খরচ ও গুদাম থে‌কে অানার ঘা‌র্তির কার‌ণে। তারপরও সু-‌নিদ্দিষ্ট অ‌ভি‌যোগ থাক‌লে দে‌বেন।

‌জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম ব‌লেন, ২২ দিন নি‌ষেধাজ্ঞার সময় রাজবাড়ীর পদ্মা নদী‌তে মাছ ধরা থে‌কে বিরত রাখ‌তে সকল ধর‌নের প্রস্তু‌তি সম্পন্ন ক‌রে‌ছেন। নিয়‌মিত নির্বাহী ম্যা‌জি‌স্ট্রেটসহ অন্যান্য অাইন শৃঙ্খলা বা‌হিনীর টহ‌লের পা‌শে ভ্রাম্যমান অাদালত প‌রিচা‌লিত হ‌চ্ছে। যে কার‌ণে জে‌লের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রচার প্রচারণার মাধ্য‌মে জে‌লেদের সতর্ক করা হ‌য়ে‌ছে। মা ই‌লিশ রক্ষা কার্যক্রম‌কে সফল কর‌তে মৎস্যজী‌বি, অাইন শৃঙ্খলা বা‌হিনী, জনপ্র‌তি‌নি‌ধি, সুশীল সমাজসহ সবার সহ‌যো‌গিতা কামনা ক‌রে‌ছেন। এছাড়া চাল বিতর‌ণে অ‌নিয়ম বা ওজ‌নের কম দেবার সু-‌নিদ্দিষ্ট কোন অ‌ভি‌যোগ পে‌লে জ‌রিত‌দের বিরু‌দ্ধে অাইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন কর‌বেন ব‌লেও তি‌নি জানান।

(Visited 51 times, 1 visits today)