ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ : রাজবাড়ীতে মৎস্যজীবিদের চাল ওজনে কম দেবার অভিযোগ –

রুবেলুর রহমান, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ৪৭১ জন মৎস্যজীবিকে ভিজিএফ এর চাল বিতরণের সময় ওজনে কম দেবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় প্রতিজনকে ২০ কেজি করে দেবার কথা থাকলেও ১৭ থেকে ১৮ কেজি’র বেশি কাউকে দেয়া হয়নি।


গত রবিবার বিকালে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রধান প্রজনন মৌসুম ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে মানবিক খাদ্য সহায়তা দেয়া উপলক্ষে গোদার বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ চাল বিতরণের উদ্বোধন করা হয়। এতে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ৪৭১ জন মৎস্যজীবিকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আরিফুর রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাস।বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ্জামান, মিজানপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আতিয়ার রহমান।


জানাগেছে, উদ্বোধনের সময় কয়েকজন জেলেকে চাল দিয়ে চলে যান অতিথিরা। পড়ে ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে মৎস্যজীবিদের চাল দেয়া হয়। এ সময় যাদেরকে চাল দেয়া হয়, তাদের প্রত্যেককেই ওজনে কম দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মৎস্যজীবিদের। এছাড়া জেলে নন এমন অনেকেই এ চাল প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চাল নিতে আসা মৎস্যজীবি গৌতম, লক্ষন চন্দ্র হালদারসহ অনেকে জানান, বালতি ভরে দুই বালতি চাল দিয়েছেন। এতে ২০ কেজি হবে না। ১৭ থেকে ১৮ কেজি হতে পারে। সব সময় তাদের এভাবে কম দেয়া হয়। কম দেবার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, সবাইকে একই ভাবে দিয়েছে।
মিজানপুর ইউপির ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুর রশিদ মনি জানান, গুদাম থেকে চাল এনে দেয়া পর্যন্ত অনেক খরচ। যে কারণে ওজনে একটু কম দেয়া হয়েছে।
মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আতিয়ার রহমান জানান, উপেজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে আলোচনা করেই ২০ কেজির স্থানে ১৯ কেজি করে চাল দিয়েছেন এবং কার্ড ছাড়া অনেকেই আছে, যাদেরকে ৫/১০ কেজি করে দিতে হবে। আর যারা চাল পেয়েছে তাদের ২০ কেজি করে দিলেও কম দেবার অভিযোগ করবে। এটা সব সময় তারা করে।


সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ্জামান জানান, মিজানপুরের ৪৭১ জন মৎস্যজীবিকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যম ও একজন ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ওজনের কম দেবার সুযোগ নাই, তবে অনেক সময় বস্তায় চাল কম থাকে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেক পাল জানান, জেলেদের চাল কম দেবার কোন সুযোগ নাই। ২০ কেজির ২০ কেজিই পাবে। এছাড়া পরিবহন খরচসহ অন্যান্য কারণে চাল কম দেবে তারও কোন সুযোগ নাই। পরিবহনের জন্য টন হিসাব করে ২৫০টাকা খরচ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবুল কালাম জানান, গুদাম থেকে চাল বা গম নেবার সময় সবাই বুঝে নেন। কেউ কম নেয় না। আর কম দেয়াও হয় না।

(Visited 117 times, 1 visits today)