“এক নক্ষত্রের পতন”- ডাঃসুনীল কুমার বিশ্বাস –



আকাশ হতে কত তারা খসে পড়ে রোজ,
কখন কোন তারা খসে পড়ে কেবা রাখে খোঁজ।
কিন্তু সে তারা যদি সাধারণ তারা না হয়ে,হয় নক্ষত্র
তখনো কি মানুষ চোখ বন্ধ করে রহিবে সর্বত্র।
সে যদি চারুকলার উজ্জ্বল জ্যোতিস্ক হয়
নাড়া দেবে মানুষের মন অতি সুনিশ্চয়।
যদি কেউ ভাবেন কি এমন ক্ষতি হবে আরো তো রয়েছে
কতো,
কিন্তু রাজবাড়ী জেলায় এমন আর কাউকে কি পাওয়া যাবে তাঁর মতো?
তুমি ছিলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের
প্রাক্তন অধ্যাপক,
শুধু আঁকা আঁকি নয় সংস্কৃতি বিনির্মানের কারিগর আর
সমাজ প্রগতির বাহক।
তেমনি এক অসামান্য উজ্জ্বল জ্যোতিস্ক ঝরে গেল জ্যোতিস্ক মন্ডল হতে,
জানিনা আরো কতকাল অপেক্ষা করতে হবে এমন একজন পেতে।
নির্জন স্বর্নশিমুল তলায় গড়ে তুলতে চেয়েছিলে বুনন
আর্টস স্পেস,এক নন্দনকানন,
সময় পেলে না হাতে, মহাকাল তোমায় নিয়ে গেল ছিন্ন করে এ বন্ধন।
স্বজনহীন নির্জনে একাকী কাটিয়েছ সেখানে একজন
তপস্বীর মত,
আঁকা আঁকি আর লেখালেখির তপস্যায় ছিলে মগ্ন অবিরত।
জন্ম তোমার ১৯৫০ সালে পাংশা উপজেলার কালিকা পুর গ্রাম,
নামটি তোমার শিল্পী মনসুর উল করিম।
পিতা তোমার প্রয়াত আব্দুল জলিল মহোদয়,
আমাদের কাছে ঠান্ডু ভাই নামেই তোমার পরিচয়।
শিল্পী রশীদ চৌধুরী জগত জোড়া খ্যাতি তাহার,
তিনিই যে হন পথ প্রদর্শক ও গুরু যে তোমার।
তোমার গুনী প্রিয় ছোট ভাই মেজবাহ উল করিম রিন্টু
হলো অকাল প্রয়াত,
রিন্টুর এভাবে চলে যাওয়া দূর্ভাগ্যজনক তোমাকে করিল আহত।
তারপর তুমি ভুগতে থাক গভীর হতাশায়,
মুখের হাসি ঢেকে যায় তোমার ঘন কুয়াশায়।
তোমার কাজকর্মে নেমে এলো মন্থর গতি,
রিন্টু বেঁচে থাকলে এমনটি কখনো হতো না ক্ষতি।
২০০৯সালে তোমার নৈপুণ্যের স্বীকৃতি স্বরুপ পেলে একুশে পদক যে রাষ্ট্রীয়,
রাজবাড়ী জেলার সকল মানুষের মুখ উজ্জ্বল করেছে তোমার এ পদক পাওয়ায়।
তোমাকে আমরা দেইনি কো ভালোবাসা ও যোগ্যতর সম্মান,
তাই বুঝি চলে গেলে নিয়ে একরাশ ব্যথা ও অভিমান।
রাজবাড়ীর আমজনতা তোমাকে বাসত ভালো,
কারণ তুমি যে করেছো আপন মহিমায় তাদের মুখ আলো।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে,
আমরা জানতাম না সে কথা হঠাৎ তোমার মৃত্যুর খবর পাই টিভি ও মোবাইলে।
২০২০সালের ৫ই অক্টোবর নিলে তুমি চির বিদায়,
দেশ বরেণ্য চিত্র শিল্পী মনসুর উল করিমের জীবনের এইভাবেই ইতি হয়।
যুগ যুগ ধরি নয়ন মোদের সিক্ত হবে তোমাকে স্মরি,
ওপারে যেয়ে ভালো থেক তুমি এ কামনা করি।
তোমার আশা ছিল দেশ বিদেশের বরেণ্য শিল্পী ও গুণীজনেরা আসবে বুননে তোমার কর্ম দেখতে,
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তোমার আশা পূরণ হলো না তোমাকে হল যেতে।
রাজবাড়ীর আমজনতা চিরদিন করবে তোমায় স্মরণ,
বিদায় বেলায় তোমাকে জানাই শ্রদ্ধা ও অভিবাদন।

(Visited 67 times, 1 visits today)