গ্রেপ্তার হওয়া পাংশার জজ আলী বিশ্বাসের বয়স ৬৩ না ৮০ ? –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ী জেলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া জজ আলী বিশ্বাসের প্রকৃত বয়স নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেই দাবী করছেন জজ আলী বিশ্বাসের বয়স ৮০ বছর। তবে নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী (এনআইডি নম্বর ৮২১০১৬৪৮২৪২১ এবং জন্ম তারিখ ১০-০২-১৯৫৭) তার বয়স ৬৩। যদিও পাংশা উপজেলা আওয়ামীলীগের সংবাদ সম্মেলনে জজ মিয়ার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে।


জানাগেছে, চলতি বছরের গত ১৩ মার্চ নির্মমভাবে গুলি করে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কশবামাজাইল ইউনিয়নের সুবর্ণখোলা গ্রামের স্কুল শিক্ষক আসাদুল খানকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা জেলার পাংশা উপজেলার কশবামাজাইল ইউনিয়নের শান্তিখোলা গ্রামের মৃত আফজাল বিশ্বাসের ছেলে জজ আলী বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে ৫১ জনের বিরুদ্ধে পাংশা থানায় একটি মামলা করে। যে মামলা জজ আলী হাইকোট থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তবে তার সে জামিনের মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিলো। গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে সুবর্নখোলা গ্রামের একটি মেহগনি বাগান থেকে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও পাংশা থানা পুলিশের সদস্যরা ৩৭ জনকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার করে। যার মধ্যে ৩৪ জনই শিক্ষক আসাদুল খান হত্যার মামলার পলাতক আসামি। সে সময় পুলিশ ২টি ওয়ান শুটার গান, ৩টি কাতুজ, ৯ টি চাপাতি, ৬ টি হাসুয়া, ৪ টি ছোরা, ২টি রামদা, ১টি দা, ১টি ভোজালী, ২টি জিআই পাইপ ও ১টি লোহার রড় উদ্ধার করে। ওই ঘটনার পর গত শুক্রবার বিকালে আসাদুল হত্যা মামলার এতো গুলো আসামি এক সাথে গ্রেপ্তার হওয়ায় আনন্দিত হয়েছেন কসবামাজাইল ইউনিয়নের সুবর্নখোলা গ্রামের বাসিন্দারা। যে কারণে তারা রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএম-এর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন। একই সাথে তারা স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলার পাশাপাশি আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি করেছে।


এদিকে, গত বৃহস্পতিবার পাংশার কসবাসাজাইল ইউনিয়নের ৩৭ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে গ্রেপ্তা দাবী করে উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ডাঃ এএফএম সফীউদ্দিন আহমেদ পাতা। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে দাবী করেছেন, “জজ আলী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে এবং তার বয়স ৮০ বছর”।
ওই সংবাদ সম্মেলনে পাংশা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খন্দকার সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল বাড়ী ফটিক, সরিষা ইউপি চেয়ারম্যান আজমল আল বাহার, বাহাদুপর ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদ, পাংশা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মারুফ প্রমূখ।


রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি ওমর শরীফ জানান, ২০১২ সালে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা, ডিজিএফআই ও এনএসআই চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের তালিকায় রাজবাড়ীর শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে জেলার পাংশা উপজেলার কশবামাজাইল ইউনিয়নের শান্তিখোলা গ্রামের মৃত আফজাল বিশ্বাসের ছেলে জজ আলী বিশ্বাসের নাম রয়েছে। তার ছবি রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের তালিকার বোর্ডেও টানানো রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণী পাস জজ আলী একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী। সে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও সন্ত্রাসী গ্রুপ করছে নিয়ন্ত্রণ।

(Visited 3,201 times, 1 visits today)