রাজবাড়ীর ডাঃ আবুল হোসেন কলেজে হ-য-ব-র-ল অবস্থা, বিধি ভঙ্গের অভিযোগ –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ী জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র অবস্থিত ডাঃ আবুল হোসেন কলেজে হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে কলেজটির শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হতে শুরু করেছে। একই সাথে চেন অফ কামান্ড ভেঙ্গেপড়ার আশংকা করা হচ্ছে।


জানাগেছে, কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল গত ৮ জুলাই অবসরে গেছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী জেষ্ঠ্য শিক্ষকের উপর দায়িত্ব হস্তান্তর করার নিয়ম থাকলেও এ কলেজের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। কলেজের প্রভাষক খন্দকার ফারুক আহম্মেদের কাছে সাময়িক দায়িত্বভার প্রদান করা হয়েছে। অথচ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বেসরকারী কলেজ শাখার সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল কাদের স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই পাঠানোপত্রে জেষ্ঠ্য শিক্ষক চৌধুরী আহসানুল করিমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করার বিজ্ঞপ্তিও প্রদান করা হয়েছে। সেই সাথে ২০১৯ সালের ১৫ মে দেয়া পত্রে জেষ্ঠ্য শিক্ষককে কেন দায়িত্ব দেয়া হয়নি তা গভনিংবডির সভাপতিকে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশও প্রদান করা হয়েছে।


জেষ্ঠ্য শিক্ষক চৌধুরী আহসানুল করিম জানান, যে সভায় কলেজের প্রভাষক খন্দকার ফারুক আহম্মেদকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে সাময়িক দায়িত্বভার প্রদান করা হয়েছে সে রেজুলেশনে গভনিংবডির তৎকালিন সভাপতি ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী স্বাক্ষর করেননি। ফলে সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে খন্দকার ফারুক আহম্মেদ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


অপরদিকে, কলেজটির গভনিংবডির মেয়াদ উত্তির্ণ হওয়ায় নতুন করে সভাপতি পদে তিন জনের নাম উল্লেখ করে গত ৩০ মার্চ কলেজ পরিদর্শক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুর বরাবর গভনিং বডির সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনয়নের আবেদন করা হয়। ওই আবেদনে সভাপতি পদে রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী, রাজবাড়ী সরকারী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ ফকরুজ্জামান এবং ব্যবসায়ী মতিন সেখের নাম, বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাস, ব্যবসায়ী কাজী নাজমুল হুদা ও ব্যবসায়ী মোঃ কামাল সেখের নাম, দাতা প্রতিনিধি নুরজাহান হোসেন, হিতৈষী প্রতিনিধি হিসেবে ডাঃ আবুল হোসেন কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলালের নাম, নির্বাচিত তিন জন অভিভাবক প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম, নীতিশ কুমার ভৌমিক ও ইশরাত জাহান নির্বাচিত শিক্ষক হিসেবে সেলিম মিয়া, শামিমা আক্তার ও হাজেরা খাতুনের নাম পাঠানো হয়। ওই আবেদনপত্রে সভাপতি হিসেবে রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী এবং অধ্যক্ষ হিসেবে ডাঃ আবুল হোসেন কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলালের স্বাক্ষর রয়েছে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে এই আবেদনপত্রটি অনুমোদনে দীর্ঘ সূত্রিতা করে। প্রায় দুই মাস পর গত ২৭ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে মহামান্য হাইকোর্টের একটি রায় উল্লেখ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ সদস্যের স্থালে বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যাযে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কলেজ গভনিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করার জন্য বলা হয়। অথচ ডাঃ আবুল হোসেন কলেজে এ নিয়মের ব্যপ্তয় ঘটিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। গভনিং বডির ওই আবেদনে সভাপতি পদে রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী, রাজবাড়ী সরকারী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ ফকরুজ্জামান এবং ব্যবসায়ী মতিন সেখের নাম প্রস্তাব পাঠানো হলেও এ তিন জনের কাউকে এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে না দিয়ে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আবুল জব্বারকে গত ২৭ জুলাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর দিন ২৮ জুলাই সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়।


কলেজের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, গভনিং বডির বর্তমান সভাপতি ফকির আব্দুল জব্বারের মেয়ে শামিমা আক্তারও একই গভনিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি। সেই সাথে একই কলেজের শিক্ষক শামিমা আক্তার ওই কলেজের অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ দু’টি পদেই প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেছেন।


কলেজ গভনিংবডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাস বলেন, আবেদনপত্রের বাইরে নতুন সভাপতির দায়িত্ব প্রদান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দিতে পারে। বাবা ও মেয়ে একই গভনিং বডিতে থাকতেও পারে। তবে সিনিয়র কোন শিক্ষক ছাড়া এই কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া হলে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটির শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। তারা যে কোন মূল্যে অচলাবস্থা দুর করে কলেজের সুনাম ফিরিয়ে আনবেন বলে আশা করেছেন।

(Visited 450 times, 1 visits today)