প্রতারণার নতুন ফাঁদ: মোবাইলে কথিত শিক্ষিকার সাথে পরিচয়, চা খেতে এসে লাখ টাকা গচ্চা! –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

কথিত নারী শিক্ষকের সাথে তিন মাস আগে পরিচয় হয়, ২০১৯ সালে ঢাকা বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও কালুখালী উপজেলার মৃগী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের। ওই নারী শিক্ষক তার বাসায় হাবিবুর রহমানকে চা খাবার আমন্ত্রণ জানান। আর ওই চা খেতে গিয়ে, একটি চক্রের হাতে আটকের শিকার হন হাবিবুর রহমান। তার কাছে দাবী করা হয় পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপন। পরে বিকাশের মাধ্যমে নগদ এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। তবে বাকী চার লাখ টাকা আদায় কালে গ্রেপ্তার হন ওই চক্রের তিন সদস্য। এ ঘটনায় শিক্ষক হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলা গ্রেপ্তার হওয়া তিন জনকেই আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, জেলার পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের যশাই পশ্চিমপাড়া গ্রামের মোঃ সবুর মন্ডলের স্ত্রী মোছাঃ নার্গিস বেগম (৩০), যশাই কাঞ্জনপুর গ্রামের মোঃ জুলফিকার আলী জীবনের স্ত্রী মোছাঃ ফারজানা আক্তার রিয়া ওরফে অনুফা (২৫) এবং যশাই পশ্চিমপাড়া গ্রামের আকবর আলী মন্ডলের ছেলে মোঃ সাবু মন্ডল (৩৬)। গ্রেপ্তারকৃতরা বর্তমানে রাজবাড়ী জেলা শহরের ভবানীপুর গ্রামের পারুল বেগমের বাড়ীতে ভাড়া থাকেন।

শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, তিন মাস পূর্বে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হওয়া নার্গিস বেগমের সাথে তার পরিচয় হয়। সে সময় নার্গিস জানায় সে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। যে কারণে তাদের সাথে মাঝে মধ্যেই কথপোকথন হতো। আর সেই কারণেই নার্গিস তাকে রাজবাড়ী জেলা শহরের ভাড়া বাসায় চা খাবার আমন্ত্রণ জানায়। গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে তিনি রাজবাড়ী আসেন এবং নিজের কিছু প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নার্গিসের ভাড়া বাসায় জান চা খেতে। ওই সময় নার্গিস তাকে তার রুমে বসতে দেন। এর কিছু সময়ের মধ্যে সেই রুমে এসে তার পাশে বসে মোছাঃ ফারজানা আক্তার রিয়া ওরফে অনুফা। এর পর পরই সেখানে আসে সাবু মন্ডল। আর সাবু মন্ডল এসেই অনুফার সাথে অশ্লিল কাজ করছেন বলে উল্লেখ করে তাকে গালাগাল দিতে শুরু করে এবং বলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। তা না হলে মানুষ ও পুলিশ ডেকে তুলে দেবের ভয়ভীতি দেখায় এবং তাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে। যে কারণে বাধ্য হয়ে তিনি বিকাশে এক লাখ টাকা প্রদান করেন এবং বাকী টাকার জন্য চেক দেবার কথা স্বীকার করে। সেই সাথে তার শ্যালক এসএম হারুন অর রশিদকে চেক আর নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে রাজবাড়ীতে আসতে বলেন। হারুন অর রশিদ রাজবাড়ীতে এসে জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করে। পরে গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে এবং ওই তিনকে গ্রেপ্তার করে।


বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, মোছাঃ নার্গিস বেগম শিক্ষক নন। তিনি ভুয়া পরিচয় দিয়ে হাবিবুর রহমানের সাথে মোবাইলে সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় মোছাঃ নার্গিস বেগম, মোছাঃ ফারজানা আক্তার রিয়া ওরফে অনুফা ও সাবু মন্ডলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

(Visited 13,686 times, 1 visits today)