মা’কে ছেড়ে অসময়ে চলে গেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাকন মিয়া –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিষয়ে সদ্য পাস করা রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর গ্রামের মেধাবি ছাত্র কাকন মিয়া (২৫) গত বুধবার রাতে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নানিল্লাহে—– রাজেউন)। তিনি মা, বড় এক ভাই ও এক বোনকে রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাড়ী ও হাবাসপুর পূর্বপাড়া ঈদগা মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় করবস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।


পরিবারের সদস্যরা জানান, করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ীতে ফিরে আসে কাকন। গত এক সপ্তাহ ধরে সে হাম, জ্বর, সর্দি, ঠান্ডায় ভুগছিলেন। মারাতœক অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে গত বুধবার বিকালে তাকে রাজধানী ঢাকার কল্যানপুরের ইবনেসিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পৌছানোর পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৃত বলে ঘোষনা করা হয়। রাতেই মরদেহ গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়।


তার বড় ভাই রুবেল মিয়া রাজবাড়ী বার্তা ডট কমকে জানান, বেশ কয়েক বছর আগে তাদের বাবা জয়নাল আবেদীন ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মা হাসিনা খাতুন সাংসারিক আয় থেকে, তিনি ডাস বাংলা ব্যাংক ও তার বোন তন্নি আক্তার ব্র্যাকে চাকুরী করে কাকন মিয়ার পড়াশোনার অর্থ জুগিয়েছেন। ছেলে বেলা থেকেই কাকন ছিলো অত্যান্ত মেধাবী। এসএসসি ও এইচএসতিতে জিপিএ-৫ এবং ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে “ঘ” ইউনিটে ৫০ তম স্থান অর্জন করেছিলেন।
তার মৃত্যুতে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএমসহ অন্যান্যরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।


পুলিশ সুপার তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন-
কাকন মিয়া। সদ্য যৌবনে পা দেয়া সদা হাস্যোজ্জল সুদর্শন একজন টগবগে তরুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিষয়ে কেবল মাত্রই পাশ করে বেরিয়েছে। চোখে ভরা আকাশ সমান স্বপ্ন তার এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে যাবার। কোভিড আসার পর ইউনিভার্সিটির হল বন্ধ হয়ে গেলে কাকন তার গ্রামের বাড়ী রাজবাড়ী জেলার পাংশার হাবাসপুরে চলে আসে। করোনার প্রকোপ ঠেকাতে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ যখন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে রাজবাড়ীর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্ঠা করছিল তখনই কাকন একদিন আমাকে মেসেন্জারে নক করলো। সে আমার সাথে দেখা করতে চায়। জেলা পুলিশের সাথে কাজ করতে চায়। আমি তাকে আমার অফিসে আসতে বললাম।
সে আমার অফিসে আসলো। বিভিন্ন কথা বললো। আলাপ করে বুঝলাম, মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়ানোর অদম্য বাসনা তার। আপাদমস্তক একজন স্বপ্নবাজ তরুন। করোনার মধ্যে সে স্থানীয় ছেলেদেরকে নিয়ে মানুষের জন্য অনেক কিছুই করেছে। কাল তার মৃত্যুর সংবাদ পেলাম। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই একটা সংবাদ। পরে জানলাম, গত পাঁচ দিন ধরে সে জ্বর, ঠান্ডা এবং কাশিতে ভূগছিল। গায়ে ছিল চাকা চাকা দাগ। স্থানীয় চিকিৎসক নাকি বলেছিল হাম হয়েছে। অত:পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যগন তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অক্সিজেন লেভেল কমে গেলে ঢাকার হাসপাতালের রেফার করা হয়। ঢাকায় যাওয়ার পর হাসপাতালে পৌছার আগেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কিছু মৃত্যু মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। কাঁকনের এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। মানুষের জন্য যার বুক ভরা ভালবাসা .. তাকেই কেন অসময়ে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হবে ? কাকন, তুমি নিষ্পাপ। জেনে রেখো, এই পঙ্কিল পৃথিবীতে তোমার জ্লজ্বলে ভালবাসাই ছড়িয়ে রয়েছে মানুষের হৃদয়ে। ওপারে ভাল থেকো কাকন…।

(Visited 2,548 times, 1 visits today)