দুর্ণীতিকে বালিয়াকান্দির ইউএনও এবং ওসি ‘না’ ঘোষনা –

সোহেল রানা, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

ব্যক্তিগত সুবিধা ছাড়াই কাঙ্খিত সেবা প্রদান করা যায় ও সেবা পাওয়া যায়, তার নজির স্থাপন করতে ঘুষ-দুর্ণীতিকে বিদায় জানিয়ে জনগণের দ্বোরগোড়ায় সেবা পৌছে দেওয়ার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম হেদায়েতুল ইসলাম ও থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুজ্জমান। যাদের পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে জীবন বাজি রেখে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করে লাল-সবুজের পতাকা ছিনিয়ে এনেছিলেন। সেই পিতার আদর্শকে বুকে ধারণ করে সোনার বাংলা গড়তে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিষয়টি ইতিমধ্যেই ব্যাপক ভাবে জননন্দিত হয়েছে। আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে অবহেলিত মানুষ।

জানাগেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম হেদায়েতুল ইসলাম গত ১৪ জানুয়ারী বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তিনি হ্যান্ড মাইক হাতে নিয়ে বিভিন্ন বাজারে গিয়ে জনগণকে এ রোগের ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করেন। সেই সাথে মহামারী থেকে রক্ষা পেতে করণীয় বিষয়ে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে অনুরোধ করেন। দিন-রাত মাঠে থেকে কাজ করার ফলে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ভিক্ষুক, বেকার শ্রমজীবি, কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য পৌছে দিতে কাজ করেন। তিনিও করোনা আক্রান্ত হন। করোনার সাথে যুদ্ধ করে আবারও মানুষের সেবায় মনোনিবেশ করেন। তিনি যোগদানের পর থেকেই কোন প্রকার ঘুষ ছাড়া সাধারণ মানুষের সেবা প্রদান করে আসছেন। তিনি ঘুষ ছাড়াই সরকারী সেবা পাওয়া যায় এ ঘোষনা দিয়েই জনসেবা দিয়ে আসছেন।
অপরদিকে, বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুজ্জামান গত ২৫ আগষ্ট যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন হাট-বাজার, মসজিদ, সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিয় সভা করেছেন। তিনিও প্রথম দিন থেকেই স্বচ্ছ পুলিশী সেবা ও ঘুষ-দুর্ণীতিকে না জানিয়ে দিয়েছেন। থানায় আসতে কোন দালাল লাগবে না বলেও ঘোষনা দিয়েছেন। কয়েকদিনের কর্মকান্ডে তৃণমুলের সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়িয়েছেন। সকলকে সাথে নিয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা আতœহত্যা প্রবনতাকে হ্রাস করতে কাজ শুরু করেছেন। এ ঘোষনায় অপরাধীরাও থমকে গেছে।

এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ বলেন, আমরা চাই হয়রানী ও ঘুষ-দুণীতিমুক্ত সেবা প্রদান। বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ওসি দু,জনই ঘুষ-দুর্ণীতি ছাড়া সেবা প্রদানের যে ঘোষনা দিয়ে কাজ করে আসছেন তার সুফল জনগণ পাচ্ছে। আমরা চাই দেশের প্রতিটি উপজেলা ও থানাকে এমন ঘোষনা করে জনগণের সেবা দ্বোড়গোড়ায় পৌছে যাক।

বালিয়াকান্দির পত্রিকা বিক্রেতা বাবর আলী বলেন, আমি প্রতিটি ইউনিয়নের বাজারে বাজারে যাই। ইউএনও ও থানার ওসি যে ঘুষ খায় না, তা নিয়ে চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন আলোচনা শোনা যায়। এতে জনগণ খুশি। দু,জনকে আরো শক্ত হাতে কাজ করার জন্য জনগণ সাথে থাকবে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির বালিয়াকান্দি শাখার সাধারণ সম্পাদক সনজিৎ কুমার দাস বলেন, বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলা গড়তে সোনার মানুষ প্রয়োজন। বালিয়াকান্দি উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর রনাঙ্গনের সাথী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম হেদায়েতুল ইসলাম ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ওসি তারিকুজ্জামান সমমনা দু,জন কর্মকর্তাকে পেয়ে উপজেলাবাসী ধন্য। কাধে কাধ মিলিয়ে দু,জন কাজ করলে সুধিমহল তাদের পাশে থাকলে বালিয়াকান্দি উপজেলাই হবে প্রধানমন্ত্রীর কাঙ্খিত বাংলাদেশের একমাত্র মডেল।

বালিয়াকান্দি উপজেলা দুর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিনয় কুমার চক্রবর্তী বলেন, দীর্ঘদিন বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে আমি মিশে আসছি। অনেক ধরণের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পেয়েছি। তাদের সাথে নিবিড় ভাবে মিলে-মিশে তাদের চারিত্রিক গুনাবলীও আমি নিজে প্রত্যক্ষ করেছি। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রথমদিন থেকেই তিনি আমাকে যতেষ্ট আকৃষ্ট করেছেন। তিনি এখানে এসেছেন সেবক রুপে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয়। বালিয়াকান্দি উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে তিনি যে আশ্বাস আমাদেরকে দিয়েছেন এবং তিনি বাস্তবে শুরু করেছেন। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে সেই উদ্দেশ্যে গুলি স্থগিত রেখে উপজেলাবাসীর সেবায় তিনি যে ভাবে আতœনিয়োগ করেছেন, সেটা একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। জীবনকে বাজি রেখে মুমুর্ষ মানুষের পাশে কখনো একাই দাড়িয়েছেন। আবার তিনি শেষকৃত্য পর্যন্ত সম্পন্ন করেছেন। তিনি আমাদের মাঝে নমস্য। থানার ওসিও যোগদানের পর থেকে ঘুষ-দুর্ণীতি পরিহারের ঘোষনা দিয়েছেন তাকেও আমাদের পক্ষ থেকে শুভ কামনা রইল। যাতে এ ধারা অব্যহত থাকে।


বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুজ্জামান বলেন, অন্যায়ের সাথে কোন আপোষ হবে না, থানাকে দালালমুক্ত করা হবে। কোন অন্যায় কাজের পক্ষপাতিত্য করলে তাকেও ছাড় দেয়া হবে না, আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। হয়রানীমুক্ত জনগণের কাঙ্খিত সেবা প্রদান ও দুর্ণীতিমুক্ত পুলিশ গড়তে কাজ করবো। এ কাজে উপজেলার সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা চাই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, হয়রানী না করেও হাসি মুখে স্বল্প সময়ে জনগণের সেবা প্রদান করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সে লক্ষ্য নিয়েই আমি মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এ কাজ অব্যাহত থাকবে বলে আশা রাখি।

(Visited 106 times, 1 visits today)