বালিয়াকান্দিতে জমি লিখে না দেওয়ায় মাকে বাইরে রেখে বসত ঘরে তালা দিলো ছেলে –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

করোনাকালের এ দুঃসময়ে জমি লিখে না দেয়ায় এক মাকে বসত ঘর থেকে বের করে দরোজায় তালা লাগিয়ে দিয়েছে ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল গ্রামে। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মধ্যস্ততায় টানা চার দিন পর শনিবার দুপুরে ঘরের চাবি বুঝে পেয়েছেন ওই মা।


জানাগেছে, উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের জঙ্গল গ্রামের ভবেন্দ্রনাথ সেন একজন ভুসম্পত্তির মালিক। তার এক ছেলে সুমন সেন। আর ২ মেয়ে। ছেলে ও মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। তিনি মৃত্যুর আগে স্ত্রী নয়ন তারা সেনের নামে ৩ পাখি জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়ে যান। কিন্তু ছেলে সুমন সেন তার পছন্দ মতো মেয়েকে বিয়ে করায় তাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মেনে নিতে পারেননি ভবেন্দ্রনাথ সেন। সুমন সেন জেলার পাংশায় একটি ঔষধ কোম্পানীতে চাকুরীর পাশাপাশি সেখানেই বসবাস করেন। তার মায়ের নামে থাকা জমি লিখে দেওয়ার জন্য ও মাকে পাংশায় বাসায় নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়ে গত সোমবার মাকে বাইরে রেখে ঘরে তালা দিয়ে চলে গেছে।


নয়ন তারা সেন জানান, আমার স্বামীর এখনো কোটি টাকার উপড়ে সম্পত্তি রয়েছে। একমাত্র ছেলে ঔষধ কোম্পানীতে চাকুরী করায় স্ত্রীকে নিয়ে পাংশায় থাকে। স্বামীর মৃত্যুর পর সব জমাজমি বাৎসিক বন্দক দিয়ে অর্থ নিয়ে গেলেও আমাকে খাবার খরচও দেয় না। উল্টো আমার নামের জমি তাকে লিখে দেওয়াসহ আমার ২ মেয়ের সাথে আমি যাতে যোগাযোগ না রাখি তার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। আমাকে পাংশায় বাসায় নিয়ে যেতে চাইলে আমি দু’দিন পর যেতে চাই, তা সত্বেও গত সোমবার আমাকে ও মালামাল বাইরে রেখে ঘরে তালা মেরে চলে গেছে। বিষয়টি জঙ্গল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি। উপায়ন্ত না পেয়ে আমি বিভিন্ন বাড়ীতে রাত কাটাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমন সেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার মাকে আমি তালা দিবো না, বাইরে রাখবো, এটা আমার ব্যাপার। আপনাদের ব্যাপার না। আমি তাকে পাংশা আসতে বলি সে না আসলে কি করবো।
জঙ্গল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, তিনি সুমনকে তার মায়ের সাথে ভাল আচরন করা এবং ঘরের চাবি ফিরিয়ে দিতে বলেছেন।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম হেদায়েতুল ইসলাম জানান, বিষয়টি দুঃখ জনক। যে কারণে তিনি সুমনকে দ্রুততার সাথে তার মায়ের ঘরের চাবি ফেরৎ দেবার নির্দেশ দেন। যে কারণে ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় সুমন চাবি ফেরত পাঠায় এবং তার তার মায়ের হাতে দুপুরেই পৌছে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সুমনের মা নয়ন তারা নিজ বসত ঘরেই অবস্থান করছেন।

(Visited 45 times, 1 visits today)