দৌলতদিয়ায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সুফল : আধা ঘন্টার মধ্যেই স্কুল ছাত্রীকে খুজে দিলো পুলিশ-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

তিশা আক্তার নিঝুম। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া লেখা করে। মায়ের হাত ধরে ঢাকায় যাওয়ার পথে দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট এলাকায় হারিয়ে গেলেন। মা জান্নাত বেগম মেয়েকে হারিয়ে পাগলের মত উম্মাদ হয়ে গেলেন। মা দৌলতদিয়া ট্রাফিক পুলিশ কন্টোল রুমে গিয়ে পুলিশের আশ্রয় নিলেন। সেখানে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএম-এর স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে মাত্র আধা ঘন্টার মধ্যে নিঝুমকে উদ্ধার করে তার মায়ের হাতে তুলে দেন।


বৃহস্পতিবার সোয়া ১২টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে নামেন মা ও মেয়ে। গাড়ি থেকে নেমে লঞ্চ ঘাটের উদ্দ্যেশে পায়ে হেঁটে যেতে শুরু করেন তারা। কিন্ত মাঝ রাস্তায় মাক্স ক্রয়ের জন্য একটি দোকানে দাঁড়িয়ে পড়েন। মেয়ে নিঝুম হাঁটতে থাকে। ৫ মিনিটের ব্যবধানে মেয়ে তিশা চোখের আড়াল হয়ে যায়। শুধু চোখের আড়াল নয়। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
এমন অবস্থা মা জান্নাত বেগম হাউ মাউ করে কাঁন্না শুরু করলেন। দোকানে দোকানে গিয়ে মেয়েকে খুঁজতে থাকেন। না, কোথাও খোঁজে পাচ্ছেন না। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে পরেন তিনি। নিরুপায় হয়ে এলামেলো ঘুরতে থাকেন।


এমন সময় স্থানীয় লোকজন পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দিলেন। মা জান্নাত বেগম আশা নিয়ে ছুটে গেলেন পুলিশের কাছে। দৌলতদিয়া ট্রাফিক পুলিশ কন্টোল রুমে তখন বসে ছিলেন রাজবাড়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন। তিনি কাঁন্নারত অবস্থায় মহিলাটি দেখে বসতে দিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলেন। জান্নান বেগম পুলিশের কাছে সব কিছু খুলে বললেন। তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সালাউদ্দিন দৌলতদিয়া কর্মরত সকল আইন শৃংখলাবাহিনীর সদস্যদের ম্যাসেস দিলেন তিনি। সবাই মেয়েটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে গেলেন।


দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ৮টি সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রন করে। সিসি ক্যামেরা সকল ফুটেজ দেখতে থাকেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সালাউদ্দিন। সিসি ক্যামেরার সহযোগিতায় মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে শিশু মেয়েটি খুঁজে পেলেন পুলিশ। ফিরে দিলেন মায়ের হাতে। পরবর্তীতে মা মেয়েকে পুলিশের সহযোগিতায় নবীনগর পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। খুঁজে পাওয়া মেয়েটি কে কিছু শুকনো খাবার দেন রাজবাড়ী মোঃ সালাউদ্দিন।


ফিরে পাওয়া মেয়ে তিশার মা জান্নাত বেগম জানান, সেজ মেয়ের বাড়ী আলমডাঙ্গা বেড়াতে গিয়ে ছিলাম। সেখান থেকে নবীনগর বাইপাইল যাওয়ার উদ্দ্যেশে এসেছি। কিন্ত ঘাটে এসে আমার ভুলে মেয়েকে হারিয়ে ফেলি। কিন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সালাউদ্দিন এর সহযোগিতায় মেয়েকে ফিরে পেয়েছি। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না। এই আনন্দ অনুভব করতে হবে।
রাজবাড়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সালাউদ্দিন জানান, পুলিশের এটা দায়িত্ব। আমরা শুধু আন্তরিকতা দিয়ে পুলিশের দায়িত্ব পালন করেছি। তিনি আরো বলেন, কাজের মধ্যে আন্তরিকতা থাকলে যে কোন কাজে সফলতা পাওয়া যায়।


উল্লেখ্য, খুঁজে পাওয়া মেয়ের নাম তিশা আক্তার নিঝুম। বাবা মৃত্যু সাবদুল হোসেন। বাড়ী চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার সতেরো রশিয়া এলাকায়। জম্মের পর বাবাকে হারিয়ে মায়ের সাথে নবীনগর বাইপাইল এলাকায় বোনের বাড়ীতে বসবাস করে মেয়েটি।

(Visited 109 times, 1 visits today)