রাজবাড়ীতে পানির দামে চামড়া বিক্রি –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

অবস্থার কোনো উন্নতি নেই। গেল বছরের মতো এ বছরের ঈদুল আযহার দিন পানির দরে বিক্রি হয়েছে চামড়া। সরকার নির্ধারিত দাম রাজবাড়ী কোথাও মানা হয়নি। মাঝারি এবং বড় সাইজের একটি চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সর্বনিম্ন ১০০ টাকাতেও পাওয়া গেছে গরুর চামড়া। আর এক একটি খাসির চামড়া বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ২০ টাকার মধ্যে।

তবে গেল বছরের মতো এবার রাজবাড়ীতে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। আড়তদাররা এবং ব্যবসায়ীরাই চামড়া কিনেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চামড়া সংরক্ষণে স্থানীয়ভাবে লবণ জাত করার জন্য পরামর্শ দেয়া হলেও কেউ এই কাজটি করেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত আড়তদাররা ইচ্ছাকৃত দামে চামড়া কিনে নিয়েছে। বঞ্চিত হয়েছে দরিদ্র মানুষ। অর্থাৎ অনেকে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে এতিমখানা এবং মসজিদে দান করে দিয়েছে।

রাজবাড়ী শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আড়তদাররা নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কেনার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করে। নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে দ্রুত কম দামে চামড়া বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয় সাধারণ মানুষ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেশব্যাপী স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হলেও রাজবাড়ীর কোথাও তা কার্যকর হতে দেখা যায়নি। ফলে গেল বছরের মতোই এবারও চামড়া বিক্রিতে দামের ক্ষেত্রে নৈরাজ্য তৈরি হয়।


বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারণ করা মূল্যে মাঝারি মানের অর্থাৎ ২০-২২ বর্গফুটের একেকটি গরুর চামড়ার দাম ৫০০ থেকে সাড়ে পাঁচশো টাকার মধ্যে হওয়ার কথা। কিন্তু রাজবাড়ী শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সেই চামড়া বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। দাম যাচাই এর ক্ষেত্রে কোথাও কোনো তদারকি চোখে পড়েনি।


গেল বছরের চেয়ে, এবছর কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় চামড়ার দাম। অর্থাৎ ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ২৮ থেকে ৩২ টাকা। গেল বছর গরুর চামড়ার দাম ছিল ৩৫-৪০ টাকা, যা এবারে প্রায় ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে। আর ছাগলের চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয় ১৩-১৫ টাকা। গেল বছর এই দাম ছিল ১৮ থেকে ২০ টাকা বর্গফুট। গেল বছরের তুলনায় ছাগলের চামড়ার দাম কমেছে প্রায় ২৭ শতাংশ।

(Visited 47 times, 1 visits today)