করোনাকাল: কী করবেন, কী করবেন না?

কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের কারণে নিশ্চিত করেই আমরা একটা কঠিন সময় পার করছি। এরই মধ্যে দেশে ২ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। রাজবাড়ীতেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে ধেই ধেই করে। এরই মধ্যে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে গেছেন জেলার ৪ জন মানুষ। অনেকেই আক্রান্ত হয়ে লড়ছেন করোনার সঙ্গে।

অদৃশ্য এক ভাইরাস রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বে। যারা আক্রান্ত তারা লড়ে চলেছেন আর বাকিদের দিন কাটছে আতঙ্কে! কিন্তু আতঙ্ক নয় আপনাকে হতে হবে সাবধান। একটু সাবধানতাই পারে করোনা ভাইরাস থেকে আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে নিরাপদে রাখতে।

চলু জানি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডাব্লিউএইচও কী পরামর্শ দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেশ কিছুদিন ধরেই বলছে-

১. করোনা মানুষরে নাক-চোখ-মুখরে মাধ্যমে শরীরে প্রবশে কর। পরে জেনেটিক কোড বদলে শক্তশিালী ও আত্রমণাত্মক হয়ে ওঠ।
২. করোনা ভাইরাসটি একটি চর্বির আস্তরে মোড়া থাকে। তাই সাবান ও ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিস্কার করা গেলে ভাইরাসটি থেকে বাঁচা সম্ভব।
৩. গরম তাপমাত্রা চর্বি গলাতে পারে। তাই হাত বা কাপড় ধোয়ার ক্ষত্রেে অন্তত ২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করা উচতি।
৪. অ্যালকোহল কিংবা অন্তত ৬৫% অ্যালকোহলের মিশ্রন যে কোনো ধরনরে চর্বি ভাঙাতে পারে।
৫. এক ভাগ ব্লিচিং পাউডার ও পাঁচ ভাগ পানির মিশ্রনে করোনার চর্বি নষ্ট হয়।
৬. করোনা কাপড়ে লেগে থাকতে পারে। তাই ব্যবহৃত বা অব্যবহৃত পোশাক, কাপড় বা চাদর ঝাড়া দয়ো যাবে না। ভাইরাসটি কাপড়ে ৩ ঘন্টা, তামা বা কাঠে ৪ ঘন্টা ধাতবে ৪২ ঘণ্টা এবং প্লাস্টকিে ৭২ ঘণ্টা র্পযন্ত বাঁচে।
৭. ভাইরাসটি সুস্থ এবং স্বাভাবকি ত্বকরে ভতিরে সরাসরি প্রবশে করতে পারে না।
৮. করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত হতে ভিনেগার র্কাযকর নয়। কারণ ভনিগোর প্রোটিন ধ্বংস করতে পারে না।
৯.করোনা ধ্বংস করে, লিস্টারিন নামের মাউথওয়াশ করোনা ধ্বংস করতে পারে। কারণ তাতে ৬৫% অ্যালকোহল থাক। যদিও বাজারের বেশিরভাগ মাউথওয়াশে তা থাকে না।
১০. বদ্ধ স্থানে ভাইরাসটির প্রকোপ বেশি। উন্মুক্ত এবং বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে কম।
১১.খাবার, দরজার লক, যে কোনো সুইচ, রিমোট কন্ট্রোল, ফোন, কম্পউিটার, টলেভিশিন জাতীয় জনিসি ধরার আগে ও পরে হাত ধোয়া জরুরি।
১২.বারে বারে ধোয়া হাত ভালোমতো শুকাতওে হবে। কারণ ত্বকরে যে কোনো ফাটলে ভাইরাস লুকয়িে থাকতে পারেৃ।
১৩. অনকেে ব্লিচিং পাউডাররে সাথে ডেটল বা স্যাভলন মিশিয়ে লিকুইড বানাচ্ছন। এটা উচতি নয়।
করােনাকালীন সময়ে ব্লিচিং পাউডার (ক্যালসযি়াম ক্লােরােহাইপােক্লােরাইট) সবচেয়ে পরচিতি এবং সহজলভ্য জীবানুনাশক।

এবার আসুন সতর্ক থাকবে কী করতে হবে

১. কাউকে শরীররে কাছে ঘেঁষতে দেবেন না।
২. আরো অন্ততঃ ৬ মাস সাবধান থাকুন।
৩. মাস্কের সাথে ফেসশিল্ড ব্যবহার করুন।
৪. পকেটে সবসময় স্যানটিাইজার রাখুন। প্রতি আধঘন্টা বা এক ঘন্টায় হাত ঘসুন।
৫. মােবাইলটি পলথিনিে রাখুন।
৬. হেডফোনে কথা নয়, কারণ এতে জীবাণু লেগে থাকতে পারে।
৭. স্পিকারমোডে কথা বলতে পারেন। কানে না লাগিয়ে।
৮. পাবলকি ট্রান্সপোর্ট এড়িয়ে চলুন।
৯. বাড়ির খাবার খান। বাইরের খাবার বাদ দিন। চেষ্টা করুন শুকনাে উচ্চ ক্যালরির খাবার যেমন বাদাম, শুকনাে ফল।
১০. খাবার বা পানি শেয়ার করবেন না।
১১. অপ্রয়ােজনীয় লােকসমাগম এড়িয়ে চলুন।
১২. বাইরে থেকে পাওয়া টাকা আলাদা পলিথিনে রাখুন। পারলে দুদিন পর ব্যবহার করুন।
১৩. যেখানে সেখানে হেলান দেওয়া বা কনুিই ভর দেবেন না।
১৪. ক্যাপ মাথায় দেওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। মেয়েরা ওড়না।
১৫. যথাসম্ভব কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করুন।
১৬. ঘড়ি, আংটি বা জুয়েলারি না পরাই ভালো।
১৭. পাবলকি ওয়াশরুম থেকে বিরত থাকুন।
১৮. মাস্ক প্রতিদিন বদলে ফেলুন। কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার ভালো, সেগুলো ধুয়ে ফেলা যায়।
১৯. তবে গ্লাভস না ব্যবহার করাই ভালো। এরচে বারবার হাত ধুয়ে ফেলতে পারেন। কেননা গ্লাভসে জীবানু লেগে থাকার আশঙ্কা থাকে।

এগুলো ছাড়াও কিছু বদল আনতে হবে নিজের মধ্যে-
১. কথায় কথায় মুখে আঙুল দেওয়া বাদ দিতে হবে।
২. কলমে মুখ কামড়াবেন না।
৩. আঙুলে জিহ্ববা লাগিয়ে কাগজ বা টাকা গুনবেন না।
৪. ধূমপান পরহিার করুন।
৫. ঠান্ডা এড়িয়ে চলু।
৬. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান।

এছাড়া শারীরকি ও মানসকিভাবে শক্তিশালী হতে হবে।
১. নিয়ম করে ঘুমাতে হবে। প্রতদিনি কম করে ৬-৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।
২. ব্যায়াম করতে হবে। অন্তত ১৫-৩০ মিনিট।
৩. রোদে যাবেন। ভিটামিন ডি খুবই প্রয়োজনীয়।

আর এমন খাবার খান যেগুলোতে ইমিউনিটি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এই যেমন-
১. ভাত কম খেয়ে তরকারি ও প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি খান।
২. প্রচুর পানি খান
৩. এন্টি অক্সডিন্টে যুক্ত খাবার খান। শাক সবজি ইত্যাদি।
৪. ভিটামিন সি বা টকযুক্ত ফল, কমলা, লেু বেশি বেশি খান। লেবু-গরম পানির মিশ্রন ভালো।
৫. ফাস্ট ফুড খাবেন না। চিনি ও লবন কম খান, এগুলোকে এমনি ‘সাদা বিষ’ বলে।
৬. মশলা দারুন কাজের জিনিষ। যেমন লং, লবঙ্গ, জিরা, হলুদ, দারুচিনিি ইমিউনিটি বাড়ায়। চায়ে মশলা মশিয়ে খেতে পারেন। গ্রীন টি দারুণ কাজের।
৭. খেতে পারেন কালিজিরাও।

তবে সবার আগে শক্ত করতে হবে মনকে। করোনার বিরুদ্ধে লড়তে এটাই সবচে বড় শক্তি। এজন্য হাসিখুশি থাকুন। আর ধর্মীয় র্প্রাথনায় মনোযোগি হন। ভালো লাগবে।

সম্পাদক, রাজবাড়ী বার্তা

(Visited 68 times, 1 visits today)